সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি

ভালো লেগেছে
1

বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর-পিরোজপুর মহাসড়কের বেকুটিয়া ফেরিঘাটের কাছাকাছি অবস্থিত সাতুরিয়া গ্রামে সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি এর অবস্থান। এটি সাতুরিয়ার জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও ইসলামি সাধু পুরুষ শেখ শাহাবুদ্দিনের প্রতিষ্ঠিত বাড়ি। প্রায় সাড়ে ৩শ’ বছর আগে এ বাড়িটি নির্মিত হয়। প্রায় একশ’ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত জমিদার বাড়িতে রয়েছে অনেকগুলো পুকুর, ফুলের বাগান, তিনটি পুরনো কারুকার্যখচিত মুঘল আদলের তৈরি দালান, প্রধান ফটক বা সদর দরজা।

দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর গ্রামটি ক্ষণজন্মা এক মহাপুরুষের জন্মের মধ্য দিয়ে ধন্য হয়ে আছে। সাতুরিয়া জমিদার বাড়িতে ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন বাংলার বাঘ হিসেবে খ্যাত শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক। এটি ছিল ফজলুল হকের মায়ের বাড়ি। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক (Sher-e-Bangla AK Fazlul Huq) এর বাবার বাড়ি বরিশাল (Barisal) এর চাখার হলেও শৈশবের মধুর সময়গুলো মা সৈয়দুন্নেসার সাথে মামাবাড়ি সাতুরিয়ায় (Saturia Jamindar Palace) কেটেছে। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয়েছে জমিদার বাড়ির মক্তবে। শুধু শৈশব নয়, তাঁর রাজনৈতিক জীবন এবং কর্মজীবনের বহু মূল্যবান সময় তিনি সাতুরিয়া জমিদার বাড়িতে কাটিয়েছেন।

যাওয়ার উপায়

ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চ বা স্টিমারে রাজাপুর ঘাটে নেমে যেকোনে পরিবহনে জমিদার বাড়ি যাওয়া যায়। এছাড়া সায়দাবাদ এবং গাবতলী থেকেও বাসে চড়ে রাজাপুর নেমে যেকোন পরিবহনে সাতুরিয়া যেতে পারেন।

ঢাকার সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ছয়টায় বিআইডব্লিউটিএ’র রকেট-স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’, ‘পিএস অস্ট্রিচ’, ‘পিএস লেপচা’ ও ‘পিএস টার্ন’ ছাড়ে। সপ্তাহের দিনগুলোতে পালাক্রমে ছাড়ে স্টিমারগুলো। ভাড়া প্রথম শ্রেণির কেবিনে জনপ্রতি ১ হাজার ২শ’ ৫০ টাকা। দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিনে জনপ্রতি ৭৬০ টাকা। তৃতীয় শ্রেণির ডেকে জনপ্রতি ১৯০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যায় আবার ঝালকাঠী (Jhalokati) ফিরে আসতে পারেন। থাকতে চাইলে জেলা শহরের সাধারণ মানের হোটেলই একমাত্র ভরসা। এ শহরের দু’একটি হোটেল হল কালিবাড়ি রোডে ‘ধানসিঁড়ি রেস্ট হাউস’, বাতাসা পট্টিতে ‘আরাফাত বোর্ডিং’, সদর রোডে ‘হালিমা বোর্ডিং’ ইত্যাদি। ভাড়া ১শ’ থেকে ২৫০ টাকা।

তবে ভালো কোনো হোটেলে থাকতে চাইলে যেতে হবে বরিশাল সদরে। ঝালকাঠী থেকে যার দূরত্ব প্রায় বিশ কিলোমিটার।

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।