ঢাকা গেট

জন
৩ মিনিটস
জন

ঢাকা গেট (Dhaka Gate) যা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্ত্বর এলাকায় অবস্থিত একটি মুঘল স্থাপত্য নিদর্শন। ঢাকার গেটের ঐতিহাসিক নাম কিন্তু মীর জুমলার গেট কারন ঢাকার সীমানা নির্ধারণ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে তিনিই ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালে এই গেট নির্মাণ করেছিলেন। মুঘল আমলে বুড়িগঙ্গা নদী হয়ে ঢাকায় ঢোকার প্রবেশমুখ ছিল এই ঢাকা গেট। তৎকালীন সময়ে এটি মীর জুমলার গেট নামেই পরিচিত ছিল। পরে কখনো ময়মনসিংহ গেট, কখনো ঢাকা গেট, কখনো রমনা গেট নামে পরিচিতি পায়। এই গেটটি রমনায় প্রবেশ করার জন্য ব্যবহার করা হতো বলে পরে সাধারণ মানুষের কাছে এটি রমনা গেট নামেই পরিচিতি পায়। তবে বাংলাদেশ সরকারের গেজেট অনুসারে এ তোরণ এবং আশপাশের জায়গার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মীর জুমলার গেট’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কার্জন হল ছাড়িয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির পথে নজরে পড়বে হলুদ রঙের মীর জুমলার গেট বা তোরণ। এ গেটের তিনটি অংশের মধ্যে একটি রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবায়নযোগ্য শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের দিকে, মাঝখানের অংশ পড়েছে রোড ডিভাইডারের মাঝে এবং অপর অংশটি রয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যা তিন নেতার সমাধিসৌধের পাশে।

মুগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে বাংলার সুবেদার হিসেবে পাঠানো হয় মীর জুমলাকে। ঢাকাকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে তিনিই এই গেট নির্মাণ করেন। প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ইঞ্চি ব্যাসার্ধ এ ধরনের স্তম্ভ খুবই বিরল। যার ওপরে রয়েছে কারুকাজ করা চারকোনা বিশিষ্ট একটি শেড। পশ্চিম পাশের বড় স্তম্ভের পাশেই রয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট আরেকটি স্তম্ভ। যার মাঝে টানা অবস্থায় রয়েছে একটি দেয়াল। উঁচু থেকে নিচুতে নামা এ দেয়ালটি প্রায় ২০ ইঞ্চি চওড়া। কিন্তু পূর্ব পাশের বড় স্তম্ভের সঙ্গে দেয়াল বা প্রাচীর থাকলেও নেই ছোট স্তম্ভ। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮২৫ সালে চার্লস ডয়’স ঢাকা গেটের একবার সংস্কার করেছিলেন। ২০২৩ সালে এটীকে পুনরাআয় সংস্কার করে ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি এটিকে আবার দর্শনার্থীদের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

৪০০ বছরের পুরোনো ঢাকা শহরে নানা স্থাপনার মধ্যে ‘ঢাকা গেট’ ও এই শহরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বহন করবে। পর্যটক বা ভিনদেশিরা বা শহরের মানুষ ও নতুন প্রজন্ম যখন শহরে প্রবেশ করে তখন তারা ওই শহরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে চায় এবং এই ঢাকা ফটক তার কিছুটা হলেও তৃষ্ণা মেটাবে।