friendship-center-gaibandha-03
friendship-center-gaibandha-05
friendship-center-gaibandha-01
friendship-center-gaibandha-04

ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার

জন
Type পোস্ট
Reading Time ৩ মিনিটস

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার (Friendship Center) অবস্থিত। মাটির নিচে নির্মিত এ ভবন উপর থেকে দেখতে অনেকটা প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের মতো। এর নির্মাণ শৈলীর অনুপ্রেরণাও প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার মহাস্থানগড় থেকে পাওয়া। ভবনের ছাদ আর ভূপৃষ্ঠ একই লেভেলে, তাই দূর থেকে ভবনটি দেখা যায় না। ছাদে সবুজ ঘাসের আচ্ছাদন- ছাদ ও গ্রাউন্ডের নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করেছে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়া গ্রামে ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার নামক এই ভবনের প্রতি মানুষের ভালোলাগার পিছনে এর নির্মাণ শৈলী প্রধান কারন। গাইবান্ধা-বালাসী সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই ভবনের আয়তন ৩২ হাজার বর্গফুট। স্থানীয়ভাবে তৈরি ইটের গাঁথুনি দিয়ে নির্মিত ভবনটি দেখতে প্রতিদিনই কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে।

এ স্থাপনাটি ২০১৪-১৬ সালের শ্রেষ্ঠ স্থাপনা হিসেবে ‘আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার’ পুরস্কারের জন্য বিশ্বব্যাপী চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া ১৯টি স্থাপত্যের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়। যে কোনো স্থপতির আরধ্য এ পুরস্কারের জন্য কাসেফ মাহবুব চৌধুরী এবারই প্রথম নির্বাচিত হননি। এখন পর্যন্ত পুরস্কার না পেলেও তিন বার এ পুরস্কারের শর্ট লিস্টে তিনি দাপটের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন। পুরস্কার পাওয়া হয়তো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে এবং এই ভবন নির্মাণে খরচ হয়েছে আনুমানিক আট কোটি টাকা। ভবনের জন্য নির্ধারিত জমি খুবই নিচু হওয়াই পানি আটকাতে চারিদিকে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। বাঁধের কারণে মাটি ভরাট করতে হয়নি। ভবন নির্মাণ হয়েছে সাশ্রয়ী। প্রশিক্ষণ সেন্টার হওয়ায় প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নিরিবিলি ও শান্ত একটি পরিবেশ তৈরি এবং পর্যাপ্ত আলো আর বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভবনের ছাদে সবুজ ঘাসে ঢাকা ও কক্ষগুলো মাটির নিচে থাকায় প্রাকৃতিকভাবেই অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা থাকে। চারপাশের কক্ষগুলো ছাড়া অন্য ঘরের প্রাকৃতিক আলোর উৎস স্কাই লাইট। ভেন্টিলেসন ব্যবস্থাও প্রাকৃতিক। প্রতিটি ব্লকের উচ্চতা সমান, পুরো বিল্ডিংয়ে লাইট কোর্ট ও উন্মুক্ত চাতাল আলো-ছায়ার দারুণ সমাহার তৈরি করে। ভবন এলাকায় ৫টি ওয়াটার পুল আছে। পুরো ভবনে অভিন্ন ইট আর সিমেন্টের গাঁথুনি প্লাস্টার ব্যবহার হয়নি। ছাদে যাতে কোনো পানি জমে না থাকে সে জন্য পুরো ছাদজুড়ে চমৎকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কিছু কিছু স্থানে খুব যত্ন সহকারে ড্রেনকে দৃষ্টির আড়াল করা হয়েছে।

পুরো সেন্টারে দুটি ব্লক। বহিঃকার্যক্রমের জন্য ‘ক’ ব্লক, অফিস, ট্রেইনিং সেন্টার, লাইব্রেরি এবং আন্তঃকার্যক্রমের জন্য ‘খ’ ব্লক মূলত আবাসন। রুমের অবস্থান ও কার্যক্রম অনুসারে পুরো নির্মাণ এলাকা ২৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন- লাইব্রেরি, এডমিন রুম, রিসেপসন, পার্কিং ইত্যাদি।

ইন্টেরিওর ও ফার্নিচার ডিজাইন ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আরবানা এটি তৈরি করে। তাই স্থাপনার সাথে ইন্টেরিওর ও ফার্নিচারের চমৎকার ধারাবাহিকতা আছে।

স্থপতি

কাসেফ মাহবুব চৌধুরী। আরবানা এর কর্ণাধার।

যাওয়ার উপায়

ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়া গ্রামে অবস্থিত। গাইবান্ধা-বালাসী সড়ক দিয়ে যেতে হয়। গাইবান্ধা থেকে অটো বা সিএনজিচালিত রিকশায় ১০-১৫ টাকা খরচ পড়ে। এছাড়া রিক্সায় আসলে ৩০ টাকা ভাড়া নিবে। যেহেতু এটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের অফিস তাই অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা কঠিন।

গন্তব্য

Friendship Center, Gaibandha, Bangladesh

পথ ও দিকনির্দেশ দেখতে ম্যাপ খুলুন।

গুগল ম্যাপে দেখুন