নয় গম্বুজ মসজিদ

Ratings
রেটিংস 0 (0 রিভিউ)

নয় গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাটে অবস্থিত জীন্দাপীর মসজিদের দক্ষিণদিকে এবং ঠাকুরদীঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। নয় গম্বুজ মসজিদ ১৫ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। এটি ঠাকুর দিঘি নামে পরিচিত একটি দিঘীর পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এই মসজিদটির কাছেই খান জাহান আলীর মাজার রয়েছে। প্রথাগতভাবেই মসজিদটির পশ্চিম দিকের দেয়াল মক্কার দিকে মুখ করে আছে এবং এই দেয়ালের ভেতরের অংশেই বসানো হয়েছে মিহরাব। পশ্চিম দিকের দেয়ালে মিহিরাবের চারপাশে ফুলের নকশার টেরাকোটা দেখা যায়। মসজিদটির চারটি কোণায় মিনার বা সুউচ্চ গোলাকার টাওয়ার আছে। পুরো মসজিদের গায়ে পোড়ামাটির কারুকাজ খচিত। মসজিদের দেয়ালগুলো বিশাল একটি গম্বুজ ধারণ করে যার চারপাশে আটটি অপেক্ষাকৃত ছোট গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের ভিতরে দুসারি পাথরের থাম দিয়ে মোট নয়টি চৌকো খন্ডে বিভক্ত। প্রতিটি খন্ডের উপর মসজিদের ছাদের নয় নয় গম্বুজ নির্মিত। সামনের দিকে ৩টি মাঝে ৩টি এবং পেছনের দিকে ৩টি মোট নয়টি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজগুলি ধারাবাহিকভাবে সাজানো যাতে যেদিক দিয়েই দেখা হোক না কেন মনে হবে প্রতিটি গম্বুজের একটি গম্বুজ থেকে আরেকটি গম্বুজের দূরত্ব সমান। পশ্চিমের কিবলা দেয়ালে নির্দিষট দূরত্ব পরপর একটি করে মোট ৩টি অবতল মিহরাব আছে। মসজিদের সামনের দিকে মোট ৩টি দরজা রয়েছে।

মসজিদটির কাছেই জিন্দা পীর মসজিদ এবং মাজার রয়েছে।

কিভাবে যাবেনঃ

ঢাকার সায়দাবাদ থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এবং সন্ধা ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত অনেকগুলা গাড়ী ছেড়ে যায় – মেঘনা (০১৭১৭১৭৩৮৮৫৫৩), বনফূল, পর্যটক (০১৭১১১৩১০৭৮), ফাল্গুনী, আরা, বলেশ্বর, হামিম ও দোলা।

এছাড়া গাবতলী থেকে সোহাগ (০১৭১৮৬৭৯৩০২), শাকুরা (০১৭১১০১০৪৫০), হানিফ ও ইগল পরিবহন ছেড়ে যায়। ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। যাতায়াতে সময় লাগে প্রায় ৭ ঘন্টা।

আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেসে খুলনা গিয়ে এরপর বাস ধরে বাগেরহাটে যেতে পারেন। রূপসা থেকে বাগেরহাটে যেতে প্রায় ৪০ মিনিট লাগে।

বাগেরহাট শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং খুলনা শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে খানজাহান আলী (রহ.)সমাধিসৌধ অবস্থিত। খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়ক থেকে ৩০০ গজ দূরে এর অবস্থান। বাস থেকে নেমে এটুকু পথ আপনাকে হেঁটে যেতে হবে। নয় গম্বুজ মসজিদটি খান জাহান আলী দিঘীর পশ্চিমে অবস্থিত। মাজারের ডান পাশ দিয়ে যেতে হয়।

কোথায় থাকবেনঃ

বাগেরহাট সদরে বিভিন্ন হোটেল আছে । এছাড়াও সরকারি গেস্টহাউস আছে। এখানে রেল রোডে অবস্থিত মমতাজ হোটেলে থাকতে পারেন। এই হোটেলটিতে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান মোটামোটি ভাল এবং খরচও একটু বেশি। এছাড়া এই হোটেলের আশেপাশে থাকার জন্য আরো কিছু হোটেল রয়েছে। তাছাড়া খান জাহান আলীর মাজারের সামনে মেইন হাইওয়েতে থাকতে পারবেন হোটেল অভিতে। ভাড়া ৪০০ টাকা। ফোন: ০১৮৩৩৭৪২৬২৩।

এছাড়া বাগেরহাটে থাকার জন্যে হোটেলের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন (০৪৬৮-৬৩১৬৮, ০১৭১৮৬৯২৭৩৭, এসি দ্বৈত কক্ষ ১ হাজার টাকা, নন এসি কক্ষ ১শ’ থেকে ৪শ’ টাকা) এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা (০৪৬৮-৬৩০৭৫, ০১৭২২৮৫৮৩১৩, ১শ’ থেকে ৪শ’ টাকায় নন এসি কক্ষ) আছে।

খুলনা থেকে বাগেরহাটে আসতে সময় ১ ঘণ্টা লাগার কারনে খুলনাতেও থাকা যায়।

View Direction

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending