ঢাকার কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে, প্রকৃতির কোলে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে মুন্সিগঞ্জের এম জে হলিডে রিসোর্ট (M. J. Holiday Resort) হতে পারে আপনার আদর্শ গন্তব্য। ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত এই রিসোর্টটি প্রায় এক ঘন্টার মনোরম ভ্রমণের পর পৌঁছে দেবে এক অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশে।
রিসোর্টের গেট পার হলেই লাল পদ্মের সৌন্দর্য আপনাকে স্বাগত জানাবে। জল টলমলে পুকুর, পদ্ম পাতার মনোরম দৃশ্য আর শান বাঁধানো ঘাট মনকে প্রশান্ত করে তুলবে। বিকেলের নরম আলোয় একান্ত মুহূর্ত উপভোগ করার পর রাতের অন্ধকারে পুকুর থেকে ভেসে আসা শীতল বাতাস মনকে জুড়িয়ে দেবে। চারু নকশায় শিল্পিত রিসোর্ট ভবনটি দু’চোখ জুড়ানোর মতো। চমৎকার ইন্টেরিয়রের কফি শপে কফি আড্ডা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সকালের হালকা নাস্তার ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। প্রতি তলায় বিশাল রুম, রুচিশীল আসবাবপত্রে সুসজ্জিত থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কনফারেন্স কিংবা মিটিং আয়োজনের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
ভবনের সামনে চমৎকার ডিজাইনের একটি সুইমিং পুল রয়েছে। পুলের পাড়ে বিশ্রামের জন্য স্লিপিং চেয়ারে বসে উপভোগ করতে পারেন সুইমিং পুলের মনোরম দৃশ্য। এর অপর দিকে রয়েছে আর একটি বাংলো, যা অবকাশ যাপনের আর একটি সুব্যবস্থা প্রদান করে। দেশি-বিদেশী কবুতরের কলতান পরিবেশকে করে তোলে আরও মনোরম। রিসোর্টে থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলার ব্যবস্থাও রয়েছে। সব মিলিয়ে অবকাশ যাপন এবং পিকনিকের জন্য চমৎকার সব আয়োজন নিয়ে এম জে হলিডে রিসোর্ট অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।
এম জে হলিডে রিসোর্ট – রুমের মূল্য তালিকা
এম জে হলিডে রিসোর্ট আপনার মনকে দেবে প্রশান্তির স্পর্শ, প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
- স্ট্যান্ডার্ড রুম: ২,৫০০ টাকা/রাত্রি
- ডিলাক্স রুম: ৩,৫০০ টাকা/রাত্রি
- ফ্যামিলি সুইট: ৪,৫০০ টাকা/রাত্রি
- অতিরিক্ত বেড: ৫০০ টাকা
- প্রবেশ মূল্য: ১,৫০০ টাকা/ব্যক্তি (সারাদিন খাবারসহ)
এম জে হলিডে রিসোর্ট এর ডে আউট প্যাকেজ সমূহ
মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের নিকটবর্তী সিরাজদিখানের ইছাপুরায় অবস্থিত এম জে হলিডে রিসোর্ট, পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে অবকাশ যাপনের জন্য একটি উত্তম গন্তব্য। সুইমিং পুল, পার্ক, খেলার মাঠ সহ নানাবিধ বিনোদন সুবিধা এখানে বিদ্যমান। কর্পোরেট পিকনিক, বিবাহ অভ্যর্থনা, জন্মদিনের পার্টি সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। এছাড়া এদের এখানের খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু।
এম জে হলিডে রিসোর্ট তিনটি আকর্ষণীয় ডে আউট বা ডে লং প্যাকেজ অফার করে:
প্যাকেজ ১
- সময়: সকাল ১১:০০ থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০
