বিছনাকান্দি

ভালো লেগেছে
37
ট্রিপ
২ দিন
খরচ
৩২০০ টাকা

বিছনাকান্দি (Bisnakandi) সিলেট শহর থেকে বেশখানিক পথ দূরে। প্রকৃতির আপন লীলাখেলায় মেতে আছে অপার সৌন্দর্যের জলপাথড়ের ভূমি বিছনাকান্দি যা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত! বিছনাকান্দির এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পাথর আর পাথর। মনে হবে যেন একটি পাথরের বিছানা। এ এক অপূর্ব সৌন্দর্য, সারারাত না ঘুমিয়ে এই সৌন্দর্য দেখে নিমিষেই ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণার পানিতে পা ফেলে মনে হবে পৃথিবীর সব শান্তি এখানে। শুকনো মৌসুমে বিছনাকান্দির আসল সৌন্দর্য চোখে পড়ে না। বর্ষাকালে পানির ঢল জায়গাটিকে মায়াময় বানিয়ে তোলে। স্বচ্ছ শীতল পানির তলদেশে পাথরের পাশাপাশি নিজের শরীরের লোমও দেখা যাবে স্পষ্ট। দীর্ঘ সময় জলপাথরের বিছানায় শুয়ে বসে ছবি তুলতে তুলতে আর গোসল করতে হয়তো সময়ের হিসেব হারিয়ে ফেলবেন। বিছনাকান্দি এর সৌন্দর্য অসাধারণ। দৃষ্টির শেষ সীমানা পর্যন্ত শুধু পাথর আর পাহাড়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় আকাশ আর মেঘের সাথে পাহাড়ের দলগুলো মিশে আছে। যতোই কাছে যাই পাহাড়গুলোর ততোই আকাশ থেকে যেন দূরে যেতে থাকে। আর পাহাড়ের গায়ে বেপরোয়া সাদা মেঘের দলগুলো যেন আঠার মতো লেগে থাকে।

পাথর, পানি, পাহাড় আর মেঘ নিয়েই যেন বিছনাকান্দি। এখানে যাওয়ার পর যে কথাটি সর্বপ্রথম মনে হবে তা হল প্রশান্তি। এই প্রশান্তিটুকু নিমিষেই ভুলিয়ে দেয় প্রতিদিনকার শত গ্লানি। প্রকৃতির সৌন্দর্যের কাছে যেন হার মানতেই হয় নাগরীক সভ্যতাকে। আর এই চরম সত্যটুকু উপলব্ধি করতে হলে আপনাকে চলে যেতে হবে বিছনাকান্দিতে।

‘বিছনাকান্দি-লক্ষনছড়াপান্থুমাই’ এই তিনটি জায়গা ঘুরিয়ে আনতে নৌকার খরচ পরবে ক্ষেত্র বিশেষে প্রায় ১১০০-১৫০০ টাকা। লক্ষনছড়া মাঝি চিনে কিনা সেটা আগেই জিজ্ঞেস করে শিওর হয়ে নিবেন। তিনটি জায়গা মোটামোটি ভাবে ঘুরে হাদারপাড় ফিরে আসতে সময় লাগবে প্রায় ৫ ঘন্টা। তাই সিলেট থেকে আসার পথে গোয়াইনঘাট বাজারেই দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে অথবা প্যাক করে নিতে পারেন। গোয়াইন ঘাট থেকে আপনাকে যেতে হবে হাদারপাড়। গোয়াইন ঘাট বাজার থেকে সিএনজি নিয়ে সহজেই হাদারপাড় যাওয়া যাবে। ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৪০ টাকা। কেউ যদি সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে সিএনজি নিয়ে সরাসরি হাদারপার চলে আসেন, তাহলে হাদারপারের গনি মিয়ার ভূনা খিচুড়ি খেতে ভুলবেন না।

আপনি এক নৌকা ভাড়া করে পান্থুমাই, বিছনাকান্দি ও লক্ষনছড়া ঘুরে আসবেন। এগুলো সব এক রুটে হওয়ার কারনে এক নৌকা দিয়ে এক দিনে কভার করা যায়।

