নেপাল ভ্রমণের প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি দিক

যুক্ত করা হয়েছে

প্রথমেই বলে রাখি, নেপাল ভ্রমণ নিয়ে এখানে যেসব পরামর্শ দেয়া হবে সেসব আমার নিজের বিবেচনায়। অন্য কারোর মতের সাথে নাও মিলতে পারে। যে কেউ এর সাথে নিজের বুদ্ধি-বিবেচনা যোগ করে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

নেপাল দেশটাকে বিভিন্নভাবে ঘুরে আসা যায়। কেউ শুধু ট্যুরিস্ট স্পটগুলো ঘুরে দেখে আসে, কেউ আবার র‍্যাফটিং, বাঙ্গি জাম্প আর স্পা’র প্রলোভনে নেপাল যায়, আবার কেউ সরাসরি অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প আর হিমালয়ের কোল থেকে ঘুরে আসে। এখানে শুধু বন্ধুবান্ধব-ফ্যামিলি নিয়ে ট্যুরিস্ট স্পটগুলো ঘুরে আসার ব্যাপারে খুঁটিনাটি আলোচনা করা হবে।

নেপালের কাঠমান্ডু, পোখারানাগরকোট –এই তিন জায়গাতেই বেশিরভাগ বাংলাদেশি ট্যুরিস্টরা ঘুরতে যান। এই জায়গাগুলোই ভালোমতো ঘুরতে যাওয়া-আসার দিনসহ কমপক্ষে সাত দিন হাতে রাখা দরকার। এর বেশি দিন হলে তো সোনায় সোহাগা। কেউ এরচেয়ে কম সময়েও ঘুরে আসতে পারবেন, সেক্ষেত্রে কোনো একটা স্পট আপনাকে বাদ দিতে হবে অথবা দৌড়ের উপরে ঘুরে এসে জাস্ট মুখে বলতে পারবেন যে, আমি অমুক জায়গা ঘুরে এসেছি।

ধরেই নিচ্ছি, আপনি বাই এয়ারে নেপাল যাচ্ছেন। ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে নামবেন দুপুর অথবা বিকালের দিকে। এয়ারপোর্ট থেকে চলে যেতে হবে থামেল। ওটাই ট্যুরিস্ট হাব। এয়ারপোর্টের নিজস্ব কার সার্ভিস আছে। নোটিশ বোর্ডে থামেল পর্যন্ত ভাড়া ৭০০ রুপি দেয়া আছে। খুব বেশি ঝামেলা করতে না চাইলে এখান থেকেও গাড়ি ভাড়া করতে পারেন। নেপালে এখনও উবার চালু হয়নি। তবে এডি ক্যাব, কাওয়া রাইডস নামে বেশ কিছু ট্যাক্সি সার্ভিস আছে। ব্যবহার করতে চাইলে প্লে স্টোর থেকে এপ নামিয়ে নিতে হবে।

তবে আমার পরামর্শ হলো, এয়ারপোর্ট টার্মিনাল থেকে হেঁটে বেরিয়ে আসুন। একটু ডান দিকে ঘুরলেই অনেক কার পাবেন। ভাড়া ৪০০ রুপি থেকে ৫০০ রুপির মধ্যে পেয়ে যাবেন। অবশ্যই দামদর করে নিতে হবে।

মাঝে মাঝে এয়ারপোর্টে বিভিন্ন হোটেলের ব্রোকার দাঁড়ানো থাকে, আপনি তার হোটেলে উঠবেন এই শর্তে আপনাকে সে ফ্রি থামেলে নিয়ে যাবে। আপনাকে তাদের খুঁজে বের করতে হবে না। ওরাই আপনার কাছে আসবে। এমন কাউকে পেলে বলে নিবেন যে, হোটেল পছন্দ না হলে কী করবেন? এসব ক্ষেত্রে কেউ কোনো ফি নেয় না, আবার কেউ ২০০-৩০০ রুপি চার্জ করে।

ত্রিশূলি নদী
কাঠমান্ডু থেকে পোখারা যাওয়ার পথে, পাশে ত্রিশূলি নদী। সামনে এই নদী আরও খরস্রোতা, আরও যৌবনা…

থামেলে গিয়ে নিজে দেখে হোটেল ঠিক করাই ভালো। সাথে ফ্যামিলি থাকলে তো অবশ্যই। কারণ ফ্যামিলি মেম্বারদের একেকজনের একেক চাহিদা থাকে। থামেলে হোটেলের অভাব নাই। ঠিক কোথায় কতো টাকার মধ্যে আপনি কী কী সুবিধা পাচ্ছেন এগুলো দেখে রুম নেয়া উচিত। কম টাকায় আর বেশি টাকায় একই সুবিধা হলে কেনো শুধু শুধু বেশি খরচ করবেন।

তবে পরামর্শটা ঠিক কে নিচ্ছেন তার ওপরেও অনেক কিছু নির্ভর করে। আজকেই অন্য আরেকটা ট্যুর গ্রুপে এক আপুকে দেখলাম কম টাকায় নেপাল ঘুরে আসার ব্যাপারে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ওনি দেশ থেকেই অনলাইনে হোটেল বুক করেছেন। থামেলে ৩০ ডলার, নাগরকোটে ৪০ ডলার এবং পোখারায় ৩০ ডলার পার নাইট এবং এটাই ওনার কাছে খুবই কম। কিন্তু এটা আমার কাছে ঢের বেশি। আমি থামেলেই সবচেয়ে বেশি হোটেল ভাড়া দিয়েছি, পার নাইট ১২০০ রুপি।

আপনি কাকে নিয়ে ট্যুরে যাচ্ছেন সেটাও একটা ম্যাটার। মা-বাবা-ওয়াইফ সাথে থাকলে এতো বাছ বিচার করা যায় না। আবার বন্ধুরা সাথে থাকলে নেপালে এক রাত রাস্তায় ঘুরে কাটিয়ে দেয়াও ব্যাপার না। আমার মনে হয়, আপনি নেট থেকে একটা ধারণা নিয়ে যেতে পারেন। তারপর ওখানে গিয়ে নিজে দুই-একটা হোটেল দেখে ঠিক করে ফেললে ভালো হয়। থামেল মেইন রোডের দুই পাশেই প্রচুর হোটেল।

হোটেলে উঠে ব্যাগটা রেখে রাত ১০-১২টা পর্যন্ত থামেলে ঘুরে বেড়ান। একেবারে নিরাপদ। মেইন রোডের যে পাশের হোটেলেই উঠুন না কেনো দুই পাশেই ট্যুরিস্টদের জন্য অনেক আকর্ষণীয় দোকান রয়েছে। সুতরাং দুই পাশেই ঢুঁ মারুন। নেপালি লোকাল দোকানপাট রাত আটটার মধ্যে বন্ধ হয়ে গেলেও থামেল ট্যুরিস্ট এলাকায় দোকান রাত বারোটা-একটা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে এখনই কেনাকাটার দরকার নেই।

হোটেল থেকে বের হয়েই একটা মোবাইল ফোনের সিম কিনতে ভুল করবেন না। এক্ষেত্রে এনসেল সিমের নেটওয়ার্ক সবচেয়ে ভালো। ইন্টারনেট ডাটাও কম মূল্যে পাওয়া যাবে। যদিও নেপালের হোটেল ছালাদিয়াতেও ওয়াইফাই পাবেন। তারপরও মাঝে মাঝে মোবাইল ডাটার দরকার পড়ে।

খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে মুসলিম হোটেলে খাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলে থামেলের আল মদিনা হোটেলে চলে যান। হালাল খাবার সব। তবে সব খাবার মুখে রুচবে না, এটাই স্বাভাবিক। খাবার মুখে না রুচলে ‘বফ বিরিয়ানি’ (বাফেলো) নামে একটা মেন্যু আছে, ওটা নেন, ঠ্যাকার কাজ চলবে। প্রাইসও কম।

নেপালি ভেজ থালি
নেপালি ভেজ থালি

পরদিন সকালে আপনার জন্য দুইটা পথ খোলা। হয় নাগরকোট, নয়তো পোখারা। আমার পরামর্শ- পোখারা। এতে আপনার একটা দিন বাঁচবে। নাগরকোট থেকে সকাল সকাল ফিরে ওইদিনই আপনি কখনোই পোখারা যেতে পারবেন না। কিন্তু পোখারা থেকে ফিরে নাগরকোট যাওয়া সম্ভব।