- সুবিধা: ১ ঘণ্টা সুইমিং পুল, ২ ঘণ্টা খেলার মাঠ, ২ ঘণ্টা মাছ ধরা (complimentary)
- দুপুরের খাবার (২:০০ টায়): চিকেন কারি, মিক্সড ভেজিটেবল, ডাল, ৩ পদের ভর্তা, ভাত, সালাদ, মিনারেল ওয়াটার।
- মূল্য: ৬৫০ টাকা প্রতি ব্যক্তি + ১৫% VAT এবং ১০% সার্ভিস চার্জ।
প্যাকেজ ২
- সময়: সকাল ৮:০০ থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০
- সুবিধা: ১ ঘণ্টা সুইমিং পুল, ২ ঘণ্টা খেলার মাঠ, ২ ঘণ্টা মাছ ধরা (complimentary)
- সকালের নাস্তা (৮:৩০ টায়): ২ টি পরোটা, ডিম, মিক্সড সবজি, ডাল, কলা/কমলা, মিনারেল ওয়াটার, চা।
- দুপুরের খাবার (২:০০ টায়): পোলাও, চিকেন রোস্ট, বিফ রেজালা, মিক্সড সবজি, দই, মিনারেল ওয়াটার।
- বিকালের নাস্তা (৫:০০ টায়): সমুচা, চা, মিনারেল ওয়াটার।
- মূল্য: ১,৩৫০ টাকা প্রতি ব্যক্তি (কমপক্ষে ১০ জন) + ১৫% VAT এবং ১০% সার্ভিস চার্জ।
প্যাকেজ ৩
- সময়: সকাল ৮:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০
- সুবিধা: ১ ঘণ্টা সুইমিং পুল, ২ ঘণ্টা খেলার মাঠ, ২ ঘণ্টা মাছ ধরা (complimentary)
- সকালের নাস্তা (৮:৩০ টায়): ২ টি পরোটা, বয়েল/ভাজি ডিম, ডাল, কলা/কমলা, মিনারেল ওয়াটার, চা।
- দুপুরের খাবার (২:০০ টায়): চিকেন কারি (বয়লার), মিক্সড ভেজিটেবল, ডাল, ৩ পদের ভর্তা/শাক, ভাত, আচার/সালাদ, মিনারেল ওয়াটার।
- BBQ ডিনার (৫:৩০ টায়): ১ পিস চিকেন BBQ, ২ টি পরোটা, বুটের ডাল, সালাদ।
- মূল্য: ১,১৫০ টাকা প্রতি ব্যক্তি + ১৫% VAT এবং ১০% সার্ভিস চার্জ।
নোট - বাইরের খাবার ও পানীয় আনা নিষেধ।
যোগাযোগ তথ্য এবং অন্যান্য বিবরণ জন্য রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।
যোগাযোগ ও বুকিং
- ইছামতি রোড, ইছাপুরা, সিরাজদিখান, মুন্সিগঞ্জ।
- ফোন: ০১৯৩১৪১০০৭০, ০১৭১৫৮৪০৮০৮
- ইমেইল: [email protected]
- ওয়েবসাইট: https://mjholidayresort.com
যাওয়ার উপায়
এম জে হলিডে রিসোর্ট এর নিজেস্ব গাড়িতে করে সহজেই যেতে পরবেন। ঢাকা কলেজ ( ঢাকা কলেজের পূর্ব দিকে পেট্রল পাম্প) থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা , সকাল ১০টা , দুপুর ২টা ও বিকাল ৬টায় এম জে হলিডে রিসোর্ট এর নিজেস্ব গাড়ি ছেড়ে যায়।
আবার, এম জে হলিডে রিসোর্ট থেকে সকাল ৮টা, দুপুর ১২টা, বিকাল ৪টা ও রাত ৮টা ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।
আশেপাশের আকর্ষণ
এম জে হলিডে রিসোর্টের আশেপাশে রয়েছে অনেক ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থান। মাওয়া ফেরিঘাট, শত বছরের প্রাচীন ইদ্রাকপুর কেল্লা, রামপাল দীঘি, বাবা আদম মসজিদ এবং অতিস দীপঙ্করের জন্মস্থান বজ্রযোগিনী গ্রাম ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে। মাওয়া ফেরিঘাটের ছোট হোটেলগুলোতে পাবেন তাজা ইলিশ মাছের স্বাদ।
সকলের প্রতি অনুরোধ, এই বর্ষায় এডভেঞ্চার এর নেশায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকবেন। মনে রাখবেন, জীবন একটাই, আর একটা দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। তাই আমাদের সবার ভ্রমণ নিরাপদ হোক এটাই হোক আমাদের সকলের চাওয়া।