ইতিহাস আর ঐতিহ্যের খোঁজে যারা ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য মাদারীপুর জেলার এক অনন্য দর্শনীয় স্থান হতে পারে ‘ডানলপ সাহেবের নীলকুঠি’ যা আদতে আউলিয়াপুর নীলকুঠি নামে পরিচিত। ব্রিটিশ আমলের নীলকরদের নির্মম অত্যাচার এবং এর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক ফরায়েজী আন্দোলনের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে এই নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ।
ভ্রমণপিপাসু ও ইতিহাস সন্ধানী দর্শনার্থীদের জন্য ডানলপ নীলকুঠি ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
মাদারীপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে এই ঐতিহাসিক নীলকুঠির অবস্থান।
প্রায় দুশো বছর আগে ডানলপ নামের এক ইংরেজ রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার আশায় এই এলাকায় এসে নীলকুঠি স্থাপন করেন। মাদারীপুরের মাটি নীল চাষের উপযোগী হওয়ায় তৎকালীন কৃষকদের ধান, পাট, গম বাদ দিয়ে জোরপূর্বক নীল চাষে বাধ্য করা হতো। দাদনের ফাঁদে ফেলে চলত চরম অত্যাচার। এই অবিচারের বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন হাজী শরীয়তউল্লাহ ও তাঁর ছেলে দুদু মিয়া। তাঁদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধের জীবন্ত প্রমাণ এই এলাকাটি।
দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাস বা নিজস্ব পরিবহনে প্রথমে মাদারীপুর জেলা শহরে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহন (যেমন- ইজিবাইক, সিএনজি বা অটোরিকশা) ভাড়া করে সরাসরি সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে নীলকুঠিতে যাওয়া যায়।
ঐতিহাসিক এই স্থানটি বর্তমানে চরম অযত্ন ও অবহেলায় বিলুপ্তির পথে। কুঠির অনেক জমিই বেহাত হয়ে গেছে। ইতিহাসবিদ ও স্থানীয়দের দাবি, সরকার যেন দ্রুত এটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। তাই একজন দায়িত্বশীল পর্যটক হিসেবে স্থানটি পরিদর্শনের সময় এমন কিছু করবেন না, যাতে এই ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষের কোনো ক্ষতি হয়।
একদিন সময় বের করে ইতিহাসের এই জীবন্ত পাঠশালা থেকে ঘুরে আসতে পারেন। ইট-পাথরের এই জরাজীর্ণ দেয়ালগুলো হয়তো আপনাকে মনে করিয়ে দেবে আমাদের পূর্বপুরুষদের ওপর হওয়া ব্রিটিশদের অত্যাচার এবং সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের কথা।
Leave a Comment