পানাম নগর

Ratings
রেটিংস ৪.৬৭ ( রিভিউ)

পানাম নগর পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি যা নারায়ঙ্গঞ্জ জেলার সোনারগাঁও এ অবস্থিত। পানাম বাংলার প্রাচীনতম শহর। এক সময় ধনী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বসবাস ছিল এখানে। ছিল মসলিনের জমজমাট ব্যবসা। প্রাচীন সেই নগরীর তেমন কিছু আর অবশিষ্ট নেই। এখন আছে শুধু ঘুরে দেখার মতো ঐতিহাসিক পুরনো বাড়িগুলো। World Monument Fund ২০০৬ সালে পানাম নগরকে বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় প্রকাশ করে। ঈসা খাঁ এর আমলের বাংলার রাজধানী পানাম নগর। বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর -প্রাচীন সোনারগাঁর এই তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূইয়াঁদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। ঢাকার খুব কাছেই ২৭ কি.মি দক্ষিণ-পূর্বে নারায়নগঞ্জ এর খুব কাছে সোনারগাঁতে অবস্থিত এই নগর। সোনারগাঁর ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই নগরী গড়ে ওঠে। ঐতিহাসিকভাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। জানা যায়, ১৪০০ শতাব্দীতে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় যেখানে পৃথিবীর নামি-দামি শিক্ষকরা পড়াতে আসতেন। এখানে একটি ভৃত্য বাজার ছিল বলে জানা যায়।

পানাম নগরী (Panam City) এর দুই ধারে ঔপনিবেশিক আমলের মোট ৫২টি স্থাপনা রয়েছে। এর উত্তরদিকে ৩১টি এবং দক্ষিণদিকে ২১টি স্থাপনা অবস্থিত। স্থাপনাগুলোর স্থাপত্যে ইউরোপীয় শিল্পরীতির সাথে মোঘল শিল্পরীতির মিশ্রণ লক্ষ করা যায়। পানাম নগরী নিখুঁত নকশার মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কূপসহ আবাস উপযোগী নিদর্শন রয়েছে। নগরীর পানি সরবরাহের জন্য দুপাশে খাল ও পুকুরের অবস্থান লক্ষ করা যায়। এখানে আবাসিক ভবন ছাড়াও উপাসনালয়, গোসলখানা, পান্থশালা, দরবার কক্ষ ইত্যাদি রয়েছে। পানাম নগরের আশে পাশে আরো কিছু স্থাপনা আছে যেমন- ছোট সর্দার বাড়ি, ঈশা খাঁর তোরণ, নীলকুঠি, বণিক বসতি, ঠাকুর বাড়ি, পানাম নগর সেতু ইত্যাদি। এখানে আরো আছে চমৎকার একটি লোকশিল্প যাদুঘর।

পানাম সিটি যাওয়ার উপায়

ঢাকা হতে পানাম নগর এর মোট দূরত্ব ২৭ কি.মি যা সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘর হতে ০.৫ কি.মি. উত্তরে অবস্থিত। যে কেউ প্রাইভেটকার অথবা মাইক্রোবাস নিয়ে সরাসরি পানাম নগর যেতে পারবেন। আর যদি বাসে যেতে চান তাহলে গুলিস্তান থেকে বাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় এসে নামতে হবে। সেখান থেকে রিকশা/অটোরিক্সাযোগে পানাম সিটি যেতে হবে। মোগড়াপারা বাসষ্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২কি:মি: অভ্যন্তরে পানাম নগরী। সুতরাং যে কেউ বাস, মিনিবাস বেবিট্যক্সি, মোটর সাইকেলসহ যেকোনো ধরনের বাহনেই সেখানে যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

ঢাকার আশে পাশে হবার কারনে আপনি দিনে যেয়ে দিনেই ফিরতে পারবেন, তাই ওখানে থাকার চিন্তা না করলেও হবে। এরপরও যদি আপনি নারায়নগঞ্জে রাত্রিযাপন করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে নারায়নগঞ্জ সদরে এসে হোটেল নিতে হবে। এই লিঙ্কে কিছু নারায়নগঞ্জে থাকার হোটেলের ঠিকানা পাবেন।

View Direction

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending

  1. ভ্রমণ বিলাসীরা চাইলেই এক দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে যেয়ে ঘুরে আসতে পারেন। জায়গাটি অত্যন্ত দারুন। খুব একটা ভীড় না থাকার কারনে ভালো ভাবে ঘুরতে পারবেন, জায়গাটাকে উপভোগ করতে পারবেন। খরচও কিন্তু বেশি না, হাতের নাগালেই 😊

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  2. পানাম সিটি ঘোরা শেষে গেট থেকে বের হয়ে ডান দিকে আরেক কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রীজ দেখে আসতে পারেন, সচরাচর এমন ব্রীজ কোত্থাও চোখে পড়বে না। এছাড়া আপনি যদি কোলাহলমুক্ত পানাম নগরী ঘুরে দেখতে চান তাহলে একটু সকালের দিকে যেতে হবে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভিড় বাড়ে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  3. পানাম নগর নিঃসন্দেহে পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান, যদিও বিদেশি পর্যটকদের ঘোরার জন্য এখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  4. টিকেট মূল্য

    বাংলাদেশীদের জন্যে টিকেট মূল্য ১০০ টাকা আমার কাছে অনেক বেশী মনে হয়েছে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  5. পানাম সিটি

    এগুলোর যত্ন নিলে আরও অনেক সুন্দর লাগত। আমরা না হয় ভবনটা দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু এই রকম অবহেলা চলতে থাকলে, অদূর ভবিষ্যতে এর ইটও খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  6. ঐতিহ্যের পানাম সিটি

    পানাম নগর আমাদের ঐতিহ্য বহন করছে কিন্তু এগুলো রক্ষানাবেক্ষন করার জন্য কোন উদ্যোগ নেই।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না