উত্তরবঙ্গে ঝটিকা অভিযান – একটি ভ্রমণ কাহিনী

যুক্ত করা হয়েছে

অনেকদিন ধরে দাপ্তরিক আর ব্যাক্তিগত কাজের চাপে কোথাও যাওয়া হচ্ছিল না। একুশে ফেব্রুয়ারির গা লাগিয়ে দুই দিন ছুটি পেয়েই ভোঁ দৌড়। প্রথমেই ঢাকার কমলাপুর রেলষ্টেশন থেকে সন্ধ্যা বেলা চড়ে বসলাম নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে।

নীলসাগর এক্সপ্রেস (স্নিগ্ধা শ্রেণী)
নীলসাগর এক্সপ্রেস (স্নিগ্ধা শ্রেণী)

প্রায় দশ ঘণ্টার রাত্রিকালীন যাত্রা শেষে দিনাজপুর রেলষ্টেশনে নেমে পাবনা সুইটসে নাস্তা সেরে অটো নিয়ে প্রথমেই চলে যাই রামসাগর দীঘি দর্শনে।

রামসাগর দীঘি
রামসাগর দীঘি

রামসাগর দীঘি, পুরাতন রাজবাড়ির ভগ্নাবশেষ আর মিনি চিড়িয়াখানা দেখা শেষ হলে আবারো অটোতে করে জমিদার বাড়ির দিকে রওনা করি।

দিনাজপুর জমিদার বাড়ি
দিনাজপুর জমিদার বাড়ি
জমিদার বাড়ি সংলগ্ন হিন্দু মন্দির
জমিদার বাড়ি সংলগ্ন হিন্দু মন্দির
রামকৃষ্ণ মিশন, দিনাজপুর
রামকৃষ্ণ মিশন, দিনাজপুর

সেখানে জমিদার বাড়ি, মন্দির আর আশ্রমটা ঘুরে দেখি। সেখান থেকে দিনাজপুর শহরে ফেরার পথে রামকৃষ্ণ মন্দিরটাও দেখা হয়ে যায়। আমার পরবর্তী গন্তব্য কান্তজীর মন্দির দেখার জন্য যেতে হবে কাহারোল।

কান্তজীর মন্দির
কান্তজীর মন্দির

দিনাজপুর জেলা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে কাহারোল মোড়ে নেমে গেলাম। সেখান থেকে ভ্যানে করে কান্তজীর মন্দির। মন্দিরের প্রবেশপথে ইট বিছানো রাস্তা আর কিছুক্ষণ পর পর বসার ছাউনি। প্রায় সাতশত বছর পুরনো এই মন্দিরটাই নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচাইতে বেশি কারুকার্যখণ্ডিত মন্দির। কাহারোল থেকে বের হয়ে বারো মাইল মোড়ে এসে রংপুরের বাস ধরলাম। রংপুর পৌছাতে পৌছাতে দুপুর হয়ে গেল। নেমে প্রথমেই খাওয়া দাওয়া শেষ করে মেডিকেল মোড় থেকে অটো নিয়ে তাজহাঁট জমিদার বাড়ি

তাজহাঁট জমিদার বাড়ি (বর্তমানে কোর্ট), রংপুর
তাজহাঁট জমিদার বাড়ি (বর্তমানে কোর্ট), রংপুর

সেখানে মিনিট বিশেক থেকে কিছুক্ষণ ঘুরেফিরে ছবি তুলে আবার জেলা বাস ষ্টেশনে ফীরে আসি। সেখান গাইবান্ধার সরাসরি বাস না পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ হয়ে গাইবান্ধা পৌছাই। সেদিন রাতটা গাইবান্ধাতেই থাকি। পরদিন ঘুম থেকে উঠে সকাল সকাল বালাশি ঘাট চলে যাই। বালাশি ঘাটে ঘণ্টাদুয়েক কাটিয়ে নাস্তা সেরে সদরের পথ ধরি। পথিমধ্যে পরে গাইবান্ধা ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার।

Friendship Centre, Gaibandha
ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার, গাইবান্ধা

ট্রেনিং চলছিলো বলে প্রথমে ঢুকতে দিতে রাজি না হলেও পরে অবশ্য ভেতরে ঢুকে কিছু ছবি তুলতে পেরেছিলাম। সত্যি দারুণ একটা জায়গা। সময়, সাধ্য আর প্রাপ্যতা থাকলে আগামীতে অবশ্যই এখানে এক রাত থেকে যাব। সেখান থেকে জেলা পৌর পার্ক ঘুরে দেখে বাসে করে চলে যাই বগুড়া।

শিববাড়ি বাসস্ট্যান্ডে নেমে পায়ে হেটে চলে যাই মহাস্থানগড়। একে একে এই হাজার বছর পুরনো শহরের অংশবিশেষ ঘুরে দেখে শেষে গেলাম লক্ষ্মীন্দর আর বেহুলার বাসরঘর খ্যাত এলাকায়।

 

বেহুলা ও লক্ষিন্দরের বাসরঘরের ভগ্নাবশেষ
বেহুলা ও লক্ষিন্দরের বাসরঘরের ভগ্নাবশেষ

সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে অটো আর বাসের সমন্বয়ে রাত দশটায় চাপাইনবাবগঞ্জ শহরে পৌছাই। দ্বিতীয় রাতটা সেখানেই কাটে।

তার পরদিন প্রথমেই যে জিনিসটা ঘটে তা হোল আমার ফোন নষ্ট হয়ে যাওয়া। কোনও ক্যামেরা সাথে না থাকায় ফোনটাই ছিল মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দী করার একমাত্র উপায়। এছাড়া রিসার্ভ ফান্ড বিকাশে রাখার সিদ্ধান্তেরও ফলটাও ভোগ করতে হোল বেশ ভালোভাবে। হোটেল থেকে বের হয়ে আবারো অটো আর বাসের সমন্বয়ে চলে গেলাম সোনা মসজিদ এলাকায়। মোঘল সাম্রাজ্যের অনন্য স্থাপত্য কীর্তি দেখা শেষ করে দেখতে গেলাম বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধিস্থল দেখতে। এরপর খঞ্জনদীঘির মসজিদ দেখে চাপাইনবাবগঞ্জ হয়ে পুঠিয়া পৌছাই। পুঠিয়া শিবমন্দির আর রাজবাড়ী দেখার পর সন্ধ্যা নামার আগেই নাটোর পৌছাই। সেদিন রাতটা নাটোরের মাদ্রাসা মোড়ের মিল্লাত হোটেলে ছিলাম।

পরদিন সকালে উঠে প্রথমেই গেলাম হাওয়া মহল দেখতে। হাওয়া মহল দেখে এসে নাটোরের রাজবাড়ী দেখা শেষ হতে হতে দুপুর গড়িয়ে গেল। তারপর খাওয়াদাওয়া শেষে বিকাল চারটার গাড়ীতে রাজশাহী থেকে রওনা করে রাত এগারোটায় ঢাকা পৌঁছে যাত্রার সমাপ্তি।

পুরা ট্রিপটা শেষ করতে পাঁচ হাজার টাকার কিছু বেশি লেগেছিল। ট্রিপটা করার জন্য আমাকে মূলত অনুপ্রাণিত করেছিলেন খিয়’র রাজু ভাই। এছাড়াও ইলিয়াস ভাই, ট্রাষ্ট ব্যাংক চাপাইনবাবগঞ্জ ব্রাঞ্চের সোবহান সাহেব, আমার প্রিয় বন্ধু মাহমুদ এবং ইশতিয়াক বিশেষভাবে ধন্যবাদ পাবার অধিকার রাখেন। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।