মেধস মুনির আশ্রম

Ratings
রেটিংস ( রিভিউ)

প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিরিবিলি পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে যেতে পারেন – মেধস মুনির আশ্রম এ। চন্দ্রনাথ এর মত মেধস মুনির আশ্রমও পাহাড়ের উপর অবস্থিত হিন্দুদের একটি জনপ্রিয় তীর্থ। মার্কেন্ডয় পুরান, শ্রীশ্রীচণ্ডী বা দেবীমাহাত্ম্যম বা দেবীভাগবত পূরণে উল্লেখ রয়েছে ঋষি মেধসের এই আশ্রমের। মার্কেন্ড পুরান অনুযায়ী দেবী দুর্গা মর্তলোকে সর্ব প্রথম এই ঋষি মেধসের আশ্রমে অবতীর্ণ হন। শ্রীশ্রীচণ্ডী গ্রন্থে কথিত রয়েছে, রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি মহর্ষি মার্কেন্ডের কাছেই প্রথম দেবীমাহাত্ম্যম এর পাঠ নেন এবং এই স্থানে প্রথম দুর্গাপুজো করেন। এখানে মূল চন্ডী মন্দির ছাড়াও কামাখ্যা মন্দির,শিব মন্দির,কালী মন্দির, সীতা মন্দির আর সীতা পুকুর রয়েছে।

আশ্রম গেটের কিছুটা আগে রাস্তার বামে রয়েছে একটি পদ্মপুকুর,সাথে বিশ্রামাগার। চাইলেই এখানে বসে পদ্মপুকুরের সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও ফুল রয়েছে। যেমন – শিউলি, হাসনাহেনা, জবা, করবী, কৃষ্ঞচূড়া, কনকচূড়া, সেগুন, কলাগাছ সহ প্রভৃতি। প্রায় ৫০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় উঠার পর উপভোগ করতে পারবেন মনোমুগ্ধকর সব দৃশ্য। সারি সারি পাহাড়, পাহাড়ের মাঝে জুম চাষ, দূরে মেঘাচ্ছন্ন ঝাপসা প্রকৃতির দৃশ্য, ঠান্ডা হাওয়া – সব মিলিয়ে ভালো লাগা এক মূহুর্ত এখানে বসে কাটাতে পারবেন।

এই জায়গায় মানুষের আনাগোনা খুবই কম। নির্জন, নিরিবিলি, সুন্দর একটি জায়গা। তবে এটি নিরাপদ। এটা আহামরি কোন ট্যুর প্লেস না, আপনি যদি প্রকৃতির খুব কাছে থেকে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে চান, প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে নিজেকে সময় দিতে চান, নিরিবিলি- নির্জন পরিবেশে সময় কাটাতে চান – তাহলে এখানে আসতে পারেন। মন ভালো করার এক অদ্ভূত ক্ষমতা আছে এই জায়গাটার। পাহাড়ের চূড়ায় বসে আপনি এখানে সারাটাদিন কাটিয়ে দিতে পারেন সব মন ভূলানো দৃশ্য দেখে।

পাহাড়ে উঠার পুরো পথই সিড়ি, আবার কিছুটা রাস্তা। আশ্রমের মূল গেট থেকে সোজা উপরে গেলে প্রথমেই মেধস মুনির মন্দির। মন্দিরের একটু আগে ডান পাশে নেমে গেছে সীতার পুকুরের সিঁড়ি। পুকুরের সামনের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলে তারা মন্দির। এখানে বসে দূরে পাহাড়ের দৃশ্য দেখতে পারবেন। এই মন্দিরের পেছনের রাস্তা দিয়ে শিবমন্দির। শিবমন্দির এর নিচে সিঁড়ি দিয়ে কামাখ্যা মন্দির। এখানে বসার সিট আছে যেখানে বসে আপনি ঠান্ডা হাওয়া আর দূরের সব সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন। সেখান থেকে সিঁড়ি দিয়ে চলে গেছে মূল মেধস মুনির মন্দির। এর সিড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় কালি মন্দির পড়বে।

কিভাবে যাবেন

বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে লোকাল গাড়িতে কানুনগোপাড়া পর্যন্ত যেতে পারেন জনপ্রতি ২৫ টাকা করে,সেখানে নেমে সিএনজি ভাড়া করতে পারেন আশ্রম পর্যন্ত ১২০-১৫০ টাকা নিবে। এছাড়াও শহর থেকেই সরাসরি গাড়ি রিজার্ভ করেও যেতে পারেন চাইলে।

খাওয়া-দাওয়া

দুপুরে মন্দিরে খাবারের ব্যাবস্থা থাকে, ৭০/৮০ টাকা করে টিকেট কেটে খাবারের জন্য অর্ডার দিয়ে রাখতে হয়।

কন্টেন্ট সহযোগিতায়ঃ আদনান ইভান আশরাফ

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

View Direction

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending