জিন্দা পার্ক

Ratings
রেটিংস 5 (4 রিভিউ)

গন্তব্য যদি হয় খানিকটা দূরে, আর হাতে যদি থাকে সারা দিনের সময়, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন নারায়ণগঞ্জের জিন্দা পার্ক থেকে। ঢাকাতে সময় কাটানোর মতো অনেক পার্ক আছে,তবে নোংরামি ও অশ্লীলতার কারনে পার্কগুলোতে যেতে এখন মানুষের ভয় করে ৷ ঢাকার যানযট, কোলাহল থেকে কিছুক্ষনের জন্য মুক্তি পেতে হলে ঘুড়ে আসা উচিত জিন্দা পার্ক থেকে৷ অসাধারন স্থাপত্যশৈলীর ব্যাবহার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পার্কটিতে৷ পার্কটি কোন সরকারি উদ্যাগের ফসল নয়। আবার কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নির্মাণও নয়। পার্কটি তৈরী হয়েছে এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রাণান্ত অংশগ্রহনের মাধ্যমে। এলাকার ৫০০০ সদস্য নিয়ে “অগ্রপথিক পল্লী সমিতি” ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে। এ দীর্ঘ ৩৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ত্যাগের ফসল এই পার্কটি। এ রকম মহাউদ্দেশ্য, এত লোকের সক্রিয় অংশগ্রহন এবং ত্যাগ স্বীকারের উদাহারণ খুব কমই দেখা যায়। অপস ক্যাবিনেট, অপস সংসদ এবং অপস কমিশন নামে পার্কটিতে ৩টি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। বর্তমানে জিন্দা গ্রামটিকে একটি আদর্শ গ্রাম ও বলা হয়৷

পার্কটির অবস্থান নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। ১৫০ এখর জায়গা জুড়ে এটি বিস্তৃত। ২৫০ প্রজাতির ১০ হাজারের বেশী গাছ-গাছালী আছে পার্কটিতে। গাছের এই সমারোহ এর পরিবেশকে করেছে শান্তিময় সবুজ, কলকাকলীতে মুখর করেছে অসংখ্য পাখীরা। শীতল আবেশ এনেছে ৫ টি সুবিশাল জলাধার। তাই গরম যতই হোক পার্কের পরিবেশ আপনাকে দেবে শান্তির ছোঁয়া।

প্রবেশ টিকেট – ১০০ টাকা৷

ফ্যামিলি পিকনিকের জন্য জিন্দা পার্ক (Zinda Park) এখন বেশ পরিচিত জায়গা। কাঠের ব্রিজ পার হয়ে দিঘির মাঝামাঝি তৈরি করা বাঁশের টি রুমে বসে প্রিয়জনের সঙ্গে এক কাপ চা কিংবা জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকার সময়গুলো দারুণ উপভোগ করবেন। সঙ্গে গাড়ি না থাকলেও সমস্যা নেই। বাড়ি ফেরার জন্য পার্কের সামনেই পাবেন গাড়ি, সিএনজি। আর হ্যাঁ, পিকনিক করতে চাইলে দু-তিন দিন আগেই যোগাযোগ করুন। পিকনিকের খাবারের ব্যবস্থা পার্ক কর্তৃপক্ষই করে।

খাওয়া দাওয়া এর ব্যবস্থা

খাওয়ার জন্য পার্কের ভিতর মহুয়া স্ন্যাকস অ্যান্ড মহুয়া ফুডস রেস্টুরেন্ট আছে। ভাত/ভাজি/ডাল/মাংস ২০০/২৫০ টাকা। তবে পার্কে ঘুরা শেষে ৩০০ ফিট এসে খেলে ভালো হয়। ৩০০ ফিটে খাওয়া ভালো এবং খরচও কম হবে। তবে বাহিরে থেকে খাবার নিয়ে পার্কে যেতে চাইলে অতিরিক্ত ২৫/- জন প্রতি দিতে হবে।

থাকার ব্যবস্থা

জিন্দা পার্ক এ ঘুরতে ঘুরতে যদি কখনও মনে হয় যে রাতে থেকে যেতে পারলে মন্দ হতো না, সেক্ষেত্রেও কোন চিন্তার কারন নেই। কারন রাতে থাকার জন্যে আছে মহুয়া গেস্ট হাউজ।

জিন্দা পার্ক যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে জিন্দা পার্কের দূরত্ব ৩৭ কিঃ মিঃ। ঢাকা থেকে বাস যোগে কাঁচপুর ব্রীজ হয়ে ভূলতা গাওছিয়া হয়ে বাইপাস দিয়ে কাঞ্চন ব্রীজ হয়ে জিন্দা পার্কে আসা যায়। কাঞ্চন ব্রীজ থেকে ৫ মিনিটের হাটার পথ৷ অথবা ঢাকা হতে টঙ্গী মিরের বাজার হয়ে বাইপাস রাস্তা দিয়ে জিন্দা পার্ক আসা যায়, টঙ্গী হতে জিন্দা পার্কের দূরত্ব ২৮ কিঃ মিঃ। সহজ হবে কুড়িল বিশ্বরোড এর পুর্বাচল হাইওয়ে দিয়ে গেলে৷ লেগুনা তে জিন্দা পার্ক ৩০ টাকা নিবে ৷

জিন্দা পার্কের যোগাযোগের ঠিকানাঃ

ওয়েবসাইটঃ http://zindapark.com
ই-মেইলঃ shahin.swd007@gmail.com
ফোনঃ +৮৮০ ১৭১৬২৬০৯০৮, +৮৮০ ১৭১৫০২৫০৮৩, +৮৮০ ১৮১৬০৭০৩৭৭

View Direction

জিন্দা পার্ক এর ব্যাপারে ৪ টি রিভিউ দেয়া হয়েছে

  1. এক কথায় শান্তির নীড়

    কম খরচ এবং কম সময়ের মধ্যে ঘুরে আসার জন্য পারফেক্ট জায়গা। আমার মত যারা শহুরে পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত তাদের যায়গাটা ভালো লাগবে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  2. খুবই নিরিবিলি এবং মনোরোম পরিবেশে সারাটা দিন কাটানোর মত একটি জায়গা। চারদিকের কৃত্রিম লেক বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে পার্কটির শোভা। লেকের মাঝখানে সুসজ্জিত বাংলোটি আরও দারুন।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending