চন্দ্রনাথ পাহাড়, সীতাকুণ্ড

Ratings
রেটিংস ৪.৮৮ ( রিভিউ)

সীতাকুণ্ড অপরূপ প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের লীলাভূমি। এ এলাকা শুধু হিন্দুদের বড় তীর্থস্থানই নয় খুব ভাল ভ্রমনের স্থানও বটে। সীতাকুণ্ডের পূর্বদিকে চন্দ্রনাথ পাহাড় আর পশ্চিমে সুবিশাল সমুদ্র।

সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৪কি.মি. পূর্বে চন্দ্রনাথ পাহাড় (Chandranath Hill) অবস্থিত। আপনি পায়ে হেঁটে অথবা রিক্সায় চড়ে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যেতে পারেন। কিন্তু পায়ে হেঁ‌টে ভ্রমনের মজাই আলাদা, কারন চন্দ্রনাথ পাহাড় শ্রেণীভূক্ত ছোট পাহাড় গুলো ব্যাসকুণ্ড থেকে শুরু হয়েছে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাবার পথে হিন্দুদের কিছু ধর্মীয় স্থাপনাও আপনার চোখে পড়বে। এখানে কিছু নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষও বসবাস করে, যারা ত্রিপুরা নামে পরিচিত এবং এখানে তাদের কিছু গ্রামও আছে। আপনি যদি পাহাড়ের গভীরে যান তবে পাহাড়ের গায়ে জুমক্ষেত দেখতে পাবেন। গভীর পাহাড়ের ভেতরে আপনি বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা ফুলের বাগানও দেখতে পাবেন। এখানে অনেকগুলো ঝর্ণা আছে তবে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাবার পথে আপনারা শুধু একটি মাত্র ঝর্ণা দেখতে পারবেন, এস্থান থেকেই পাহাড়ে উঠার পথ দু ভাগে বিভক্ত হয়েগেছে, ডানদিকের দিকের রাস্তা প্রায় পুরোটাই সিঁ‌ড়ি আর বামদিকের রাস্তাটি পুরোটাই পাহাড়ী পথ, কিছু ভাঙ্গা সিঁ‌ড়ি আছে। বাম দিকের পথ দিয়ে উঠা সহজ আর ডানদিকের সিঁ‌ড়ির পথ দিয়ে নামা সহজ, তবে আপনি আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী পথ ব্যবহার করতে পারবেন।

এখানে সীতা মন্দিরের কাছে আরও একটি ঝর্ণা আছে তবে এটা শুকিয়ে গেছে, অন্য ঝর্ণা গুলো গভীর বনের মধ্যে অবস্থিত। বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ধুয়ে গাছের পাতা যখন পরিষ্কার, সতেজ হয়ে যায় তখন দেখতে খুবই সুন্দর লাগে তখন পাহাড়গুলোকে দেখতে পূর্ণ যৌবনা মনে হয়। কিন্তু বর্ষাকালে পাহাড়ে উঠা খুবই বিপদজনক।

এটি একটি ভাল পিকনিক স্পট, কিন্তু অন্যগুলোর তুলনায় তেমন উন্নত নয়। এখানে ব্যাসকুণ্ডের পাশে একটি বিশাল মাঠ আছে যা গাড়ী রাখা, রান্না করা সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে এখানে খাবার পানির কোন সুব্যবস্থা নেই, আপনাকেই খাবার পানির ব্যবস্থা করতে হবে অথবা দোকান থেকে বোতলজাত পানি কিনে খেতে হবে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে এসি, ননএসি বাস ছাড়ে সায়দাবাদ বাস ষ্টেশন থেকে। আরামদায়ক এবং নির্ভর যোগ্য সার্ভিস গুলো হল এস.আলম, সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভূতি। সবগুলো বাসই সীতাকুণ্ডে থামে। চট্টগ্রাম থেকে বাসগুলো মাদারবাড়ী, কদমতলী বাসষ্টেশন থেকে ছাড়ে। তা ছাড়াও অলঙ্কার থেকে কিছু ছোট গাড়ী ছাড়ে ( স্থানী ভাবে মেক্সী নামে পরিচিত) সেগুলো করেও আসা যাবে।

এছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়েঁ আসা দ্রুতগামী ট্রেন “ঢাকা মেইল” সীতাকুণ্ডে থামে, এটি ঢাকা থেকে ছাড়ে রাত ১১টায় এবং সীতাকুণ্ডে পৌঁছে পরদিন সকাল ৬.৩০ থেকে ৭টায়। অন্যান্য আন্তঃ নগর ট্রেন গুলো সরাসরি চট্টগ্রামে চলে যায়। শুধুমাত্র শিবর্তুদশী মেলার সময় সীতাকুণ্ডে (Sitakunda) থামে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে আপনি নিজ উদ্যোগে পারিবারিক ভাবে সিএনজি অটো রিক্সাতে করে ঘুরে আসতে পারবেন ভাড়া নিবে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আপনি যদি পাবলিক বাসে যেতে চান তবে আপনাকে নগরির অলংকার কিংবা এ কে খান মোড় থেকে বাসে উঠতে হবে ভাড়া নিবে ২০ টাকা প্রতি জন।

কোথায় থাকবেন

চট্টগ্রামে নানান মানের হোটেল আছে। নীচে কয়েকটি বাজেট হোটেলে নাম ঠিকানা দেয়া হলো। এগুলোই সবই মান সম্পন্ন কিন্তু কম বাজেটের হোটেল।

১. হোটেল প‌্যারামাউন্ট, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম : নুতন ট্রেন স্টেশনের ঠিক বিপরীতে । আমাদের মতে বাজেটে সেরা হোটেল এটি। সুন্দর লোকেশন, প্রশস্ত করিডোর (এত বড় কড়িডোর ফাইভ স্টার হোটেলেও থাকেনা)। রুমগুলোও ভালো। ভাড়া নান এসি সিঙ্গেল ৮০০ টাকা, ডাবল ১৩০০ টাকা, এসি ১৪০০ টাকা ও ১৮০০ টাকা। বুকিং এর জন্য : ০৩১-২৮৫৬৭৭১, ০১৭১-৩২৪৮৭৫৪

২. হোটেল এশিয়ান এসআর, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম : এটাও অনেক সুন্দর হোটেল। ছিমছাম, পরিছন্ন্ হোটেল। ভাড়া : নন এসি : ১০০০ টাকা, নন এসি সিঙ্গেল। এসি : ১৭২৫ টাকা। বুকিং এর জন্য – ০১৭১১-৮৮৯৫৫৫

৩. হোটেল সাফিনা, এনায়েত বাজার, চট্টড়্রাম : একটি পারিবারিক পরিবেশের মাঝারি মানের হোটেল। ছাদের ওপর একটি সুন্দর রেস্টুরেন্ট আছে। রাতের বেলা সেখানে বসলে আসতে ইচ্ছে করবেনা। ভাড়া : ৭০০ টাকা থেকে শুরু। এসি ১৩০০ টাকা। বুকিং এর জন্য -০৩১-০৬১৪০০৪

৪. হোটেল নাবা ইন, রোড ৫, প্লট-৬০, ও,আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম। একটু বেশী ভাড়ার হোটেল। তবে যারা নাসিরাবাদ/ও আর নিজাম রোড এলাকায় থাকতে চান তাদের জন্য আদর্শ। ভাড়া : ২৫০০/৩০০০ টাকা। বুকিং এর জন্য – ০১৭৫৫ ৫৬৪৩৮২

৫. হোটেল ল্যান্ডমার্ক, ৩০৭২ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম : আগ্রাবাদে থাকার জন্য ভালো হোটেল। ভাড়া-২৩০০/৩৪০০ টাকা। বুকিং এর জন্য: ০১৮২-০১৪১৯৯৫, ০১৭৩১-৮৮৬৯৯৭

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

View Direction

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending

  1. আমি ব্যাক্তিগতভাবে বলবো যাদের হাইটফোবিয়া আছে এবং স্ট্যামিনা কম তাদের না যাওয়াই উত্তম কারন ট্রাভেলিং যাতে শরীর খারাপের কারণ না হয় সেই দিকটাও খেয়াল রাখা জরুরী। সিড়ি উঠতে এবং নামতে কমপক্ষে ২ ঘন্টা করে হাতে রাখা উচিত কারণ রাস্তা যে কি পরিমান খাড়া তা আধা ঘন্টা উঠার এবং নামার সময় হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে যে উপরে উঠার পর আপনার মনে হবে সকল কষ্ট স্বার্থক।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  2. চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠার সময় সাথে বাঁশ নিবেন আর অবশ্যই মিনিমাম ২ লিটার পানি নিবেন। ১ লিটার নরমাল এবং ১ লিটার স্যালাইন পানি নিলে ভালো হয়। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ঠাণ্ডা পানি কিনলে নামার সময়ও পানি ঠাণ্ডা পাবার সম্ভাবনা থাকে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  3. চন্দ্রনাথে দাঁড়ালে সবচেয়ে দারুণ একটি জিনিস অনুভূতি হয়। চার পাশে পাহাড়ের সমারোহ আর পশ্চিমের দিকে সমুদ্র। তেমনই উত্তর পশ্চিম দিকে দেখা মিলে বিরূপাক্ষ মন্দিরের। তেমনি আরেকটি অপূর্ব সুন্দর চন্দ্রনাথের পূর্বদিকটা। সবুজে ঢাকা পাহাড় গুলো যেন দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে আত্মপ্রতিকৃতির। বিশেষ করে মন্দিরের বারান্দার সামনে দাঁড়ালে চোখ জুড়িয়ে যায়। রোদ পড়ছে পাহাড়ের চূড়ায়। ছায়ার মাঝে রোদের কি অপূর্ব মাধুর্য! ঝুম বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই! বারান্দায় বসে অবিশ্রান্ত বর্ষণ দেখতে দেখতে মুহুর্তের মধ্যেই মনে হবে আমি মর্তে নাকি স্বর্গে!!

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  4. সীতাকুন্ড বাজার নেমেই আপনি অটো নিয়ে চলে যেতে পারবেন সীতাকুন্ড ইকো পার্ক। চন্দ্রনাথ মন্দিরের মুল গেটে। সেখান থেকে পায়ে হেটে সিড়িঁ বেয়ে প্রায় ১০২০ ফিট উচ্চতায় পৌছালে দেখতে পাবেন। পাহাড় থেকে দারুন কিছু ভিউ, সময় লাগবে প্রায় ১.৩০ ঘন্টা। এখানেই হয়ে যাবে আপনার পাহাড় ট্রেকিং এর হাতেখড়ি। ছোটখাটো একটা পাহাড় সামিট। তবে চেষ্টা করবেন খুব ভর বেলায় যাওয়ার, তাহলে কষ্ট কম হবে ভাগ্যে থাকলে মেঘের উড়ুউড়ি দেখতে পাববেন।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  5. চন্দ্রনাথে উঠবেন বাম দিকের রাস্তা দিয়ে আর নামবেন ডান দিকের সিঁড়ি বেয়ে। তবে দুইটা পথের ভিউর কথা বললে অবশ্যই বাম দিকেরটাতেই বেষ্ট ভিউ রয়েছে। বাম পাশের উঠার রাস্তা পিচ্ছিল তাই সাবধানতা অবলম্বন করে উঠবেন এবং বেটার সাথে লাঠি নিয়ে গেলে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  6. যারা কম খরছে মেঘ বিলাস করতে চান তাদের জন্য চন্দ্রনাথ পাহাড় হতে পারে অন্যতম আকর্ষণ!

    সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় মেঘ দেখতে পাওয়া আমাদের জন্য একরকম স্বপ্নের মত ছিল! অনেকে ভাগ্য বলতে পারেন! ট্রেকিং শেষ করে আসার পরও আমাদের অনেকেরই বিশ্বাস হচ্ছে না আমরা মেঘের ভিতরে ছিলাম অনেকক্ষণ যাবৎ! এযেন স্বর্গীয় অনুভূতি!

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  7. পাহাড়ের উপর থেকে দেখা সৌন্দর্য্যের কোন তুলনা নেই। এক কথায় বলতে গেলে স্বর্গীয় সৌন্দর্য্য।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  8. অনেক দিন আগে দিয়েছিলাম চন্দ্রনাথ মন্দিরে। সিড়ি বেয়ে নামার রাস্তাটার কথা ভাবলে আজও হাত পা কাঁপে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না