মনপুরা দ্বীপ

ভালো লেগেছে
4
ট্রিপ
৩ দিন
খরচ
২৫০০ টাকা

মনপুরা (Monpura Island) বাংলাদেশের ভোলা জেলার একটি বিছিন্ন দ্বীপ। দ্বীপের তিন দিকে মেঘনা নদী আর দক্ষিণে বঙ্গপোসাগর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ সাজে সজ্জিত এক লীলাভূমিও বটে। এখানে না গেলে বুঝতেই পারবেন না প্রকৃতির কি সৌন্দর্য অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। এই দ্বীপে বসেই আপনি দেখতে পারবেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। আরো আছে মনপুরা ল্যান্ডিং স্টেশন, হরিণের অভয়াশ্রম ও চৌধুরী প্রজেক্ট। এ দ্বীপের প্রধান যানবাহন হচ্ছে মোটরসাইকেল। মনপুরা দ্বীপটিকে নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে ‘মনপুরা’ নামের চলচ্চিত্র নিমির্ত হওয়ার পর থেকে এই দ্বীপটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।

মনপুরা ল্যান্ডিং স্টেশনটি নদীর ৫০০ মিটার ভেতরে তৈরি করা। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুধু পর্যটকরা না, স্থানীরাও সময় কাটাতে আসে এখানে। রাতে এখানে বসলে, মনে হবে আপনি মেঘনা নদীর গভীরে ভাসছেন। কারণ, তখন আপনার চারদিকে থাকবে পানি আর আপনি বসে থাকবেন পানির সামান্য উপরে। নদীর পানির স্রোত আর ঢেউয়ে মাঝে মাঝে স্টেশনটি কেঁপে উঠে, তখন মনে হবে এই বুঝি নদীতে ভেসে গেলাম। এটা এক অন্যরকম রোমাঞ্চকর অনুভূতি। দ্বীপে রয়েছে একটি হরিণের অভায়াশ্রম। জোয়ারের সময় হরিণগুলো প্রধান সড়কের কাছে চলে আসে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হরিণের পাল যখন রাস্তা পার হয় তখন তিন থেকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রেখে অপেক্ষা করতে হয়। আপনার ভাগ্যে থাকলে আপনিও দেখা পেয়ে যেতে পারেন হরিণের পালের।

দ্বীপে আরো আছে, চৌধুরী প্রজেক্ট। প্রজেক্টটি হচ্ছে একটি মাছের ঘের। এখানে আপনি দেখতে পাবেন বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত মাছ চাষের পুকুর ও লেক। লেকের পাড় জুড়ে সারি সারি লাইনে হাজারো নারিকেল গাছ। পাড়ের একপাশে লেক অন্য পাশে মেঘনা। বিকালের সময়টা খুবই চমৎকার কাটবে আপনার এখানে। যদিও ঘূর্ণিঝড় কোমেনের আঘাতে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রজেক্টটি। তবুও সৌন্দর্য হারায়নি চৌধুরী প্রজেক্ট।

সাইক্লিং এবং ক্যাম্পিং করার জন্য এই দ্বীপ একটি ভালো অপশন। কখনো সবুজের রাজ্য আবার কখনো উত্তাল মেঘনা নদী রাস্তার পাশে রেখে মনপুরা দ্বীপে সাইক্লিং করার ব্যাপারটা মনের জন্য বেশ আনন্দদায়ক।

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

শীতকাল মনপুরা ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়।

কি খাবেন

মনপুরা দ্বীপে শীতকালে হাসেঁর মাংস ভূনা খুবই জনপ্রিয়। এছাড়াও মহিষের দুধের দধি, ইলিশ, কোরাল, বোয়াল ও গলদা চিংড়ি বেশ পরিচিত। মেঘনা নদীর টাটকা ইলিশ ও মহিষের কাঁচা দুধ খুবই সুস্বাদু। বাবুল ভাইয়ের হোটেলে খেতে পারেন। খরচ পড়বে ৬০-৭০ টাকার মত।

মনপুরা যাওয়ার উপায়

মনপুরা বিছিন্ন দ্বীপ হওয়াতে যখন তখনই আপনি যেতে পারবেন না। এমভি ফারহান এবং তাশরীফ নামে দুটি বিলাশ বহুল লঞ্চ রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ১০ নাম্বার প্লাটুন থেকে প্রতিদিন হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। একটা বিকাল ৫ঃ৩০ মিনিটে এবং অন্যটা সন্ধ্যা ৬ টায় ছাড়ে ৷ এই লঞ্চ করে আপনি সকাল ৭ টার মধ্যে মনপুরা দ্বীপে পৌঁছতে পারবেন। যাত্রা পথে লঞ্চ থেকেও সূর্যোদয় দেখতে ভুলবেন না। সময় লাগবে ১২/১৩ ঘন্টা। লঞ্চের ডেক ভাড়া জনপ্রতি ৩০০-৩৫০ টাকা। মনপুরা ঘাট থেকে আপনি বাইকে করে হাজির বাজার চলে যেতে পারেন, ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা। আপনি চাইলে রিক্সা করেও যেতে পারেন। ওখানে থাকার হোটেল পাবেন।

