মেঘালয় ভ্রমণের খরচাপাতি এবং খুঁটিনাটি সকল বিষয়

যুক্ত করা হয়েছে

বাংলাদেশ থেকে খুব বেশী দুরে নয় ভারতের মেঘালয় রাজ্য৷ সিলেট থেকে ৫৪ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত তামাবিল-ডাউকি বর্ডার দিয়ে প্রবেশ করতে হয় মেঘালয় রাজ্যে৷

উমিয়াম লেক, শিলং

ভিসা

ভারতের ভিসা পাওয়া এখন খুবই সহজ, শুধু মনে রাখবেন ভিসা তে যেনো পোর্ট বাই রোড ডাউকি সিলেক্ট করা থাকে৷ নতুন নিয়ম হিসেবে আপনার পাসপোর্ট এ ডাউকি পোর্ট থাকলেও তা দিয়ে আপনি বাই রোড হরিদাসপুর-বাই রেল গেদে দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন৷

ভিসা চার্জঃ ৬০০ টাকা
ইটোকেন করলে চার্জঃ ৫০০-৮০০ টাকা
শ্যামলি-BRTC ভিসা+বাস চার্জঃ ৫১০০ টাকা

ইমিগ্রেশন

বাংলাদেশ পর্ব

সকাল ৯ টায় বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন কার্যকলাপ শুরু হয়, তবে এবারের ইদে ৭ টার সময় খোলা হয়েছে৷ ইমিগ্রেশন এ যাওয়ার আগে অবশ্যই ঢাকার দিলকুশা/নিউমার্কেট সোনালী ব্যাংক এর শাখা থেকে ৫০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে যাবেন৷ না দিয়ে গেলে বর্ডার এ তা আপনার কাছ থেকে ৮০০-১০০০ টাকা নিয়ে করে দিবে৷

তামাবিল পৌছে সবার আগে চলে যাবেন হাতের ডান পাশের পুলিশ স্টেশন এ, দালালির আখড়া তে! এখানেই সবার প্রথম পাসপোর্ট জমা নিবে৷ একা পাসপোর্ট জমা দিলে টাকা না দিয়ে বেচেঁ যেতে পারেন, তবে একসাথে অনেকজন মিলে পাসপোর্ট জমা দিলে প্রতি পাসপোর্ট এ ৫০-১০০ টাকা করে রেখে দিবে!! (পুলিশ ইনচার্জই দালালি করে, এরকম বিরল দৃষ্টান্ত হয়তো শুধু বাংলাদেশ এ দেখা যেতে পারে)৷ আমি প্রথম বর্ডার পার করি তাই, ৭ জনের জন্য ৫০০ দিতে হয়েছিলো৷ ফিরতি পথে আলাদা আলাদা যাওয়ায় টাকা নিতে পারে নি৷

তারপর আপনার কাজ হলো হাতের বাম পাশের কাস্টমস অফিসে যাওয়া৷ সেখানেই মূলত ব্যাগ খুলে দেখে, তবে বেশিরভাগ সময়ই তা করেনা৷ শুধু মাত্র একটা সাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়৷ তারপর বাংলাদেশ প্রান্তের শেষে বিজিবির খাতায় একটি সাক্ষর দিবেন, এভাবেই বাংলাদেশ পর্ব শেষ হয়৷

ভারত পর্ব 

নো ম্যান্স ল্যান্ড এর করিডর পার করে, ওয়েলকাম টু মেঘালয়ার সাথে একটা সেল্ফি তুলে ফেলুন৷ প্রবেশ এর শুরুতেই বিএসএফ আপনার পাসপোর্ট এর সাথে আপনার চেহারা টা একটু মিলিয়ে দেখে ছেড়ে দিবে৷ তারপর বামের রাস্তা ধরে ২ মিনিট হাটলেই বাম পাশে পরবে ইমিগ্রেশন অফিস৷ সেখানে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিবেন, অফিসার তা এন্ট্রি করে আপনার একটি সাক্ষর নিবে এবং এন্ট্রি সিল লাগিয়ে দিবে আপনার ভিসায়৷ অফিসিয়ালি ভারতে আপনার প্রবেশ হয়ে গিয়েছে৷