সকাল সাতটায় পোখারা যাওয়ার ট্যুরিস্ট বাস। থামেল থেকে হেঁটে দশ মিনিটের পথ বাসস্টপেজ। সমস্যা না থাকলে হেঁটেই যান। ভোরের নেপাল অনেক সুন্দর। হোটেলের সামনে, গলির মোড়ে কার দাঁড়িয়ে থাকবে আপনাকে দাগা দেয়ার জন্যে। ওদিকে না তাকানোই ভালো।

ট্যুরিস্ট বাসে পোখারার ভাড়া ৬০০-৭০০ রুপি। হালকা দামদর করতে পারেন। অনেকগুলা বাস দাঁড়িয়ে থাকে। ভালো সিট, ওয়াইফাই ব্যবস্থা, এসি ইত্যাদি দেখে একটায় উঠে পড়েন। কাঠমান্ডু থেকেই দরজা লক হয়ে যাবে। মাঝপথে আর কেউ উঠবে না। জোর চেষ্টা করেন, বাসের ডান পাশে বসার। না হলে পোখারা যাওয়াই বৃথা। এই জরুরি পরামর্শটা মনে রাখেন। নয়তো পরে আফসোস করবেন।

জ্যাম না থাকলে পোখারা পৌছাতে তিনটা-চারটা বাজবে। বাসস্টপ থেকে পোখারা শহর কিছুটা দূরে। কারে ১০ মিনিট লাগবে। এখানেও ওই ব্যবস্থা; হোটেলে উঠবেন নিশ্চয়তা দিলে ১৫০ রুপির ভাড়া ফ্রি নিয়ে যাবে। পোখারা লেক সাইড রোডে কম ভাড়ায় হোটেল পাবেন। ৫০০-৭০০ রুপি ইজ এনাফ ফর ডাবল রুম। লাক্সারিভাবে থাকতে চাইলে সে ব্যবস্থাও আছে, বাট এ ব্যাপারে আমার ধারণা নাই। লেকের পাশের হোটেল নেয়ার চেষ্টা করেন, জানালা দিয়ে দারুণ ভিউ পাবেন।

ফেওয়া লেক, পোখারা, নেপাল
পোখারায় আমার হোটেলের জানালা থেকে ফেওয়া লেক ভিউ।

হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে বের হওয়ার আগে ম্যানেজারকে আগামি দিন ভোরের জন্য একটা গাড়ি ঠিক করে দিতে বলেন। সারানকোট নিয়ে যাবে সূর্যোদয় দেখার জন্য। ভাগ্য ভালো অর্থাৎ ওইদিন আকাশে মেঘ না থাকলে ওখান থেকে হিমালয়ের প্যানারোমিক ভিউ পাবেন। এছাড়া পোখারা শহর এবং ফেউয়া লেকের বার্ড ভিউ দেখতে পাবেন সারানকোট থেকে। গাড়ি দাম দর করে নিবেন। পৃথিবীর যে কোনো জায়গাতেই ঘুরতে গেলে চারজন হচ্ছে পারফেক্ট সংখ্যা। নেপালে আপনারা চারজন হলে প্রাইভেট কার ভাড়া করবেন। ছয় জন হলে সিক্স সিটার। এর বেশি হলেই দুইটা গাড়ি ভাড়া করতে হবে। ভোর রাতে ড্রাইভার নিজে এসেই আপনাদের ঘুম থেকে ডাকাডাকি করে নিয়ে যাবে, আটটার দিকে আবার নামিয়ে দিয়ে যাবে।

একদম কারেক্ট দশটার মধ্যে গোসল-নাস্তা সেরে নিন। একটু পর সাইট সিয়িং শুরু হবে।

পোখারা ঘোরার জন্য দুইটা ওয়ে আছে। ট্যুরিস্ট বাসে করে প্যাকেজ সাইট সিয়িং ব্যবস্থা আর ব্যক্তিগতভাবে গাড়ি ভাড়া করে ঘোরা। নিজে গাড়ি ভাড়া করতে গেলে বিশ-ত্রিশটা স্পটের নাম বলে হাতির পাঁচ পা দেখিয়ে আকাশ ছোয়া ভাড়া হাঁকবে সবাই। বাস্তবে গিয়ে দেখবেন, একটা স্পট আরেকটা স্পটের গায়ে গায়ে লেগে আছে।

