শশী লজ

Ratings
রেটিংস ( রিভিউ)

মহারাজা শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর অপূর্ব সৃষ্টি শশী লজ। যা ময়মনসিংহের রাজবাড়ী নামেও সমাধিক পরিচিত। শশী লজ (Shoshi Lodge) এর মূল ফটক থেকে ভিতরে ঢোকার সময় সম্মুখ চত্ত্বরে মার্বেল পাথরের তৈরি গ্রীক দেবী ভেনাস যেন দু হাতে স্বাগত জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে আছে। ৯ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই রাজবাড়ীর আদি প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী। দুই তলা বিশিস্ট এই ভবনটি তার পুত্র শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর নামে নামকরন করা হয় শশী লজ। বিখ্যাত এই ভবনটি ১৮৯৭ সালে গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্পের ফলে পুরা বিধ্বস্ত হয়ে যায়। একই স্থানে তার দত্তক পুত্র মহারাজা শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী ১৯০৫ সালে নতুন করে শশীলজ নির্মান শুরু করেন। ১৯১১ সালে শশী লজের সৌন্দর্যবর্ধনে তিনি সম্পন্ন করেন আরও কিছু সংস্কারকাজ। বর্তমানে শশীলজ ভবনটি ময়মনসিংহ মহিলা টির্চাস ট্রেনিং কলেজ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শশীলজ এর সেই আগের শ্রী না থাকলেও ধরে রেখেছে এর আগের ঐতিহ্য।

১৮টি বিশাল বিশাল ঘর নিয়ে শশী লজ। বারান্দা ও করিডোর নিয়ে ভবনটি ৫০,০০০ বর্গ ফুটের কম হবে না। পুরো ভবনের ফ্লোর মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত। ছাদে উঠার জন্য একটি কারুকাজ খচিত লোহার প্যাঁচানো সিঁড়ি আছে। পুরো ভবনে রানিং ওয়াটারের লাইন টানা আছে। ভবনের ভেতরে আধুনিক টয়লেটও আছে। ভবনটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এর অনেক কিছুই এখনও নষ্ট হয়নি।

পেছনে রয়েছে পাড় বাঁধানো পুকুর। পুকুর পাড়ে হাওয়া খাওয়ার জন্য দ্বিতল ছোট্ট ভবন। সিঁড়িটা বেশ বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত। প্রতি তলায় দুই পাশে কমোড লাগানো ২টি করে টয়লেট। এখন আর কমোড নেই। কিন্তু পাইপ, পানির কলের লাইন, কমোডের লাইন এখনও আছে। পুকুরের বাঁধানো সিঁড়ির দুপাশ দিয়ে পুকুরের বেশ কিছুটা ভেতরে ২টি গোল স্তম্ভ। মার্বেল পাথরে মোড়া এ স্তম্ভ দেখে মনে হয় এককালে এখানে বসে গায়ে হাওয়া লাগানো হতো। পুকুর পাড়েই গোলাকৃতির একটি কাপড় পরিবর্তনের ঘর রয়েছে। লজের চারপাশে এখনও কিছু বিশদাকায় বৃক্ষ কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। সেই ১০০ বছরেরও অধিকাল আগের নির্মিত সীমানা প্রাচীর আজও প্রায় অটুট আছে।

কিভাবে যাবেন

সড়ক ও রেলপথ দুই মাধ্যমেই ভ্রমণে যেতে পারেন ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে। ঢাকার মহাখালী থেকে লোকাল ও গেটলক দুই ধরনের বাস ছাড়ে। বাস থেকে নামবেন মাসাকান্দা বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে অটোতে বা রিকশায় চলে যেতে পারবেন শশীলজ। এছাড়া ময়মনসিংহ শহরের বড় বাজারে অবস্থিত এই শশীলজে শহরের যে কোন প্রান্ত থেকেই রিক্সা/অটো নিয়ে যাওয়া যায়। স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দিবে এক কালের বিখ্যাত এই ভবনটি।

ঢাকা থেকে ট্রেনে ময়মনসিংহ ভ্রমণ করতে চাইলে তিস্তা এক্সপ্রেস (সকাল ৭ঃ৩০), মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (দুপুর ২ঃ২০), যমুনা এক্সপ্রেস (বিকেল ৪ঃ৪০), ব্রহ্মপুত্র (সন্ধ্যা ৬ঃ০০) এবং হাওর এক্সপ্রেস (রাত ১১ঃ৫০) এইসব ট্রেনের যে কোনটায় আপনার সময় ও পছন্দমত ট্রেনে সরাসরি ময়মনসিংহ যেতে পারবেন। শ্রেণীভেদে ভাড়া ১২০ থেকে ৩৬০ টাকা। যেতে সময় লাগবে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। রেলস্টেশন থেকে ২০-২৫ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়েই শশী লজ যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

থাকার দরকার পড়ে না। দিনে গিয়ে দিনেই আসা যায়। তবুও খাকতে চাইলে শহরে বেশ কিছু হোটেল রয়েছে। ভালো, মাঝারি ও সস্তা সব ধরনের হোটেলই পাবেন। সুবিধা মতো যে কোনো একটি বেছে নিবেন।

শহরের যানবাহন

শহরের মধ্যে চলাচলের জন্য রয়েছে রিকশা, ব্যাটারি চালিত অটো, টেম্পো, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস। শহরে রিকশা ও অটো একটু বেশি থাকায় যানজট একটু বেশি।

View Direction

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending