পাথারিয়া পাহাড়

ভালো লেগেছে
2

পাথারিয়া পাহাড় মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত, যার পূর্ব নাম আদম আইল। এই পাহাড়ের উপর থেকে পতিত পানিতেই সৃষ্টি হয়েছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। এই পাহাড়, সিলেট সদর থেকে ৭২ কিলোমিটার, মৌলভীবাজার জেলা থেকে ৭০ কিলোমিটার, কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে ৩২ কিলোমিটার এবং কাঁঠালতলী থেকে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।

পাথারিয়া পাহাড়ে আছে ঝেরঝেরি, কাখড়া ছড়ি, ফুল ঢালনি ঝেরঝেরি আর ইটাউরি ফুলবাগিচা ঝর্ণা। ঝর্ণাগুলোর এমন আহলাদি নাম দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। শুধু নামকরণেই আলাদা টান নেই। ঝর্ণাগুলো পাথারিয়া পাহাড়কে সাজিয়েছে অন্যরকম সৌন্দর্য্য। উঁচু-নিচু টিলা সবুজ বৃক্ষরাজিতে ছাওয়া পাহাড়ের বুক চিরে বেরিয়ে আসা প্রবাহমান পানি ছড়া দিয়ে সমতলে নেমে আসছে। ছড়ার পানি ছোট-বড় পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলছে। দুর্গম এই ছড়া দিয়ে হেঁটে ঝরনার কাছে যেতে যত বিপত্তি ক্লান্তি আসুক না কেন, ছড়ার স্বচ্ছ শীতল পানি, চারদিকের সবুজ প্রকৃতি, বনফুল, শাসনি লেবুর সুবাস, পাখি ও ঝিঁ ঝিঁ পোকার কলতান সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেয়।

প্রায় এক হাজার বছর আগে এই অঞ্চলটি গভীর অরণ্য দ্বারা পূর্ণ ছিলো এবং এখানে পাথরি নামক নাগা জনগোষ্ঠীর একটি উপশাখার অধিবাসীরা বসবাস করত। কালক্রমে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর নামের সাথে মিল থেকে এই অরণ্য অঞ্চলের নাম ‘পাথারিয়া’ হয়। এই পাহাড়টি ২৪ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। এটি বাংলাদেশের সাথে ভারতের পূর্ব দিকের সীমান্তবর্তী খাসিয়া-জয়ন্তীয়া উচ্চভূমির একটি বর্ধিত অংশ যার অপর অংশ ভারতের আসামে বিস্তৃত। পাথারিয়ার উঁচ্চচূড়া থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের করিমগঞ্জ জেলা দেখা যায়।

এখানে পূর্বে প্রচুর কমলা লেবুর গাছ থাকলেও বর্তমানে তার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এই বনাঞ্চলটি আগর-আতর কাঠ গাছের জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে এখানে যেসব প্রাকৃতিক উদ্ধিদ দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছেঃ নাগকেশর, পালান, বাঁশ, বেত, কালাকস্তুরী বা মুশকদানা ও বনঢ্যাড়শ।

খনিজসম্পদের মধ্যে পাথারিয়া পাহাড়ে আছে একটি তেলকূপ। ১৯৩৩ সালে তৎকালীন সরকার বার্মা ওয়েল কোম্পানিকে (বিওসি) দিয়ে তেল উত্তোলনের ব্যবস্থা করে। পরবর্তীকালে তেলের পাইপ ফেটে যায় এবং স্থানীয় পুরো এলাকা তেলের জোয়ারে ভাসতে থাকে তিনদিন। এই তেলকূপ বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও এখনও এর ভেতর তেলের মজুদ আছে। বন্ধ করে রাখা কূপের ঢাকনার ওপর কান পাতলে শোনা যায় মাটির নিচে তেলের গম গম শব্দ।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে ট্রেনে এবং বাসে দুই মাধ্যমেই যাওয়া যায়। ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেনে কুলাউড়ায় নেমে তারপর বাসে অথবা সিএনজি নিয়ে বড়লেখায় নেমে ডিমাই হয়ে পাথারিয়ায় (Patharia Pahar) যেতে হবে। আর বাস সার্ভিসে যেতে হলে ফকিরাপুল-সায়েদাবাদ থেকে রূপসী বাংলা, শ্যামলী পরিবহন এবং মহাখালী থেকে এনা পরিবহনেও যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

এখানে জেলা পরিষদের ২টি বাংলো ও ২টি আবাসিক হোটেল রয়েছে। তাছাড়া আপনি চাইলে সিলেট কিংবা মৌলভীবাজার শহরের হোটেলেও থাকতে পারেন।

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।