হরিপুর জমিদার বাড়ি

ভালো লেগেছে
1
Ratings
রেটিংস ( রিভিউ)

হরিপুর জমিদার (Haripur Zamindar Bari) বাড়িটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর গ্রামে তিতাস নদীর পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত। এখানেই হয়েছিলো ঘেটুপুত্র কমলার শুটিং হয়েছিল। বাড়িটিকে কেউ বলে রাজবাড়ি, বড়বাড়ি আবার কেউ বলে জমিদার বাড়ি। নাসিরনগর থেকে মাধবপুর যাওয়ার পথে উপজেলার শেষ সীমান্তে হরিপুর গ্রামের রাস্তার পশ্চিম পাশে তিতাস নদীর পাড়ে চোখে পড়ার মতো দুই গম্বুজের তিনতলা সুবিশাল বাড়িটি। বাড়িটির পূর্ব পাশে নাসিরনগর-মাধবপুর সড়ক। বাকি দিকে তিতাস নদীর ফাঁকা জায়গা। অনেক বড় বারান্দা ডিঙিয়ে মূল বাড়ি। দোতলা রাজবাড়িটি বিশাল। রাজবাড়ির সামনেই দিগন্ত বিস্তৃত হাওর। বিশাল বাঁধানো ঘাট।

প্রায় ৪৮০ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত তিনতলা জমিদার বাড়িটিতে প্রায় ৬০টি কক্ষ, রং মহল, দরবার হল, ধানের গোলা, গোয়ালঘর, রান্নার ঘর, নাচ ঘর, মল পুকুর, খেলার মাঠ, মন্দির ও সীমানা প্রাচীর রয়েছে। বিশাল আয়তনের বাড়িটির পুরো ভবনের কোথাও কোনো রডের গাঁথুনি নেই। লাল ইট সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি ভবনের দু’পাশে দুটি সুউচ্চ গম্বুজ সগর্বে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করছে, জমিদার বংশের ঐতিহ্যের কথা। দু’তলায় উঠার ছয় দিকে ছয়টি সিঁড়ি ও তিন তলায় উঠার দু’দিকে দুটি সিঁড়ি রয়েছে। বাড়তি পশ্চিম-উত্তর কোণে ছয়টি বেড রুম এবং মূল পুকুরের পূর্বপাড়ে চারটি ও পশ্চিম পাড়ে চারটি বেড রুম রয়েছে। বাড়ির পশ্চিম দিকে তিতাস নদীর পাড়ে পাকা ঘাটলার উত্তর দিকে কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী ও দক্ষিণ দিকে গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরীর সমাধি মঠ রয়েছে।

প্রায় ১৭৫ বছর পূর্বে জমিদার গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরী ও কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী বাড়িটি নিমার্ণ করেন। বৃটিশ আমলে নির্মিত বাড়িটির নিমার্ণ শৈলী দারুন। ১৩৪৩ বাংলার ১২ চৈত্র (দোল পূর্নিমা) তারিখে কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরীর মূত্যুর পর পর্যায়ক্রমে বাড়িটির উত্তরাধিকার হন হরিপদ রায় চৌধুরী ও শান্তি রায় চৌধুরী। তাদের কাছ থেকে বাড়ির মালিকানা ও জমিদারি আসে উপেন্দ্র রায় চৌধুরী ও হরেন্দ্র রায় চৌধুরী। কালক্রমে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্ত হওযার পর জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হলে তারা বাড়িটি ফেলে কলকাতায় চলে যান। জমিদাররা বাড়িটি ফেলে যাওয়ার সময় পুরোহিতদের রেখে যায়। এখনও জরাজীর্ণ জমিদার বাড়িতে পুরোহিতদের বংশধরেরা বসবাস করছে।

ঘেটুপুত্র কমলা ছাড়াও এ রাজবাড়িতে অতীতে শাকুর মজিদের নাইওরী ও নারায়ণ চন্দ্র ঘোষের মধুমালতীর শুটিং হয়েছিলো।

যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে সিলেটের যেকোনো বাসে করে মাধবপুর উপজেলায় নেমে যাবেন। মাধবপুর নেমে কাউকে জিজ্ঞেস করবেন হরিপুর যাবার সিএনজিচালিত অটোরিকশা কোন দিকে? আপনাকে দেখিয়ে দিবে। অটোতে উঠে বলবেন হরিপুর রাজবাড়ীর সামনে নামব।

যদি ট্রেনে যেতে চান তাহলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন যায়। নয়াপাড়ার টিকেট কাটবেন এবং নয়াপাড়া পোঁছে যাবেন সকাল ১০টার ভিতর। নয়াপাড়া থেকে অটোরিকশা নিয়ে যেতে পারেন হরিপুর জমিদার বাড়িতে রিজার্ভ করে। না হয় প্রথম মাধবপুর আসবেন তারপর হরিপুর।

ঢাকা ফেরার জন্য আবার নয়াপাড়া যেতে পারেন। ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে। সেটা দিয়েই চলে আসুন ঢাকায়। আর যদি হাতে সময় থাকে তাহলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ঘুরে আসতে পারেন।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares
দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending