চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ৩৫–৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে বাঁশখালী উপজেলার উপকূল জুড়ে বিস্তৃত এই বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত। প্রায় ৩৫–৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বেলাভূমিকে অনেকেই কক্সবাজারের পরে দেশের দীর্ঘতম সৈকতগুলোর একটি বলে থাকেন। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ — এখানে ভিড় নেই। পতেঙ্গা বা কক্সবাজারের কোলাহলের বিপরীতে এখানে পাবেন নিঃসঙ্গ ঝাউবন, লাল কাঁকড়ার দল, সমুদ্রপাখির ঝাঁক আর কুতুবদিয়া চ্যানেলের ওপর অবারিত সূর্যাস্ত।
প্রধান সৈকত পয়েন্ট
| পয়েন্ট | বিশেষত্ব |
|---|---|
| খানখানাবাদ | সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজগম্য; বিস্তীর্ণ বালুচর ও ঝাউবন |
| বাহারছড়া | চমৎকার সূর্যাস্ত; পাশেই ঐতিহাসিক বখশী হামিদ মসজিদ |
| ছনুয়া / গণ্ডামারা / শরল | একেবারে নির্জন, স্থানীয় জেলেপাড়া ও লবণমাঠের দৃশ্য |
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে বাস, ট্রেন বা বিমান—তিনটিই ব্যবহার করা যায়। সায়েদাবাদ, কমলাপুর বা আরামবাগ থেকে নন-এসি বাসে ভাড়া সাধারণত ৭০০–৯০০ টাকা এবং এসি বাসে ১,২০০–১,৮০০ টাকা; সময় লাগে প্রায় ৬–৭ ঘণ্টা। ট্রেনে সোনার বাংলা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী বা তূর্ণা নিশীথা ট্রেন ব্যবহার করা যায়, যেখানে শ্রেণিভেদে ভাড়া প্রায় ৪০০–১,৩০০ টাকা। আর বিমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে সময় লাগে প্রায় ৫৫ মিনিট।
চট্টগ্রাম শহর থেকে গুনাগরি বাজার যেতে নতুন ব্রিজ (শাহ আমানত সেতু চত্বর) অথবা বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে বাঁশখালীগামী বাস পাওয়া যায়, যা প্রায় ২০ মিনিট পরপর ছাড়ে। লোকাল বাসের ভাড়া ৮০–৯০ টাকা, স্পেশাল/ক্লোজডোর সার্ভিস ১১০–১২০ টাকা এবং শেয়ার্ড সিএনজি ১০০–১৫০ টাকা। সাধারণত সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট, তবে যানজট থাকলে ২–২.৫ ঘণ্টাও লাগতে পারে। বাসে ওঠার পর কন্ডাক্টরকে আগে থেকেই গুনাগরিতে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে রাখুন।
গুনাগরি থেকে সিএনজিতে মোশাররফ আলী মিয়া বাজার (২০–২৫ টাকা), সেখান থেকে ব্রিজ পার হয়ে আরেকটি সিএনজিতে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত (Banshkhali Sea Beach), ভাড়া ১৫–২০ টাকা।
সবচেয়ে ভালো উপায়: গুনাগরি থেকেই সিএনজি রিজার্ভ করে নিন (৩০০–৫০০ টাকা, দরদাম সাপেক্ষে)। যাওয়া-আসা একসাথে ঠিক করে রাখলে সন্ধ্যায় ফেরার গাড়ির সংকটে পড়বেন না।
বাঁশখালীতে সাধারণ মানের থাকার ব্যবস্থা চাইলে ৫০০–১,৫০০ টাকার মধ্যে কয়েকটি অপশন পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে শীলকূপের বাঁশখালী ইকোপার্ক রেস্ট হাউস, দারোগা বাজারের জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, পুকুরিয়ার চানপুর বাংলো, জলদীর সৌদিয়া আবাসিক হোটেল এবং গুনাগরির দিশারী রেস্ট হাউস উল্লেখযোগ্য। তবে যাওয়ার আগে রুমের প্রাপ্যতা ও বর্তমান ভাড়া নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
পরিবার নিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরে থাকা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক। বাজেটের মধ্যে হোটেল বে ভিউ, হোটেল সাফিনা, স্টার পার্ক ও ডায়মন্ড পার্কে প্রায় ৫০০–২,৫০০ টাকার মধ্যে থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যেতে পারে। একটু ভালো মানের জন্য হোটেল হিলটন সিটি, এশিয়ান এসআর ও টাওয়ার ইন-এর মতো হোটেল রয়েছে, যেগুলোর ভাড়া আনুমানিক ২,৫০০–৫,০০০ টাকা। আর প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার জন্য র্যাডিসন ব্লু বে ভিউ, দ্য পেনিনসুলা ও ওয়েল পার্ক রেসিডেন্স বিবেচনা করতে পারেন।
নতুন ব্রিজ বা বহদ্দারহাটের কাছে থাকলে সকালে বেরিয়ে সহজেই দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়।
বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে তেমন কোনো রেস্তোরাঁ নেই—তাই যাওয়ার আগে খাবারের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। গুনাগরি ও জলদী বাজারে সাধারণ ভাত, মাছ ও মাংসের হোটেল রয়েছে, যেখানে খাবার খেয়ে নিতে পারেন। তবে সৈকতে যাওয়ার সময় সঙ্গে পর্যাপ্ত খাওয়ার পানি, শুকনো খাবার ও ফল নিয়ে যাওয়াই ভালো, বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গেলে।
চট্টগ্রাম শহরে ফিরে এলে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। বিশেষ করে মেজবানি মাংস, কালা ভুনা এবং বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ চট্টগ্রামের জনপ্রিয় খাবার। তাই সময় থাকলে সৈকত ভ্রমণের পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরের স্থানীয় খাবারও উপভোগ করতে পারেন।
| খাত | খরচ |
|---|---|
| যাওয়া-আসা বাস | ১৮০–২৪০৳ |
| সিএনজি (শেয়ারে) | ১৫০–২৫০৳ |
| ইকোপার্ক প্রবেশ | ২০৳ |
| খাবার | ২৫০–৪০০৳ |
| মোট | প্রায় ৬০০–৯০০৳ |
৪–৫ জনের দল হলে সিএনজি রিজার্ভ করেও খরচ এর মধ্যেই থাকবে।
ব্যাগে রাখুন: সানস্ক্রিন, ক্যাপ/হ্যাট, সানগ্লাস, পাওয়ার ব্যাংক, ছাতা, প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী, বদলানোর কাপড়, স্যান্ডেল।
| সময় | পরিকল্পনা |
|---|---|
| ৭:০০ | চট্টগ্রাম (নতুন ব্রিজ) থেকে বাস |
| ৮:৩০ | গুনাগরি পৌঁছে নাশতা, সিএনজি রিজার্ভ |
| ৯:৩০ | চাঁদপুর-বেলগাঁও চা বাগান |
| ১১:৩০ | বাঁশখালী ইকোপার্ক ও ঝুলন্ত সেতু |
| ১:৩০ | জলদী/গুনাগরিতে দুপুরের খাবার |
| ৩:০০ | বখশী হামিদ মসজিদ |
| ৪:০০ | খানখানাবাদ/বাহারছড়া সৈকত — সূর্যাস্ত |
| ৬:৩০ | চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা |
ভাড়া, প্রবেশ ফি ও সময়সূচি সময়ে সময়ে বদলায় — রওনার আগে স্থানীয়ভাবে একবার যাচাই করে নিলে ভালো।
Leave a Comment