দারাসবাড়ি মসজিদ

0

দারাসবাড়ি মসজিদ (Darashbari Masjid) চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর সোনা মসজিদ এবং কোতয়ালি দরগার মধ্যবর্তী অমপুর নামক স্থানের নিকটে অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দারা এই স্থানটিকে দারাসবাড়ি নামে চেনে। মসজিদটির ভেতরের আয়তক্ষেত্র দুই ভাগে বিভক্ত এবং এর মূল গম্বুজটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। দারাসবাড়ি মসজিদের দৈর্ঘ্য ৯৯ ফুট ৫ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি এবং মসজিদের পূর্ব দিকে ১০ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা একটি বারান্দা রয়েছে। মসজিদে মোট ৯টি কারুকার্যময় মেহরাব রয়েছে। আর মসজিদটির উত্তর দিকে রয়েছে প্রায় ৬০ বিঘা আয়তনের একটি বিশাল দিঘী। ঐতিহাসিক দারাসবাড়ি মসজিদ থেকে প্রাপ্ত তোগরা অক্ষরে উৎকীর্ণ ইউসুফি শাহী লিপিটি বর্তমানে কলকাতা জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

দারাসবাড়ি মসজিদ এর ইতিহাস

ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের সময় মুনশী এলাহী বখশ কর্তৃক আবিস্কৃত একটি আরবী শিলালিপি অনুযায়ী (লিপি-দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি, প্রস্থ ২ফুট ১ ইঞ্চি) ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে (হিজরী ৮৮৪) সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে তাঁরই আদেশক্রমে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। শুরুতে মসজিদটির নাম ছিল ফিরোজপুর মসজিদ কিন্তু ১৫০৪ সালে দারাসবাড়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর মানুষের মুখে মুখে দারাসবাড়ি মসজিদ নামটি পরিচিত হয়ে উঠে। টেরাকোটা ইট দিয়ে তৈরি দারাসবাড়ি মসজিদটির সাথে ভারতের চামচিকা মসজিদের অনেক সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

দারাসবাড়ি মসজিদ যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে বিভিন্নভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে বাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যেতে চাইলে রাজশাহী হয়ে কিংবা সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়া যায়। তবে, ঢাকা থেকে ট্রেন কিংবা বিমানে করে যেতে চাইলে আপনাকে আগে রাজশাহী এসে তারপর চাঁপাইনবাবগঞ্জ যেতে হবে। ঢাকার কল্যানপুর ও গাবতলী থেকে বিভিন্ন বাস যেমনঃ হানিফ এন্টারপ্রাইজ, মডার্ন এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন প্রভৃতি রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যায়। এসি বাস ৮০০-১০০০ টাকা ও নন-এসি বাস ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌছে এখান থেকে বিভিন্ন জেলা ও শহরে যাওয়ার বাস পাবেন। মূলত এখান থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যই মূলত তিন ধরনের বাস ছেড়ে যায়, যেসব হলঃ গেইট লক, সরাসরি ও লোকাল সার্ভিস। এখান থেকে অন্যান্য রুটে চলাচলকারী বাস সার্ভিসগুলোর মধ্যে আছেঃ নবাবগঞ্জ-শিবগঞ্জ, নবাবগঞ্জ-নওগাঁ, নবাবগঞ্জ-নাচোল, নবাবগঞ্জ-রহানপুর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে সিএনজি, অটোরিকশা বা বাসে করে সরাসরি ছোট সোনা মসজিদ এর নিকট অবস্থিত দারাসবাড়ি মসজিদ যেতে পারবেন।

এছাড়া রাজশাহী থেকে প্রতিদিন এক ঘণ্টা পর পর সোনা মসজিদের দিকে বাস চলাচল করে। এছাড়া কানসাট পৌছে রিক্সা করে মসজিদে যাওয়া যাবে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রবিবার ব্যতীত সপ্তাহের ৬ দিন দুপুর ২ টা ৪০ মিনিটে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া, পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেন মঙ্গলবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ১১ টা ১০ মিনিটে রাজশাহীর জন্য ঢাকা ত্যাগ করে। এসব ট্রেনে শ্রেণিভেদে ভাড়া বিভিন্ন, শোভন চেয়ার ৩৫০ টাকা, স্নিগ্ধা ৬০৪ টাকা, এসি সিট ৭২৫ টাকা এবং এসি বার্থ ১,০৮১ টাকা।

ঢাকা থেকে বিমানে যেতে চাইলে

ঢাকা থেকে বিমানে যেতে চাইলে প্রথমে আপনাকে বিমানে সরাসরি রাজশাহী যেতে হবে। বিমান ভাড়া পড়বে ২৫০০ থেকে ৮০০০ টাকা। ঢাকা রাজশাহী রুটে যেসব বিমান সংস্থা সার্ভিস দিয়ে থাকে তারা হলঃ

কোথায় থাকবেন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে থাকার খুব ভালো হোটেল নেই, তবে একটি 3 Star মানের হোটেল গড়ে উঠেছে (স্কাই ভিউ ইন – 01955668899)। এছাড়া এখান থেকে রাজশাহী যাওয়া যায় অনেক দ্রুত তাই তাই পরিবার নিয়ে এলে রাজশাহীতে চলে যেতে পারেন। রাজশাহীতে থাকার জন্য যেমন সরকারি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভালো মানের অনেক হোটেলও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে থাকার জন্য মোটামুটি মানের কিছু হোটেল আছে। এর মধ্যে হোটেল স্বপ্নপুরী (০৭৮১-৫৬২৫০), হোটেল আল নাহিদ (০১৭১৩-৩৭৬৯০২) ইত্যাদি অন্যতম। ভাড়া পড়বে প্রতি রাত আনুমানিক ২০০ থেকে ১০০০ টাকা।

×

যেখানে সেখানে পলিথিন, প্লাস্টিক ফেলবেন না। প্রকৃতিকে নিজের মত থাকতে দিন।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।