কখন যাবেন

সিলেট নগরীর সৌন্দর্জ্যটা আসলে বর্ষাকালেই বেশী উপভোগ করা যায়। আর তা ছাড়া বর্ষার সময়ে বিছনাকান্দি (Bichnakandi) পূর্ণযৌবন ফিরে পায়।

বিছনাকান্দি যাওয়ার রুট

বাসে সিলেট

ঢাকা থেকে সিলেট এর উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায় গাবতলী এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে৷বাস গুলো সকাল থেকে রাত ১২.৪৫ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় পরপর ছেড়ে যায়৷ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সিলেটের বাসগুলো ছাড়ে। এ পথে গ্রীন লাইন পরিবহন, সৌদিয়া এস আলম পরিবহন, শ্যামলি পরিবহন ও এনা পরিবহনের এসি বাস চলাচল করে। ভাড়া ৮শ’ থেকে ১ হাজার ১শ’ টাকা। এছাড়া শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ইউনিক সার্ভিস, এনা পরিবহনের পরিবহনের নন এসি বাস সিলেটে যায়। ভাড়া ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা। এনা পরিবহনের বাসগুলো মহাখালী থেকে ছেড়ে টঙ্গী ঘোড়াশাল হয়ে সিলেট যায়।

ঢাকা থেকে ট্রেনে সিলেট

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস। সপ্তাহের প্রতিদিন দুপুর ২টায় ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ০৯টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৪টায় ছাড়ে কালনী এক্সপ্রেস। ভাড়া দেড়শ থেকে ১ হাজার ১৮ টাকা। ট্রেনে গেলে রাত ৯.৫০ এর উপবন এক্সপ্রেসে জাওয়াটাই সব থেকে ভালো কারন আপনার যেতে যেতে সকাল হয়ে যাবে আর আপনি যদি রাতে ট্রেনে ঘুমিয়ে নিন তাহলে সকালে ট্রেন থেকে নেমেই আপনার ভ্রমন শুরু করতে পারেন আর সময় লাগবে ৭-৮ ঘন্টা।

চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে সিলেট

চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১৪৫ থেকে ১ হাজার ১৯১ টাকা।ট্রেন এর টিকেট এর দাম: এসি বার্থ ৬৯৮ টাকা, এসি সিট ৪৬০ টাকা, ফার্স্ট ক্লাস বার্থ ৪২৫ টাকা, ফার্স্ট ক্লাস সিট ২৭০ টাকা. স্নিগ্ধা ৪৬০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৮০ টাকা, শোভন ১৫০ টাকা, সুলভ ৯৫ টাকা।

ট্রেনের সময়সূচি এখানে দেখে নিন
(Bangladesh Railway/Train Time Schedule)

সিলেট বাই এয়ার / প্লেনে সিলেট

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ, ইউনাইটেড এয়ার, রিজেন্ট এয়ার, নভো এয়ার এবং ইউএস বাংলা এয়ারের বিমান প্রতিদিন যায় সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর অভ্যন্তরীণ রুট ঢাকা-সিলেট এর টিকেট মুল্যঃ
Super Saver: ৩২০০ টাকা
Economy Saver: ৩৭০০ টাকা
Economy Flexible: ৪২০০ টাকা
Business Saver: ৫৯০০ টাকা
Business Flexible: ৬৯০০ টাকা