আবার ফেরার পথে মনপুরা রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট থেকে দুপুর ২টায় লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

এছাড়া ঢাকা কিংবা বরিশাল থেকে ভোলা হয়ে তজুমদ্দিন ঘাটের সি-ট্রাকে মনপুরায় যাওয়া যায়। সি-ট্রাকটি তজুমদ্দিন থেকে ছাড়ে প্রতিদিন বিকাল ৩টায় আর মনপুরা থেকে ছাড়ে সকাল ১০টায়। অপরদিকে চরফ্যাশনের বেতুয়াঘাট থেকে মনপুরার জনতা বাজার রুটে দৈনিক দুটি লঞ্চ চলাচল করে। ওই রুট দিয়েও প্রতিদিন শত শত মানুষ মনপুরায় আসা-যাওয়া করছেন।

এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এ নদীপথটি ডেঞ্জার পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এই রুটে তখন লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্য মনপুরা দ্বীপে তিনটি (সরকারি ডাকবাংলো, প্রেসক্লাব বাংলো, কারিতাস বাংলো) ডাকবাংলো আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সরকারি ডাকবাংলোতে স্বল্প মূল্যে থাকতে পারবেন। বাকি গুলোতে গিয়েই থাকার ব্যবস্থা করতে পারবেন। ডাক বাংলোতে থাকতে খরচ পড়বে ২০০-৩০০ টাকার মত।

হাজির বাজারে আপনি বাজেট হোটেল পেয়ে যাবেন। সিঙ্গেল রুম ১০০ টাকা এবং ডাবল রুম ২০০ টাকা। সায়মা হোটেল নামে একটা হোটেল আছে যা পুলিশ ফাড়ির পাশে অবস্থিত। এছাড়া আরেকটু ভালো মানের খুঁজতে চাইলে আছে হানিফ হোটেল যা বাজারের একদম শেষ মাথায় অবস্থিত। এখানের সিঙ্গেল রুম ২০০ টাকা এবং ডাবল রুম ৩০০-৩৫০ টাকা ৷

×

পৃথিবীটা আমাদের এবং এর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দ্বায়িত্বও আমাদের। সুতরাং আসুন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে আমরা সবাই বিরত থাকি ও পরিবেশটা সুন্দর রাখি।

  • 81
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    81
    Shares
দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. মোটামুটি কম খরচে একটা শর্ট ব্রেকের জন্য অসাধারণ জায়গা মনপুরা দ্বীপ। এই দ্বীপে নিঝুম দ্বীপের মত হরিণ আছে অনেক আর কেউ সাইকেল নিয়ে পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখতে পারবেন যাতায়াত খরচ ছাড়া। এছাড়া নামমাত্র মূল্যে ইলিশের স্বাদ নিতে পারবেন। আমরা মাছ কিনতে গিয়েছিলাম কিন্ত নৌকার মালিকের সাথে পরিচয় হওয়ার পর উনি উপহারস্বরূপ একটা স্বাস্থ্যবান ইলিশ মাছ আমাদের দিয়ে দেয় 😁 চাইলে নৌকার মাঝিদের বলে তাদের সাথে রাতের বেলা বোটে করে মাছ শিকারে যেতে পারবেন।

    তবে মনে রাখবেন এইখানে ইলেকট্রিসিটি সবসময় থাকে না। সন্ধা ৬ টা থেকে রাত ২ টা পর্যন্ত ইলেকট্রিসিটি পাবেন।

    জায়গাটা শুধুমাত্র কোলাহলবিহীন কিছু মুহূর্ত কাটানোর জন্য আর মেন্টাল রিলাক্সেশন এর জন্য.. 😁 এই দ্বীপের মানুষ খুবই ভাল, যে কোন ব্যাপারে তাদের সাহায্য পাবেন।

  2. সব কিছুর দাম বেশ কম মনে হয়েছে আমার কাছে। আপনি চাইলে সকালের নাস্তা ২০ টাকায় সারতে পারবেন, আবার ইলিশ মাছ ৯০-১৫০ টাকায় পাবেন। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে মনপুরা ঘুরে দেখার জন্যে বাইক বেস্ট অপশন যদিও ভাড়া একটু বেশী। দ্বীপের শেষ মাথায় যেতে চাইলে ৪০০ টাকার বেশী হবে না যদিও আর হ্যাঁ, এক বাইকে ২ জন বসতে পারবেন।

  3. মনপুরা ল্যান্ডিং স্টেশন ভ্রমণপিপাসুদের মন রাঙিয়ে দেবে। মনপুরা দ্বীপ থেকে মেঘানার ৫০০ মিটার ভেতরে এটা নির্মিত। পর্যটক ও স্থানীয়দের মিলনস্থলে পরিণত হয় ল্যান্ডিং স্টেশনটি। রাতে এখানে বসলে, মনে হবে মেঘনা নদীর গভীরে ভাসছি। পানির ভয়ংকর শব্দে শুনে মনে হয় এই বুঝি রাক্ষুসি মেঘনা গিলে খাবে!

