মহেড়া জমিদারবাড়ি

Ratings
রেটিংস ৩.৫ ( রিভিউ)

মহেড়া জমিদারবাড়ি টাঙ্গাইল সদর  থেকে প্রায় ১৮ মাইল পূর্বে ও ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে আট একরজুড়ে বিস্তৃত। মহেড়া জমিদারবাড়ি সভ্যতা আর ঐতিহ্যের এক অমূল্য নিদর্শন। এতো সুন্দর ও সযত্নে সংরক্ষিত জমিদারবাড়ি এদেশে দ্বিতীয়টি নেই বললেই চলে। সঙ্গে আছে ছোট পার্ক, চিড়িয়াখানা, বোট রাইড আর পিকনিক স্পট। ঢাকা থেকে দিনে দিনেই ঘুরে আসা যায় এ জমিদারবাড়ি থেকে।

প্রধান ফটক দুটি। এ ছাড়া এই জমিদারবাড়িতে রয়েছে বিশাল তিনটি প্রধান ভবন। সঙ্গে রয়েছে কাছারিঘর, নায়েব সাহেবের ঘর, গোমস্তাদের ঘর, দীঘি আর তিনটি লজ। বাড়ীর সামনেই আছে বিশাল এক দীঘি নাম বিশাখা সাগর। ভবন গুলোর পিছনে আছে পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর নামে দুইটা পুকুর।

চৌধুরী লজ – প্রথমেই এ ভবন চোখে পড়ে। এর ছাদের দেয়ালটি অপূর্ব কারুকার্যম-িত। সামনে রয়েছে বিশাল সবুজ মাঠ। একটি শহীদ মিনারও চোখে পড়ে, যা পরে সংযোজিত হয়েছে। রোমান ধাঁচে নির্মিত এই ভবন মিষ্টি গোলাপি রঙের।

আনন্দ লজ – সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই ভবনের সামনে রয়েছে বিশাল বাগান আর সিংহদ্বার। বাগানে বাঘ, হরিণ আর বিভিন্ন পশু-পাখির মূর্তি রয়েছে। সেই আমলে জমিদাররা পশু-পাখি পুষতেন। সেই স্মৃতিতেই বুঝি মূর্তিগুলো বানানো।

মহারাজ লজ- সাদা ও নীলের কম্বিনেশনে এই লজ সর্ববৃহৎ স্থাপনা। এতে ১২টি কক্ষ রয়েছে।  আছে ঝুলন্ত বারান্দা, যা শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আরো আছে মহারাজ লজ, কালীচরণ লজ, রানী মহল। কালীচরণ লজের সামনেই ছিল পূজামণ্ডপ, যার সামনে বসে পূজা করতেন জমিদাররা।

পুরো বাড়িতে পুলিশ ট্রেনিং একাডেমির কার্যক্রম চলে, তাই অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হয়।

টিকেট মূল্য

মহেড়া জমিদার বাড়িতে (Mohera Jamidar Palace) প্রবেশ মূল্য ৮০ টাকা। বোট রাইডে চড়তে হলে দরদাম করে নেবেন। ছুটির দিন থাকলে দাম বেড়ে যায় অনেক গুণ।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার মহাখালী বাস স্টেশন থেকে বিনিময়, নিরালা, ধলেশ্বরী, ঝটিকা ইত্যাদি বাস যায় টাঙ্গাইল। ভাড়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। এসব বাসে চড়ে নাটিয়াপাড়া বাসষ্ট্যান্ডে নেমে অপেক্ষ্যমান সিএনজি বেবীটেক্সীযোগে (ভাড়া ৭৫ টাকা, শেয়ারে জন প্রতি ১৫ টাকা) ০৩ কিঃমিঃ পূর্ব দিকে মহেড়া জমিদার বাড়ি । মহাসড়কে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, মহেড়া, টাঙ্গাইল নামে দিক নির্দেশনা ফলক (বিশাল সাইনবোর্ড) আছে। আর যারা উত্তরবঙ্গ থেকে আসবেন তারা যে কোন ঢাকাগামী বাসে টাঙ্গাইল পার হয়ে ১৭ কিঃমিঃ পর নাটিয়াপাড়া বাসষ্ট্যান্ডে নেমে একইভাবে যেতে পারেন।

কোথায় খাবেন

খাবার ও পানীয়ের জন্য আছে স্বল্প মূল্যের ক্যান্টিন সুবিধা। আগেই অর্ডার দিলে আপনার পছন্দের মেনু অনুযায়ী যে কোন খাবার সরবরাহ করা হয়।

কোথায় থাকবেন

আপনি যদি জমিদার বাড়িতে পূর্ণিমা স্নান বা রাত্রীযাপন করতে চান তার জন্য এসি/নন এসি ডাক বাংলোর সুব্যবস্থা আছে।

View Direction

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending

  1. ৩-৪ টা সুন্দর স্থাপনা রয়েছে, যদিও সেগুলোর ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই। আনন্দ লজ এখন প্রসাসনিক ভবন, ভেতরে প্রবেশের সুযোগই নেই। মহারাজা লজ যেন এক রিসোর্টের কতিপয় আধুনিক কক্ষ। নিচতলায় যাওয়া যায় মাত্র কিন্তু তাকে প্রবেশ বলা যায়না।

    এখানে জুতা পায়ে দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কথা সত্য এতে সেখানে ধূলাবালি আসবে না, ময়লা পড়বে না। কিন্তু দুপুরবেলায় বাইরের সিঁড়ির মার্বেল পাথর এতই উত্তপ্ত থাকে যে পা ফেললেই কাবাব হবার দশা। তাছাড়া জুতারও কোন নিরাপত্তা নাই। আবুলের জুতা বাবুল নিয়ে গেলেও কেউ টের পাবেনা।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  2. টিকিটের মূল্য বর্তমানে ৮০ টাকা। কয়েকমাস পূর্বেও ছিলো ৫০ টাকা।

    ভেতরের এক জাদুঘরে জানা যায় অনেক বছর আগে মহেরার বিভিন্ন স্থাপনার নকশা ও রঙ কেমন ছিলো। সংস্কারের নামে সেগুলোর প্রায় সব পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু যা বানানো হয়েছে তা কারো কাছে গ্রহনযোগ্য হলেও কেউ কেউ ইতিহাস বিকৃতি বলেও আখ্যায়িত করেছেন। এবং উভয় পক্ষের যুক্তি অকাট্য।

    ভেতরে পিকনিক স্পট আছে, শিশুপার্ক আছে, চিড়িয়াখানা আছে। যদিও কোনটারই মান আহামরি কিছু ভালো নয়। চিড়িয়াখানার নামমাত্র প্রাণিদের দেখে মনে হয় ওরা আসলেই চিড়িয়া, কোন প্রাণি নয়।

    ইমু পাখিকে ছেড়ে রাখা হয়েছে, এখন এই ইমু যদি কাউকে বিশেষ করে কোন বাচ্চাকে আক্রমন করে ঠোঁকর মারে, বা অন্য কেউ এই পাখিকে উত্যক্ত করে তার দায়ভার কে নেবে??

    এক খাঁচায় হাঁসের সাথে মোরগ। অন্য খাঁচায় তিতির মুরগির সাথে সাথে দুইটা দেশি মুরগি, তাদের আবার পায়ে রশি দিয়ে বাঁধা, এদের একটাকে আবার অন্য তিতির মুরগি সম্প্রদায় আক্রমন করে আধামরা করে রেখে দিয়েছে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না