সিলেট থেকে বিছনাকান্দি

বিছনাকান্দি যেতে হলে সর্বপ্রথম আপনাকে সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট যেতে হবে। সেখানে বিমানবন্দর রোডের দিকে সিএনজি স্টেশন আছে। সিএনজি রিজার্ভ করে হাদারপার নামক জায়গা পর্যন্ত গেলে ভাল হয়। পাঁচজন মিলে ১০০০টাকায় সাধারণত ভাড়া নেওয়া হয়। তবে মানুষ কম থাকলে ৮০-২০০ টাকা জনপ্রতিও যাওয়া যায়। হাদারপার বাজারটি খুব একটা বড় না আবার ছোটও না। মোটামুটি সবকিছুই পাবেন। খাবার, পানি, কাপড় সবই কিনতে পাওয়া যায়। হাদারপার বাজারেই বিছনাকান্দি-পান্থুমাইলক্ষনছড়া যাওয়ার নৌকা পাওয়া যায়। সুন্দর বেশভুষা দেখে মাঝিরা ২০০০টাকা চেয়ে বসতে পারে। ভুলেও রাজি হবেন না। নৌকা ভাড়া আসা-যাওয়া সর্বোচ্চ ১১০০-১৫০০ টাকা হলে ভাল। দরাদরি করে এর চেয়ে কমে পেলে ভাল তবে অবশ্যই এর বেশি দামে যাবেন না। শুকনো মৌসুমে হেঁটে যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে সময় লাগবে ৩০-৪০ মিনিট। বর্ষাকালে নৌকায় যাওয়াই উত্তম। এক নৌকায় বিছনাকান্দি, পান্থুমাইলক্ষনছড়া ঘুরে দেখাবে বলে নিবেন।

কোথায় থাকবেন

যেতে আসতে সময় না লাগার কারনে আপনাকে আর থাকার চিন্তা করতে হবে না। সিলেটে থাকার মত অনেকগুলো হোটেল আছে, আপনি আপনার প্রয়োজন ও সামর্থ অনুযায়ী যে কোন ধরনের হোটেল পাবেন। কয়েকটি পরিচিত হোটেল হল – হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা,কায়কোবাদ ইত্যাদি। লালা বাজার এলাকায় কম ভাড়ায় অনেক মানসম্মত রেস্ট হাউস আছে৷ হোটেল অনুরাগ – এ সিঙ্গেল রুম ৪০০টাকা (দুই জন আরামসে থাকতে পারবেন), তিন বেডের রুম ৫০০টাকা(নরমালই ৪জন থাকতে পারবেন)। রাত যাপনের জন্য দরগা রোডে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। রুম ভাড়া ৫০০/- টাকা থেকে ৫০০০/- টাকা পর্যন্ত।

শহরের শাহজালাল উপশহরে হোটেল রোজ ভিউ (০৮২১-৭২১৪৩৯)।
দরগা গেইটে হোটেল স্টার প্যাসিফিক (০৮২১-৭২৭৯৪৫)।
ভিআইপি রোডে হোটেল হিলটাউন (০৮২১-৭১৬০৭৭)।
বন্দরবাজারে হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল (০৮২১-৭২১১৪৩)।
নাইওরপুলে হোটেল ফরচুন গার্ডেন (০৮২১-৭১৫৫৯০)।
জেল সড়কে হোটেল ডালাস (০৮২১-৭২০৯৪৫)।
লিঙ্ক রোডে হোটেল গার্ডেন ইন (০৮২১-৮১৪৫০৭)।
আম্বরখানায় হোটেল পলাশ (০৮২১-৭১৮৩০৯)।
দরগা এলাকায় হোটেল দরগাগেইট (০৮২১-৭১৭০৬৬)।
হোটেল উর্মি (০৮২১-৭১৪৫৬৩)।
জিন্দাবাজারে হোটেল মুন লাইট (০৮২১-৭১৪৮৫০)।
তালতলায় গুলশান সেন্টার (০৮২১-৭১০০১৮) ইত্যাদি।

তামাবিল/জৈন্তাপুর এর দিকে বেশ কিছু রিসোর্ট আছে। আপনার থাকার ব্যবস্থা যদি এইদিকে কোথাও হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে হাদারপাড় থেকে আবার আগের মতই গোয়াইনঘাটে আসতে হবে। গোয়াইন ঘাট থেকে যেতে হবে সারি ঘাট। সিএনজি/লেগুনাতে করে যেতে পারেন। ভাড়া জনপ্রতি ৬০টাকা।

কোথায় খাবেন

খাওয়ার জন্য সিলেটের জিন্দাবাজারে বেশ ভালো তিনটি খাওয়ার হোটেল আছে। হোটেল গুলো হচ্ছে পাঁচ ভাই,পানশি ও পালকি। এগুলোতে প্রায় ২৯ প্রকারের ভর্তা আছে।

×

প্রতিটি জায়গা পরিদর্শনের পাশাপাশি সৌন্দর্য রক্ষা করাও প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। এক্ষেত্রে সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. Tour : Rainy Season.