  4. বর্তমান মনপুরা একটি দ্বীপ উপজেলা ছাড়া আহামরি কিছুই নয়। আগে মনপুরা আসলে হরিন দেখা যেত, এখন সেটা বড় ভাগ্যের ব্যাপার আর মনপুরার অন্যতম আকর্ষন চৌধুরী প্রজেক্ট এখন নদী গর্ভে বিলীন। গুগল ম্যাপ এ ভিক্টোরিয়া পার্ক নামে একটা পার্ক দেখায় সেটা একটা দিঘি ছাড়া আর কিছুনা।

    তবে কেউ যদি চান একদম কম খরচে দুইটি শান্তিময় দিন কাটাতে তাহলে মনপুরার জুড়ি নেই, যাওয়া আসার পথের লঞ্চ জার্নিটা হতে পারে অন্যতম একটা ভাললাগার বিষয়, যাত্রাপথে শুধু সুর্যাস্ত বা সুর্যাদয় ই নয়, চাঁদনী রাতে গেলে চাদের উদয় হবার দৃশ্যও দেখতে পারবেন। চাঁদনি রাতে মেঘনার বুক চিরে এগিয়ে যাবার দৃশ্য সত্যি অপরূপ। পানির সাথে চাদের সমীকরণ কত যে মধুর তা এখানেই অনুভব করা যায়।

    মনপুরায় পাওয়া যাবে একদম খাটি গ্রামের অনুভূতি, আমার কাছে মনপুরায় সব থেকে ভাললাগছে এর রাস্তা গুলো, কখন ও মাঠের মাঝ দিয়ে, কখন ও নদীর পাশ দিয়ে চলে গেছে রাস্তাগুলো। এখানে ভাললাগার মত আর একটা জিনিস ল্যান্ডিং পয়েন্ট, আসলে একটা রাত না থাকলে আপনি ল্যান্ডিং পয়েন্ট এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন না। চাইলে দ্বীপ এর শেষ পর্যন্ত দেখে আসতে পারেন বাইক ভাড়া করে।

  5. মনপুরার উত্তর দিকে নদীর ধার ঘেষে বেশ দীর্ঘ মাঠ আছে, সবুজে ছাওয়া। ওখানে একবার বসলে উঠতে মন চাইবেনা। কিছুতেই সভ্যতার কাছে ফিরতে ইচ্ছে হবেনা।

  6. খোলা মাঠে হরিণ দেখতে চাইলে মনপুরা চলে যেতে পারেন। ছোট খাট কাঁটা বনের মধ্যে কাঁদায় হাঁটাহাঁটি করে কাঁটার আঘাত নিয়ে হরিণ দেখার অভিজ্ঞতাটা মনে রাখার মতো মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

  7. মোটামুটি পুরো বাংলাদেশেই ঘুরেছি। মিশেছি হাজারো রকমের মানুষের সাথে। হাজারো চরিত্রের সাথে এই ট্যুরে সেই ট্যুরে। কিন্তু মনপুরা দ্বীপের মত মাটির মানুষ দেশের আর কোথাও দেখা পাইনি। এত আন্তরিক মানুষ হতে পারে এটা আমার মত শহুরে মানুষের কল্পনাতীত।

  8. মনপুরা দ্বীপটা যেমন সুন্দর তেমনি এই দ্বীপের রাস্তা গুলাও অনেক অনেক সুন্দর এবং মসৃণ। মনপুরার মানুষগুলোও অনেক ভালো এবং আন্তরিক। সীমা হোটেল নামে একটা হোটেল আছে হাজীরহাট বাজারে ওদের খাবার যথেস্ট ভালো। ওদের ওখানে থাকারও ব্যাবস্থা আছে ভাড়া সিঙ্গেল ১৫০, ডাবল ২৫০।

    হাজীর হাট থেকে কিছুটা দক্ষিনে গেলে একটা বন আছে ওখানে হরিন দেখতে পাওয়া যায়। আরও কিছুটা দূর গেলে দ্বীপের দক্ষিন পাশের শেষ অংশে যাওয়া যায়। ওইখানে ডাবের দাম কিছুটা কম ১০-২০ টাকা করে। মহিষের দই ও পাওয়া যায় কিন্তু অনেক পরিমানে টক।