বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ

ভালো লেগেছে
0
Ratings
রেটিংস ( রিভিউ)

বীরশ্রেষ্ট সিপাহী হামিদুর রহমান (Hamidur Rahman) ১৯৫৩ ইংরেজী সনের ২ ফেব্রুয়ারী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জনাব আক্কাস আলী একজন দরিদ্র কৃষক এবং মা গৃহিনী কায়সুন্নেছা। বীর শ্রেষ্ট সিপাহী হামিদুর রহমান ১৯৭১ সনে আনসার বাহিনীতে অল্প সময়ের জন্য চাকুরী করেন এবং ২ ফেব্রুয়ারী ১৯৭১ খ্রি: তৎকালীন সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ১ ইষ্ট বেংগল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। সাহসী এ সৈনিক মাতৃভূমির স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন অপারেশনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন। ১৯৭১ সনের অক্টোবর মাসের শেষ দিকে মৌলভীবাজার জেলাস্থ কমলগঞ্জ উপজেলার চা বাগান বিস্তৃত ধলই সীমান্ত চৌকিতে হানাদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাহিনীকে পরাস্থ করার উদ্দেশ্যে সহযোদ্ধাসহ তিনি সশস্ত্র আক্রমন চালান। ধলই সীমান্তে শত্রু সেনা চৌকির সন্মুখ যুদ্ধে অমিত সাহসে চৌকির ৫০ গজের মধ্যে পৌছেঁ যান এবং বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে উক্ত সীমান্ত চৌকি ও সংলগ্ন এলাকা মুক্ত করেন এবং সেখানেই শত্রু সেনার বুলেট বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে এই বীর সেনানীর অবদানের স্বীকৃতি সরূপ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানকে প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর জেলাধীন আমবাসা গ্রামে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকাস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে গেলে আমাদের অনেকেই তালিকাতেই মাধবপুর লেক থাকে। মাধবপুর লেক থেকে একই রাস্তা ধরে আরোও ১০/১২ কিলোমিটার দক্ষিন দিকে ‘ধলই টি এস্টেট’ এর মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেলে ‘ধলই সীমান্ত’। এই ধলই সীমান্তের বিজিবি ক্যাম্পেই স্থাপন করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ (Memorial of Birshreshtho Hamidur Rahman).

বিজিবি ক্যাম্পে ঢোকার মুখেই হাতের ডান পাশেই দেখা যাবে এই দৃষ্টি নন্দন স্মৃতিসৌধটি। বিপরীত দিকে রয়েছে একটি সংগ্রহশালা, এতে উনার জীবনী আর বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। ক্যাম্পের পাশের পুকুরের পাড়ে একদম সীমান্তের ‘নো ম্যান্স ল্যান্ডে’ এর সাথে উনার শহীদ হওয়ার স্থানটি যথাযথ মর্যাদার সাথে চিহ্নিত করা আছে।

যাওয়ার উপায়

শ্রীমঙ্গল শহর থেকেে সিএনজি যোগে যেতে পারেন। যদি হাতে সময় কম থাকে তাহলে লাউয়াছড়া বন, মাধবপুর লেক আর ধলই সীমান্ত একদিনের একটা রুট বানিয়ে নিতে পারেন। লাউয়াছড়া বন দেখে ভানুগাছ বাজার হয়ে মাধবপুর লেক দর্শন করে ঐ রাস্তাতেই ধলই সীমান্ত। তবে ধলই চা বাগানের মধ্যদিয়ে ২/৩ কিলোমিটার রাস্তা কিছুটা খারাপ কিন্তু রাস্তার দুই পাশের চা বাগানের সৌন্দর্য্য আপানাকে এই খারাপ লাগা অনুভব করতে দেবে না। পারিপার্শ্বিক সুন্দর পরিবেশে বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়ালে গর্বে বুকটা ভরে যাবে।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending