স্বপ্নের সান্দাকফু, ফালুট ভ্রমণ

যুক্ত করা হয়েছে

সেই জানুয়ারি থেকে সান্দাকফু, ফালুট যাব যাব করেও দিনটা আর ঠিক হচ্ছিল না, যখন হল তখন আমি আবার ভুটানের পোগ্রাম করে বসে আছি। তাই ভুটান ঘুরে এসে আর বাড়ি ফিরলাম না, একরাত শিলিগুড়িতে থেকে গেলাম পরদিন ৭ই জুন আমার ১২ জনের টিম এসে হাজির, শুরু হল সান্দাকফু যাত্রা।

সান্দাকফু

প্রথমে মিরিক হয়ে মানেভঞ্জন, ওখানে গাড়ি বদল করে ল্যান্ড রোভারে সওয়ার হয়ে চললাম লক্ষ্যে। পথে পড়ল চিত্রে। নামের সার্থকতা আছে সত্যিই ছবির মত। তারপর মেঘমা যেন মেঘের দেশ।

মেঘমা

প্রথম দিন আমাদের রাত্রিবাস টুংলা। ডরমেটরিতে একটু কষ্ট করে থাকা তবে আনন্দ আছে। কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে গেল আবহাওয়ার জন্য। টিপটিপ করে বৃষ্টি আর চারিদিক মেঘে ঢাকা। পরদিন সকালেও তাই। এখান থেকে কাঞ্চন জঙ্ঘা অধরাই থেকে গেল।

বেলা ১১টায় আবার যাত্রা শুরু করলাম। গৈরিবাস পর্যন্ত রাস্তা খূবই ভাল, কিন্তু তারপর যে রাস্তা পেলাম দুঃস্বপ্ন, সিটে বসে থাকতে পারছিনা, বোল্ডার বিছানো রাস্তা তার সাথে চালছে তুমুল বৃষ্টি দুহাত দূরে কিছু দেখা যাচ্ছেনা। প্রাণ হাতে করে এগুচ্ছি। সান্দাকফুর কাছাকাছি এসে বৃষ্টি থামলো এবং ঝলমলে রোদ উঠে গেল। সাথে সাথে অদ্ভুত পরিবর্তন আকাশ যেন হেসে উঠল আর বাঁকের ফাঁকে ফাঁকে কাঞ্চন জঙ্ঘা উঁকি দিতে লাগল। কিছুক্ষন আগেই এই দুর্গম রাস্তায় আসার জন্য আমরা যারা নিজেদের দোষ দিচ্ছিলাম তারাই ভাবতে লাগলাম না আসলে কি জিনিস দেখা থেকে বঞ্চিত থাকতাম। সান্দাকফু পৌঁছেই প্রথমেই ছুটলাম ভিউ পয়েন্টের দিকে।

সান্দাকফু

২৭০ ডিগ্রি খোলা জায়গা থেকে যেন হাত বাড়ালেই কাঞ্চন জঙ্ঘা সহ ঘুমন্ত বুদ্ধ, দূরে এভারেস্ট, মাকালু, লোৎসে প্রাণ ভরে দেখলাম , পথের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। পরদিন সকালেও একই দৃশ্য আরও ভালো ভাবে।

সান্দাকফু

তারপর যাত্রা শুরু ফালুটের উদ্দেশ্যে। ২১ কিমি, এবার রাস্তা আরো খারাপ, কষ্ট না করলে তো কেষ্ট মেলেনা তাই এগিয়ে চললাম। পথে কিছু পহেলগামের আরু ভ্যালির মত ভ্যালি পড়ল, অপূর্ব তার দৃশ্য। বিকালে পৌঁছালাম ফালুট। অন্য জায়গায় তবু সোলার লাইট পেয়েছিলাম। এখানে তাও নাই মোমবাতি ভরসা। কিছুক্ষন পর শুরু হল তীব্র ঠান্ডা হাওয়ার কামড়। রাতের দিকে তাপমাত্রা সম্ভবত ২-৩ এ পৌঁছে গেল।

পরদিন ভোরে সেই মাহেন্দ্র ক্ষণ এক ঘন্টা ট্রেক করে মাত্র ৬ জন পৌঁছালাম ফালুট টপ এ । যা দেখিলাম জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিবনা। ৩৬০ ডিগ্রি খোলা জায়গা থেকে সমস্ত শৃঙ্গ গুলিকে মনে হচ্ছে হাত বাড়ালেই ধরা যাবে। প্রাণ ভরে সেই দৃশ্য মনে এবং মোবাইলে ধরে রাখলাম।

সান্দাকফু