জিন্দা পার্ক

Ratings
রেটিংস ৪.৪৫ (১১ রিভিউ)

গন্তব্য যদি হয় খানিকটা দূরে, আর হাতে যদি থাকে সারা দিনের সময়, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন নারায়ণগঞ্জের জিন্দা পার্ক থেকে। ঢাকাতে সময় কাটানোর মতো অনেক পার্ক আছে,তবে নোংরামি ও অশ্লীলতার কারনে পার্কগুলোতে যেতে এখন মানুষের ভয় করে ৷ ঢাকার যানযট, কোলাহল থেকে কিছুক্ষনের জন্য মুক্তি পেতে হলে ঘুড়ে আসা উচিত জিন্দা পার্ক থেকে৷ অসাধারন স্থাপত্যশৈলীর ব্যাবহার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পার্কটিতে৷ পার্কটি কোন সরকারি উদ্যাগের ফসল নয়। আবার কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নির্মাণও নয়। পার্কটি তৈরী হয়েছে এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রাণান্ত অংশগ্রহনের মাধ্যমে। এলাকার ৫০০০ সদস্য নিয়ে “অগ্রপথিক পল্লী সমিতি” ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে। এ দীর্ঘ ৩৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ত্যাগের ফসল এই পার্কটি। এ রকম মহাউদ্দেশ্য, এত লোকের সক্রিয় অংশগ্রহন এবং ত্যাগ স্বীকারের উদাহারণ খুব কমই দেখা যায়। অপস ক্যাবিনেট, অপস সংসদ এবং অপস কমিশন নামে পার্কটিতে ৩টি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। বর্তমানে জিন্দা গ্রামটিকে একটি আদর্শ গ্রাম ও বলা হয়৷

জিন্দা পার্ক এর অবস্থান নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। ১৫০ এখর জায়গা জুড়ে এটি বিস্তৃত। ২৫০ প্রজাতির ১০ হাজারের বেশী গাছ-গাছালী আছে পার্কটিতে। গাছের এই সমারোহ এর পরিবেশকে করেছে শান্তিময় সবুজ, কলকাকলীতে মুখর করেছে অসংখ্য পাখীরা। শীতল আবেশ এনেছে ৫ টি সুবিশাল জলাধার। তাই গরম যতই হোক পার্কের পরিবেশ আপনাকে দেবে শান্তির ছোঁয়া।

প্রবেশ টিকেট – ১০০ টাকা৷

ফ্যামিলি পিকনিকের জন্য জিন্দা পার্ক (Zinda Park) এখন বেশ পরিচিত জায়গা। কাঠের ব্রিজ পার হয়ে দিঘির মাঝামাঝি তৈরি করা বাঁশের টি রুমে বসে প্রিয়জনের সঙ্গে এক কাপ চা কিংবা জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকার সময়গুলো দারুণ উপভোগ করবেন। সঙ্গে গাড়ি না থাকলেও সমস্যা নেই। বাড়ি ফেরার জন্য পার্কের সামনেই পাবেন গাড়ি, সিএনজি। আর হ্যাঁ, পিকনিক করতে চাইলে দু-তিন দিন আগেই যোগাযোগ করুন। পিকনিকের খাবারের ব্যবস্থা পার্ক কর্তৃপক্ষই করে।

খাওয়া দাওয়া এর ব্যবস্থা

খাওয়ার জন্য পার্ক এর ভিতর মহুয়া স্ন্যাকস অ্যান্ড মহুয়া ফুডস রেস্টুরেন্ট আছে। ভাত/ভাজি/ডাল/মাংস ২০০/২৫০ টাকা। তবে পার্কে ঘুরা শেষে ৩০০ ফিট এসে খেলে ভালো হয়। ৩০০ ফিটে খাওয়া ভালো এবং খরচও কম হবে। তবে বাহিরে থেকে খাবার নিয়ে পার্কে যেতে চাইলে অতিরিক্ত ২৫/- জন প্রতি দিতে হবে।

থাকার ব্যবস্থা

জিন্দা পার্ক এ ঘুরতে ঘুরতে যদি কখনও মনে হয় যে রাতে থেকে যেতে পারলে মন্দ হতো না, সেক্ষেত্রেও কোন চিন্তার কারন নেই। কারন রাতে থাকার জন্যে আছে মহুয়া গেস্ট হাউজ।

জিন্দা পার্ক যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে জিন্দা পার্ক এর দূরত্ব ৩৭ কিঃ মিঃ। ঢাকা থেকে বাস যোগে কাঁচপুর ব্রীজ হয়ে ভূলতা গাওছিয়া হয়ে বাইপাস দিয়ে কাঞ্চন ব্রীজ হয়ে জিন্দা পার্কে আসা যায়। কাঞ্চন ব্রীজ থেকে ৫ মিনিটের হাটার পথ৷ অথবা ঢাকা হতে টঙ্গী মিরের বাজার হয়ে বাইপাস রাস্তা দিয়ে জিন্দা পার্ক আসা যায়, টঙ্গী হতে জিন্দা পার্কের দূরত্ব ২৮ কিঃ মিঃ। সহজ হবে কুড়িল বিশ্বরোড এর পুর্বাচল হাইওয়ে দিয়ে গেলে৷ লেগুনা তে জিন্দা পার্ক ৩০ টাকা নিবে ৷

