কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি
kirtipasha-zamindar-bari-02
kirtipasha-zamindar-bari-03
kirtipasha-zamindar-bari-04
kirtipasha-zamindar-bari-05

কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি

০
জন
ধরন পোস্ট
অবস্থান ঝালকাঠি
পড়ার সময় ২ মিনিটস

কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি (Kirtipasha Zamindar Bari), ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত প্রাচীনতম জনপদের একটি নিদর্শন। কালের সাক্ষী এ পুরাকীর্তিটি এখন বিলীনের পথে। প্রয়োজনীয় সংস্কার, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে বাড়িটি হতে পারে দেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বিক্রমপুর পোরাগাছার রাজারাম সেনগুপ্ত কীর্তিপাশায় আসেন। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে তিনি জলাশয় ও বনভূমির তালুক দুই ছেলে কৃষ্ণ কুমার সেনগুপ্ত ও দেবীচরণ সেনগুপ্তের জন্য পূর্ব ও পশ্চিম বাড়ি নামে পত্তন করেন। পরে এগুলো ১০ আনা বড় হিস্যা ও ছয় আনা ছোট হিস্যা জমিদার বাড়িতে রূপান্তরিত হয়। কালের বিবর্তনে ছোট হিস্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বড় হিস্যার অতীত হারিয়ে গেলেও সেখানে কমলীকান্দার নবীন চন্দ্র নামে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করায় কিছু ঐতিহ্য এখনও রয়েছে। সংরক্ষণ আর সংস্কারের অভাবে বড় হিস্যার নাটমন্দির, হলঘর, ছোট-বড় মন্দির ও জমিদারদের শান বাঁধানো পুকুর ধ্বংসের পথে রয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, প্রায় দেড়শ’ বছর আগে কীর্তিপাশা জমিদারপুত্র রাজকুমারকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়। স্ত্রী নিজেকে সতী প্রমাণ করতে স্বামীর সঙ্গে জ্বলন্ত শ্মশানে সহমরণে যান। স্বামীভক্তির নিদর্শন সহমরণ সমাধিটি এখন ধ্বংসের পথে। রাজা কীর্তি নারায়ণের নাম অনুসারে এলাকাটির নাম হয় কীর্তিপাশা। রামজীবন সেন কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। এ বংশের সন্তান রোহিনী রায় চৌধুরী ও তপন রায় চৌধুরী দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। গাবখান নদীর তীরে স্টিমারঘাট রোহিনীগঞ্জ রোহিনী রায় চৌধুরীর অবদান। কীর্তিপাশায় যে হাসপাতাল আছে তা জেলা সদর হাসপাতালের চেয়েও পুরনো। মূল জমিদার বাড়ি এবং দুর্গামন্দির এখন পরিত্যক্ত হয়ে আগাছায় পূর্ণ হয়ে আছে। নাট্যশালার চিহ্ন এখনও রয়েছে। মঞ্চের গ্রিনরুম এবং হলরুমে পুনর্বাসিত হয়েছে বালিকা বিদ্যালয়। রোহিনী রায় চৌধুরীর সমাধিটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। পারিবারিক শিবমন্দির এবং একটি শিবমূর্তি আছে এখনও। প্রতি ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনেক পর্যটক এ জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখতে আসেন। কীর্তিপাশা জমিদারদের কীর্তিগুলো প্রায় বিলুপ্ত। ২০০৪ সালে স্থানীয় সুশীলসমাজ এবং জেলা প্রশাসনের প্রচেষ্টায় জমিদারদের কিছু ঐতিহ্যের নিদর্শন নিয়ে কীর্তিপাশা জাদুঘর স্থাপন করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এ জাদুঘর এখন গরু-ছাগলের বিচরণ ক্ষেত্র।

কিভাবে যাবেন

ঝালকাঠি থেকে অটো বা মটরবাইক অথবা অন্য যে কোন যানবাহনে করে কীর্তিপাশা যাওয়া যায়। ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস মোড় হতে ১৫/২০ মিনিটেই অটোরিক্সা করে কীর্তিপাশা বাজার পৌছানো যায়। বাজার থেকে ২/৩ মিনিট পায়ে হেটে কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি।

কোথায় থাকবেন

কালিবাড়ি রোডে ধানসিঁড়ি রেস্ট হাউস আছে। সিঙ্গেল রুম ভাড়া ২৫০ টাকা।

গন্তব্য

Kirtipasha Bazar Road, Kirtipasha Union, বাংলাদেশ

পথ ও দিকনির্দেশ দেখতে ম্যাপ খুলুন।

গুগল ম্যাপে দেখুন

ADAR BEPARI / TRAVEL WEAR

ভ্রমণের গল্প থাকুক পোশাকেও।

সব টি-শার্ট দেখুন