আমার মতে, ট্যুরিস্ট বাসই ভালো। জনপ্রতি ৬০০ রুপি নিবে। কী কী স্পট দেখাবে তার একটা তালিকা আছে। সাধারণত পোখারার যেসব স্পটের নাম শুনে থাকেন তার প্রায় সবই দেখায়। এসব স্পটে কেনাকাটা করতে পারবেন। কেনাকাটা যা করার পোখারাতেই করে ফেলেন। একই জিনিস কাঠমান্ডু-থামেলে আকাশছোঁয়া দাম।

টুরিস্ট বাস বিকালে হোটেলের সামনে নামিয়ে দিবে। সন্ধ্যা আর রাতে পোখারার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান। গভীর রাত হলেও সমস্যা নাই। একেবারে নিরাপদ। নেপালের রাস্তাঘাট খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। আমি বাঙালিদেরকেই দেখেছি যেখানে-সেখানে কাগজ, প্যাকেট, টিস্যু ইত্যাদি ফেলে নোংরা করে ফেলতে। এই ব্যাপারে খুবই সাবধান থাকুন।

পোখারায় সাইকেল, বাইক ঘণ্টা হিসাবে ভাড়া পাওয়া যায়। এজন্য আপনার পাসপোর্ট জমা রেখে দিবে দোকানদার। আমি পাসপোর্ট জমা দিতে ইতস্তত করছিলাম। বুঝতে পেরে ভাঙ্গা টেবিলের ড্রয়ার খুলে দেখালো আমাকে। ড্রয়ারে দুইটা ব্রিটিশ পাসপোর্ট পড়ে আছে। প্রতি ঘণ্টা মাত্র ১০০ নেপালি রুপি। পাহাড়ি পথে সাইকেল চালানোর মজাই আলাদা।

পোখারা
পোখারায় তাল বিস্ত্রো-তে সন্ধ্যার আগে আগে…

পোখারাতে মুসলিম হোটেল বা হালাল খাবার খেতে চাইলে ‘পোখারা হালাল ফুড ল্যান্ড’ নামে এক পাকিস্তানির একটা হোটেল আছে। আরেকটু হলেই এক রাতে ফকির হয়ে যাচ্ছিলাম। অনেক প্রাইস। খাওয়া-দাওয়ার জন্য লেক সাইড রোডে তাল বিস্ট্রো (রেস্টুরেন্ট) খুবই ভালো লেগেছে। লেকের পানির পাশে বসে খাবেন একেবারে। দামও রিজনেবল।

পরদিন সকালে পোখারা ঘোরা, র‍্যাফটিং, বাঙ্গি জাম্প ইত্যাদি করে কাটিয়ে দিতে পারেন। সবকিছুতেই আগে দামদর করে নিবেন। একেক জায়গায় একেক রকম প্রাইস পাবেন।

কাঠমান্ডু ফিরতে চাইলে ওই সকাল সাড়ে সাতটায় বাস। হোটেল থেকে গাড়ি নিয়ে বাসস্টপেজ চলে আসুন। খুব সকালে এই গাড়ির জন্যও আগের দিন হোটেল ম্যানেজারকে জানিয়ে রাখুন। নইলে সকালে গাড়ি পেতে বেগ হবে।

স্টপেজে টিকিট কাটার জন্য অনেক কাউন্টার আছে। আপনি কাউন্টারে না গিয়ে সোজা বাস সুপারভাইজারের সাথে কথা বলুন। সবচেয়ে কমে পাবেন। কাউন্টারের ওরা বেশি দামে টিকিট বেচে আপনাকে এইসব গাড়িতেই তুলে দিবে। বাসে কোন সাইডে বসতে হবে এবার আপনি নিজেই বুঝে যাবেন। মাঝপথে মানাকামানা ক্যাবল কার পড়বে। যেহেতু ফ্যামিলি সাথে, সো এইটা নিয়া চিন্তা না করাই ভালো। বাড়তি একটা হ্যাপা হবে। বাট দারুণ একটা জিনিস মিসও হবে।

ফ্যামিলি সাথে না থাকলে মানাকামানা ক্যাবল কার মিস করাটা ঠিক হবে না। তবে এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, ট্যুরিস্ট বাস আপনাকে মাঝপথে নামিয়ে দিলেও এইখান থেকে আর তুলবে না। সুতরাং আপনাকে লোকাল বাসে কাঠমান্ডু ফিরতে হবে। তবে এই লোকাল বাস বাংলাদেশের লোকাল বাস না। পথে যাত্রী না পেলে থামবে না। আসল ট্যুরিস্ট বাস ছাড়াও অনেক বাসে ‘ট্যুরিস্ট কার’ লেখা থাকে। মানাকামানা থেকে ফেরার সময় এরকম একটা বাস দেখে উঠে পড়বেন।