জিন্দা পার্কের যোগাযোগের ঠিকানা

ওয়েবসাইটঃ http://zindapark.com
ই-মেইলঃ shahin.swd007@gmail.com
ফোনঃ +৮৮০ ১৭১৬২৬০৯০৮, +৮৮০ ১৭১৫০২৫০৮৩, +৮৮০ ১৮১৬০৭০৩৭৭

View Direction

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending

  1. ঢাকার যানজট আর কোলাহল ছাড়িয়ে নিস্তব্ধ সবুজের মাঝে কান পেতে শুনুন পাখির কলতান যেখানে রয়েছে প্রকৃতি আর স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব সমন্বয়।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  2. ১০০% হালাল ও উৎকৃষ্ট পরিবেশ

    আসলে পার্কটির নাম কেন জিন্দা পার্ক এটা পার্কে না গেলে কখনো বোঝা যাবেনা। পার্কের প্রত্যেকটা জিনিসই যেন জীবন্ত, আপনি পার্কে ঢোকার পর একেক জায়গায় একেক রকম অনুভূতি পাবেন। ভিতরে অনেক প্রজাতির গাছপালা থাকার কারণে পার্কের পরিবেশ হয়ে উঠেছে মনোরম আর ভিতরের লাইব্রেরী, স্কুল, মসজিদ, মাটির ঘরের ডিজাইন ছিল দেখার মত।

    যারা ঢাকায় অক্সিজেনের চাইতে কার্বন ডাই অক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইড বেশি গ্রহণ করেন, যারা সারাদিন কোলাহলের ভিতর থাকেন তাদের জন্য বুক ভরে শ্বাস নেয়ার আর কোলাহল মুক্ত থাকার পারফেক্ট জায়গা এটি। পরিবার নিয়ে আসার জন্য একদম আদর্শ জায়গা, আদর্শ জায়গা বললাম এই কারণেই কারণ এখনকার পার্কগুলোতে গেলেই দেখা যায় নোংরামি কিন্তু এই পার্ক ১০০% হালাল এবং পরিবেশ উৎকৃষ্ট।

    ভিতরে খাওয়ার জন্য একটা হোটেল আছে কিন্তু খরচ অনেক বেশি। বাইর থেকেও খাবার নিয়ে যেতে পারেন তবে এর জন্য আলাদা করে ২৫ টাকা দিতে হবে। মোটরসাইকেল, কার, মাইক্রো পার্কিং এর সুব্যবস্থা আছে পার্কের বাইরেই।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  3. খুবই সুন্দর একটি জায়গা আড্ডা প্রেমী, খাদ্য প্রেমি, ভ্রমন প্রেমী মানুষ গুলোর জন্য। ভিতরে খুব সুন্দর ভাবে সাজানো গুছানো প্রত্যেকটি স্থাপনা। স্কুল,খেলার মাঠ, মসজিদ, লাইব্রেরী, গেস্ট হাউস, লেক,গাছ ঘর। কোনো কিছুরই কমতি ছিলোনা পার্ক এর ভিতরে। সারাদিন রিলেক্স এ কাটানোর মত একটা জায়গা। ৪,৫ জনের গ্রুপ এ গেলে বেশি মজা।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  4. সবুজ ছায়াঘেরা পরিবেশ মুগ্ধ করবে। যারা একদিনের ট্যুর পছন্দ করেন তাঁদের উপযোগী বেড়ানোর জায়গা।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  5. আমি পরিবার নিয়ে গিয়েছিলাম। ১০০ টাকার টিকেটের তুলনায় তেমন কোন সার্ভিস বা সুবিধা নেই। লেকের পাড়ে নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চের সুবিধা। ভাসমান সেতুটাও নাজুক। আমরা থাকা অবস্থায় আইল্যান্ডের কাছটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো।

    বাচ্চাদের জন্যে খেলার তেমন কিছু চোখে পড়েনি, একটা দোলনা দেখেছিলাম। এগুলো বাড়ানো উচিত বলে মনে হয়েছে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  6. ১০০ টাকা একটু বেশিই হয়ে যায়।

    সুন্দর, তবে ঢাকার বাহিরে এ ধরনের জায়গায় ১০০ টাকা একটু বেশিই হয়ে যায়।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  7. খুবই নিরিবিলি এবং মনোরোম পরিবেশে সারাটা দিন কাটানোর মত একটি জায়গা। চারদিকের কৃত্রিম লেক বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে পার্কটির শোভা। লেকের মাঝখানে সুসজ্জিত বাংলোটি আরও দারুন।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  8. এক কথায় শান্তির নীড়

    কম খরচ এবং কম সময়ের মধ্যে ঘুরে আসার জন্য পারফেক্ট জায়গা। আমার মত যারা শহুরে পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত তাদের যায়গাটা ভালো লাগবে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না