  2. ১. ভ্রমনের সময় : অবশ্যই বর্ষাকাল
    ২. নৌকা ভাড়া : ঝামেলা এড়াতে অবশ্য আগে থেকে ঠিক করে নিবেন।

  3. পাহাড়, নদী, ঝর্ণা আর পাথরের এক সম্মিলিত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই বিছনাকান্দি। পাথরের ওপর দিয়ে স্বচ্ছ জল গড়িয়ে পড়ছে গিয়ে তৃষ্ণার্ত পিয়াইন নদের বুকে। সেই জল বরফ গলা পানির মতো ঠাণ্ডা। বেশিক্ষণ গা ভেজালে এই প্রচণ্ড গরমেও শরীরে শীতের কাঁপন লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।

  4. বিছনাকান্দি যাওয়ার জন্য দুটি জন প্রিয় ঘাট হল পীরেরবাজার ঘাট ও হাদারপাড় ঘাট। পীরেরবাজার ঘাটে ভাড়া তুলনা মূলক অনেক বেশি। তাই আমার পরামর্শ থাকবে হাদারপাড় ঘাটে যাওয়ার জন্য। এখানে নির্ধারিত কোন ভাড়া নেই। যার কাছ থেকে যেমন নিতে পারে। তাই মাঝিরা আপনাকে বিভিন্ন কথা বলে বিভ্রান্ত করতে পারে। এ কথা গুলোয় কান দিবেন না।এ ঘাট থেকে বিছনাকান্দি ৫০০-১০০০ টাকার মধ্যে যেতে পারবেন। আর যদি এক সাথে বিছনাকান্দি ও পান্তুমাই যান তাহলে ১২০০-১৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে যাবে।সকল ক্ষেত্রে আপনাকে তুমুল দর কষাকষি করতে হবে।

  5. khub valo legeche

  6. বিছনাকান্দির পাথুরে জলে নিজেকে সঁপে দিয়ে নিতে পারেন এক ভিন্ন প্রশান্তি। তবে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে বিছনাকান্দির এই অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগের সেরা সময় হলো বর্ষাকাল। অনেককেই অভিযোগ করতে শুনি যে পানি নেই, রুক্ষ ইত্যাদি ইত্যাদি। হবেই তো ভাই আপনি যদি সেখানে ভুল সময়ে গিয়ে হাজির হন।

  7. যারা কখনও নৌকা ভ্রমণ করেন নাই তারা অনেক বেশি মজা পাবেন। কারণ দুইপাশের পাহাড় এবং গ্রামগুলো দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। ঝর্ণা, পাহাড়ের সৌন্দর্য এবং নদীতে নৌকা ভ্রমণের জন্য এই ট্যুরটা স্মরনীয় হয়ে থাকবে এটা নিশ্চিন্তে বলা যায়।

  8. ভাড়া না জানা থাকলে ডাকাতির স্বীকার হবেন, পকেট ফুটা হয়ে যাবে, তাই যত পারেন দামাদামি করুন, যা ভাড়া চাইবে ১/৩ ভাগ বলুন।

  9. বিছানাকান্দিতে পৌছে আমরা আশানুরূপ সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হই। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে আমরা ঝর্ণার ছিটোফাটাও দেখতে পাই নি। তবে অল্প অল্প পানির প্রবাহ বিদ্যমান ছিল। তাতেই পা ভিজিয়ে আমাদের বিছানাকান্দি দর্শন শেষ করি।

  10. সিলেটের অন্যতম সৌন্দর্যময় দর্শনীয় যায়গা এই বিছনাকান্দি। বর্ষায় এর রূপের বর্ণনা বলে শেষ করার মত না..অপুরূপ সৌন্দর্যে মণ্ডিত থাকে.. চারদিকে পাহাড় আর বিস্তৃর্ণ সবুজের ভরা সমারোহে সেজে থাকে..যা দেখে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়😘

  11. বাংলাদেশের সীমান্তে মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঠাণ্ডা পানির প্রবল স্রোত থরে থরে সাজানো পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলে। ঠিক যেন একটি পাথুরে নদী। আপনি যখনি পানিতে গাঁ এলিয়ে দিবেন উঠতেই মন চায়বে না! বাংলাদেশে এমন সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশ খুব কমই আছে। ভ্রমণ পিপাসুদেরএকবার হলে ও জায়গা টিতে যাওয়া উচিত!