শুধুমাত্র মানাকামানা ক্যাবল কারে ওঠা এবং পরে বাসের ঝামেলা মেটাতেই আমার একজন আত্মীয় থামেল থেকেই পুরো দুই দিনের জন্য কার ভাড়া করে পোখারা নিয়ে গিয়েছিলো। ভাড়া নিয়েছে ১৮ হাজার নেপালি রুপি। তবে পোখারায় সারানকোটে আপনার ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন না। ওখানে গাড়ি ড্রাইভারদের নিজস্ব সিন্ডিকেট আছে, বাইরের গাড়ি এলাউ করে না।

গুপ্তেশ্বর মহাদেব মন্দির, পোখারা, নেপাল।
গুপ্তেশ্বর মহাদেব মন্দির, পোখারা, নেপাল।

মানাকামানা ক্যাবল কারে উঠতে হলে নেপালি দুই হাজার রুপি লাগবে। এইটাও মাথায় রাখতে হবে। তবে উঠলে ঠকবেন না, বলে রাখলাম। পোখারা যাওয়ার পুরো যাত্রাপথে সড়কের পাশে ত্রিশূলি নামের যে পাথুড়ে নদীটাকে দেখবেন, মানাকামানা নামলে এই নদীর ঠাণ্ডা পানিরও ছোঁয়া পাবেন।

মানাকামানা না নামলে বিকালের আগে আগেই কাঠমান্ডু পৌঁছে যাবেন। এখন ওই রাতটা আবার থামেলে থাকতে পারেন। অথবা দিনের সময় বাকি থাকলে গাড়ি ভাড়া করে তখনই নাগরকোট চলে যেতে পারেন। যেতে ঘণ্টা দেড়েক লাগবে। নাগরকোটে সূর্যোদয় দেখার মতো একটা ব্যাপার। শুনেছি, রাতে পাহাড়ি বৃষ্টিও নাগরকোট থেকে উপভোগ্য। আমার এই সৌভাগ্য হয়নি।

কাঠমান্ডু ঘোরার জন্য আরেকটা দিন হাতে রাখেন। বাইক বা কার ভাড়া নিয়ে ঘুরে বেড়ান। থামেলেও পাসপোর্ট জমা রেখে পুরো দিনের জন্য বাইক ভাড়া পাবেন। অনেক কিছু দেখার আছে। নেট থেকে কাঠমান্ডুর স্পটগুলোর নাম দেখে নিয়ে বাইক, ট্যাক্সি বা লোকাল গাড়িতে সেখানে চলে যান। ও ভালো কথা, শহরের ভিতরে আমাদের দেশের মতোন ভাঙ্গা মাইক্রো সার্ভিস আছে। লেগুনার মতো বিভিন্ন জায়গায় নামতে পারবেন এগুলো দিয়ে। দারুণ রকম লোকাল এগুলো, মজার ব্যাপার হলো নেটিভ নেপালিদের সাথে মেশার সুযোগ পাবেন এতে। এই ভাঙ্গা মাইক্রোতে উঠেই এক নেপালি মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিলো, এখন ফেসবুক ফ্রেন্ড হিসেবেও আছে সে। 😛

সাত দিনের এই পুরো ট্যুরে কেনাকাটা ছাড়া আপনার খুব বেশি হলে খরচ হবে আট থেকে দশ হাজার টাকা। সাথে ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা প্লেন ফেয়ার। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানে রাউন্ড ট্রিপ ১৮ হাজার করে নিচ্ছে। সুযোগ বুঝে এর কমেও পেয়ে যেতে পারেন। কেনাকাটার খরচ পুরোটাই আপনার নিজের ওপর।

আরও অনেক খুঁটিনাটি ব্যাপার আছে। লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। লাস্ট পরামর্শ, নেপাল যাওয়ার আগে গুগলে The Last Resort লিখে একটা সার্চ দিয়ে গেলে ভালো করবেন। হ্যাপি ট্রাভেলিং।