মোমো ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট (MOMO INN PARK & RESORT) বগুড়ার অতিথিদের জন্য বিলাসবহুল এবং আধুনিক এক আবাসনের নাম। বগুড়া জেলার একমাত্র পাঁচ তারকা মানের এই হোটেলটি আন্তর্জাতিক মানের অতিথি সেবা, সুন্দর সাজসজ্জা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি বগুড়ার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।
মোমো ইন-এর ২০৪টি সুসজ্জিত রুম এবং স্যুইট বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত, যা প্রতিটি অতিথির বাজেট এবং পছন্দ অনুযায়ী সাজানো। ডিলাক্স সিঙ্গেল থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার স্যুইট পর্যন্ত, প্রতিটি রুমেই রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং আরামদায়ক পরিবেশ।
শুধু থাকার জন্যই নয়, বিনোদনের জন্যও মোমো ইন-এর রয়েছে নানাবিধ আয়োজন। সুইমিং পুল, জেন্টস ও লেডিস পার্লার, রেস্টুরেন্ট, কনফারেন্স রুম, হেলিপ্যাড, স্পা – সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি সম্পূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র। এছাড়াও রয়েছে ওয়াটার পার্ক, ইকো ভিলেজ, বিভিন্ন রাইড, সিনেমা হল এবং বার। বুফে রেস্টুরেন্ট এবং কফি শপে উপভোগ করতে পারবেন সুস্বাদু খাবার।
মোমো ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট এর রুমের ধরণ এবং ভাড়া
- ডিলাক্স সিঙ্গেল: ৭,৮০০ টাকা
- সুপার ডিলাক্স সিঙ্গেল: ৯,০০০ টাকা
- ডিলাক্স টুইন/কাপল: ৯,৬০০ টাকা
- সুপার ডিলাক্স টুইন/কাপল: ১০,৮০০ টাকা
- জুনিয়র স্যুইট: ১৮,০০০ টাকা
- প্রিমিয়ার স্যুইট: ২২,৫৬০ টাকা
সুবিধাসমূহ
- তুলনামূলকভাবে কম খরচে ফাইভ-স্টার সুবিধা: মোমো ইন অন্যান্য পাঁচ তারকা হোটেলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে উন্নতমানের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে। এতে বিলাসবহুল রুম, সুইমিং পুল, স্পা, রেস্টুরেন্ট এবং অন্যান্য সুবিধা উপভোগ করা যায় একটি সুলভ মূল্যে।
- সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা: ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য প্রধান শহর থেকে মোমো ইন-এ পৌঁছানো বেশ সহজ। বাস, ট্রেন এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে সহজেই এখানে যাওয়া যায়।
- বিনোদনের ব্যবস্থা: মোমো ইন-এর নিজস্ব সিনেমা হল এবং বার রয়েছে, যা অতিথিদের বিনোদনের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে। এছাড়াও ওয়াটার পার্ক, ইকো ভিলেজ এবং বিভিন্ন রাইড-এর মত বিনোদন সুবিধা রয়েছে।
- বিভিন্ন ধরণের রুম: ডিলাক্স সিঙ্গেল থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার স্যুইট পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরির রুম উপলব্ধ, যা বিভিন্ন বাজেট এবং পছন্দের অতিথিদের জন্য উপযুক্ত।
অসুবিধাসমূহ
- প্রকৃতির ছোঁয়া তুলনামূলকভাবে কম: যদিও মোমো ইন একটি রিসোর্ট, তবুও এখানে প্রকৃতির ছোঁয়া অন্যান্য রিসোর্টের তুলনায় কিছুটা কম।
- অবকাশ যাপনের চেয়ে ব্যবসায়িক সফরের জন্য বেশি উপযোগী: মোমো ইন-এর সুযোগ-সুবিধা এবং পরিবেশ ব্যবসায়িক সফরের জন্য বেশি উপযোগী। পরিবার নিয়ে একান্তে অবকাশ যাপনের জন্য এটি সেরা পছন্দ নাও হতে পারে।
- দিনের বেলায় বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ থাকায় প্রাইভেসি কিছুটা ব্যাহত হয়: ওয়াটার পার্ক এবং অন্যান্য বিনোদন সুবিধার কারণে দিনের বেলায় বহিরাগত লোকজনের প্রবেশ থাকে, যা হোটেল অতিথিদের প্রাইভেসি কিছুটা ব্যাহত করতে পারে। এই কারণে শান্ত এবং একান্ত পরিবেশ প্রত্যাশী অতিথিদের জন্য এটি অসুবিধাজনক হতে পারে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে মোমো ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি সুবিধাজনক পথ রয়েছে। বাসে যেতে চাইলে, ঢাকার গাবতলী বা কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল থেকে বগুড়াগামী যেকোনো নন-স্টপ বাসে উঠতে পারেন। এই যাত্রা সাধারণত ৪-৫ ঘণ্টা সময় নেয়। বগুড়া শহরে পৌঁছানোর পর, স্থানীয় পরিবহন যেমন CNG অটোরিকশা, রিকশা বা ট্যাক্সি ব্যবহার করে সহজেই মোমো ইন-এ পৌঁছাতে পারবেন। বিভিন্ন বাস কোম্পানি যেমন এস আর ট্রাভেলস, শাবরী পরিবহন, এনাব পরিবহন বগুড়া রুটে নিয়মিত চলাচল করে।
ট্রেনে যাত্রা করতে চাইলে, ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বগুড়া গামী ইন্টারসিটি ট্রেন যেমন “দ্রুতযান এক্সপ্রেস”, “নীলসাগর এক্সপ্রেস” বা অন্যান্য ট্রেনে যাত্রা করতে পারেন। ট্রেন যাত্রা অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক এবং সময়সূচী মোতাবেক হওয়ার কারণে অনেকের কাছে প্রিয়। বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে রিসোর্টে যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি বা অটোরিকশা সহজেই পাওয়া যায়।
আপনার যদি ব্যক্তিগত গাড়ি থাকে, তাহলে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক ধরে সহজেই মোমো ইন-এ পৌঁছাতে পারবেন। এই রাস্তাটি ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং যাত্রাপথে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট এবং বিশ্রামাগার রয়েছে। ঢাকা থেকে বগুড়া পর্যন্ত গাড়িতে যাত্রার সময় প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা। গুগল ম্যাপ বা অন্যান্য নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহার করে সঠিক রুট এবং রিসোর্টের অবস্থান সহজেই নির্ধারণ করতে পারবেন।
যোগাযোগ
মম ইন পার্ক এন্ড রিসোর্ট
নওদাপাড়া, রংপুর রোড, বগুড়া
মোবাইলঃ 02589905523, 02589904473, 01755-669900
ই-মেইলঃ [email protected], [email protected]
Website | Facebook Page
বগুড়ায় বিলাসবহুল এবং আরামদায়ক থাকার জন্য মোমো ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট একটি আদর্শ পছন্দ। এখানকার আন্তর্জাতিক মানের সেবা এবং বিনোদনের ব্যবস্থা অতিথিদের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সকলের প্রতি অনুরোধ, এই বর্ষায় এডভেঞ্চার এর নেশায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকবেন। মনে রাখবেন, জীবন একটাই, আর একটা দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। তাই আমাদের সবার ভ্রমণ নিরাপদ হোক এটাই হোক আমাদের সকলের চাওয়া।