  12. নৌকা মালিক সমিতি ধান্দা করে ১৫৫০ টাকা করে নৌকা ভাড়া ঠিক করেছে। আপনার ইচ্ছে করলে নৌকা ঘাটে যাবার আগে তিন চারটে টিম এক সাথে যাবেন। ভুলেও ওদের বুঝতে দিবেন না। ড্রাইভারেরা আপনাকে প্রথম ঘাটে নামিয়ে দিতে চাইবে, এখানে না নেমে একবারের কাছের হাদারপাড় ঘাটে চলে যাবেন, ওখানে ৮০০ টাকার মধ্যে নৌকা পাবেন।

  13. সিএনজিতে না গিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে গিয়েছিলাম। প্রথমে গেলাম সিলেট সোবহানীঘাট থেকে জাফলং এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসে করে সারিঘাট পর্যন্ত । ভাড়া ৩৫ টাকা। এরপর সারিঘাট থেকে লেগুনাতে করে গোয়াইনঘাট পর্যন্ত গেলাম। ভাড়া ১৮ টাকা। সিএনজিতে করেও যাওয়া যায়। এরপর গোয়াইনঘাট থেকে আবার লেগুনাতে করে হাদারপাড় বাজার। লেগুনাতে ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৩৫টাকা (সিএনজিতে ৫০ টাকা)। হাদারপাড় বাজারে নেমে গণি মিয়ার ভুনা খিচুড়ি খেলাম। 😀

    এরপর হাদারপাড় বাজার থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বিছনাকান্দি । বিগত কিছুদিনের বৃষ্টি হওয়ার কারণে বেশ পানি ছিল, তাই নৌকা করেই গিয়েছিলাম। নৌকার ভাড়া ৪০০-৬০০ এর মধ্যে।

    এয়ারপোর্টের পাশের ওই ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার চেয়ে এই রুট তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো, তবে সময় একটু বেশী লাগে আর ভঙ্গে ভেঙ্গে যাওয়া লাগে।

  14. জায়গাটা অনেক সুন্দর। পানির নিচে যে পাথরগুলো আছে একটু সাবধানে পা রাখবেন। কারন পাথর খুব পিচ্ছিল। তার সাথে ঐ পানির মধ্যে অনেক ভাঙ্গা কাঁচ।

  15. ধন্যবাদ। তবে আপনাদের লোকেশন ট্রেকার বারবার ঝামেলা করেছে।

  16. মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণার পানিতে পা ফেললে মনে হবে পৃথিবীর সব শান্তি এখানেই। স্বচ্ছ আর শীতল পানির নিচে পাথরের পাশাপাশি নিজের শরীরের লোমটাও স্পষ্ট দেখা যাবে।

  17. আমার কাছে ভালো লেগেছে। আমি বর্ষায় গিয়েছিলাম। হাদারপাড় পর্যন্ত রাস্তা খুব একটা ভালো ছিলো না তবে একদম খারাপও লাগে নি কারন যখন বর্ষার পানি রাস্তার উপর দিয়ে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাচ্ছিলো তখন মনে হচ্ছিলো যেন বড় কোন হাওরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি 🙂

    এছাড়া হাদারপার থেকে ট্রলারে করে বিছনাকান্দি যাওয়ার সৌন্দর্য্যও কম না।

  18. বৃষ্টির সময় যখন পানি বেশী থাকে তখন এর পুরো প্রাকৃতিক রুপটা উজাড় করে দেয়।

  19. নি:সন্দেহে ঘোরার জন্যে দারুন একটা জায়গা কিন্তু এর সর্বোচ্চ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে হলে আপনাকে বর্ষার শুরুতে কিংবা শেষে যেতে হবে।

    শুকনা মৌসুমে শুষ্ক থাকে আর ভরা বর্ষায় পানি বেশি থাকে। তাই বর্ষার শুরু এবং শেষে গেলে ভালো মজা পাওয়া যায়।

  20. বিছনাকান্দির মূল আকর্ষণ হচ্ছে ভারতের উঁচু পাহাড়ের ঝর্ণা থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ শীতল জলধারা এবং দূরের আকাশচুম্বী পাহাড়ের সৌন্দর্য। পানির গভীরতা বেশি নয় বলে পরিষ্কার পানিতে উঁচু-নিচু পাথরগুলোকে দেখা যায়। নদীটির দুই পাশেও রয়েছে পাথরের সারি। সামনের দিকে তাকালে ঝর্ণা এবং উঁচু পাহাড়ের আঁকাবাঁকা সারিগুলো আপনার মন কাড়বে।

    কিন্তু যাওয়ার রাস্তাটা ভালো নয়।

  21. দারুন একটা জায়গা, সরকারের উচিত ডেথ জোন এর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।

  22. ভরা বর্ষায় অসাধারন রুপ পায় বিছনাকান্দি। কিন্তু যাওয়ার রাস্তাটা খুব খারাপ।

  23. […] ‘বিছনাকান্দি–লক্ষনছড়া-পান্থুমাই’ এই তিনটি জায়গা ঘুরিয়ে আনতে নৌকার খরচ পরবে ক্ষেত্র বিশেষে প্রায় ১১০০-১৫০০ টাকা। লক্ষনছড়া মাঝি চিনে কিনা সেটা আগেই জিজ্ঞেস করে শিওর হয়ে নিবেন। তিনটি জায়গা মোটামোটি ভাবে ঘুরে হাদারপাড় ফিরে আসতে সময় লাগবে প্রায় ৫ ঘন্টা। তাই সিলেট থেকে আসার পথে গোয়াইনঘাট বাজারেই দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে অথবা প্যাক করে নিতে পারেন। গোয়াইন ঘাট থেকে আপনাকে যেতে হবে হাদারপাড়। গোয়াইন ঘাট বাজার থেকে সিএনজি নিয়ে সহজেই হাদারপাড় যাওয়া যাবে। ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৪০ টাকা। কেউ যদি সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে সিএনজি নিয়ে সরাসরি হাদারপার চলে আসেন, তাহলে হাদারপারের গনি মিয়ার ভূনা খিচুড়ি খেতে ভুলবেন না। […]

  24. […] ‘বিছনাকান্দি–লক্ষনছড়া-পান্থুমাই’ এই তিনটি জায়গা ঘুরিয়ে আনতে নৌকার খরচ পরবে ক্ষেত্র বিশেষে প্রায় ১১০০-১৫০০ টাকা। লক্ষনছড়া মাঝি চিনে কিনা সেটা আগেই জিজ্ঞেস করে শিওর হয়ে নিবেন। তিনটি জায়গা মোটামোটি ভাবে ঘুরে হাদারপাড় ফিরে আসতে সময় লাগবে প্রায় ৫ ঘন্টা। তাই সিলেট থেকে আসার পথে গোয়াইনঘাট বাজারেই দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে অথবা প্যাক করে নিতে পারেন। গোয়াইন ঘাট থেকে আপনাকে যেতে হবে হাদারপাড়। গোয়াইন ঘাট বাজার থেকে সিএনজি নিয়ে সহজেই হাদারপাড় যাওয়া যাবে। ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৪০ টাকা। কেউ যদি সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে সিএনজি নিয়ে সরাসরি হাদারপার চলে আসেন, তাহলে হাদারপারের গনি মিয়ার ভূনা খিচুড়ি খেতে ভুলবেন না। […]

  25. […] কিনতে পাওয়া যায়। হাদারপার বাজারেই বিছানাকান্দি/পান্থুমাই যাওয়ার নৌকা পাওয়া […]