ডলার বিড়ম্বনা

ডাউকি তে আপনি কোনোমতেই ডলার ভাঙতে পারবেন না, তার জন্যে আপনাকে অবশ্যই শিলং এ যেতে হবে৷ স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, শিলং এ আপনি পাসপোর্ট নিয়ে গেলে এক্সচেঞ্জ করে দিবে তবে সময় লাগবে ১ ঘন্টার মতো৷ এছাড়াও পুলিশ বাজার কেএফসি ভবন এর নিচ তলায় পাবেন এক্সচেন্জ৷

১ ডলার=৬০-৬৩ রুপী
১০০ টাকা= ৭২-৭৫ রুপী
১০০ রুপী= ১২০-১৩০ টাকা

ভ্রমন প্লান

মেঘালয় এ ৩/৪ জনের মারুতি ও ৭-৮ জনের টাটা সুমো ট্রাভেলার দের জন্য সবচেয়ে বেশী পাওয়া যায় ৷

ডাউকি থেকে শিলং (ড্রপ)

১৫০০-২০০০ রুপী (মারুতি)
২০০০-৩৫০০ রুপী (সুমো)
পথে ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে বলবেন মাওলিনং, নাওহেত লিভিং রুট ব্রিজ ও বড়হিল ঝর্না।
১২০ রুপী প্রতিজন(লোকাল সুমো)
৮০ রুপী প্রতিজন(বাস)

ডাউকি থেকে চেরাপুঞ্জি

১৫০০-২৫০০ রুপী (মারুতি) (ড্রপ)
৩০০০-৩৫০০ রুপী (সুমো) (ড্রপ)
২৫০০-৩৫০০ রুপী (মারুতি)(ড্রপ+ঘুরা)
৪০০০-৫০০০ রুপী (সুমো) (ড্রপ+ঘুরা)

ডাউকি থেকে শিলং হয়ে চেরাপুঞ্জি (ড্রপ)

২৫০০-৩০০০ রুপী (মারুতি)
৪৫০০-৫০০০ রুপী (সুমো)

ডাউকি/চেরাপুন্জি থেকে সিনতুং-লাইটলুম হয়ে শিলং

৪৫০০-৬০০০ রুপী (সুমো)
৩০০০-৩৫০০ রুপী(মারুতি)

ডাউকি থেকে আমলারেম হয়ে শ্নোনেংপেডেং

২৫০০-৩২০০ রুপী (সুমো)
১৫০০-২২০০ রুপী (মারুতি)

চেরাপুঞ্জি ঘোরাঘুরি

থাংকারাং পার্ক, সেভেন সিস্টার ফলস টপ, সেভেন সিস্টার ফলস ভিউ, নোহকালিকাই ফলস, লাইপাতেং ফলস, মওসমাই কেভ, তৃর্না, উমশিয়াং ডাবল ডেকার লিভিং রুট ব্রীজ ইত্যাদি৷

সুমোঃ ৩০০০-৪০০০ রুপী
মারুতিঃ ১২০০-১৫০০ টাকা

শিলং ঘোরাঘুরি

বারাপানি লেক(উমিয়াম), ডন ভস্কো মিউজিয়াম, ক্যাথেড্রাল চার্চ, ওয়ার্ডস লেক, এলিফেন্ট ফলস, শিলং পিক, লেডী হায়দারী পার্ক৷

সুমোঃ ২০০০-২৮০০ রুপী
মারুতিঃ ৮০০-১৫০০ রুপী

এন্ট্রি টিকেট

থাংকারাং পার্কঃ ১০ রুপী মানুষ ,ক্যামেরা ২০ রুপী, পার্কিং ২০ রুপী মারুতি, ৪০ রুপী সুমো৷
মওসমাই কেভঃ ২০ রুপী মানুষ ,ক্যামেরা ২০ রুপী, পার্কিং ২০ রুপী মারুতি, ৪০ রুপী সুমো৷
সেভেন সিস্টার টপ/ইকো পার্কঃ ১০ রুপী মানুষ ,ক্যামেরা ২০ রুপী, পার্কিং ২০ রুপী মারুতি, ৪০ রুপী সুমো৷
সেভেন সিস্টার ভিউঃ ১০ রুপী মানুষ ,ক্যামেরা ২০ রুপী, পার্কিং ২০ রুপী মারুতি, ৪০ রুপী সুমো৷
নোহকালিকাই ফলসঃ ১০ রুপী মানুষ৷
ক্রাং সুরি ফলসঃ ২০ রুপী মানুষ৷
বারাপানি লেকঃ ৫০ রুপী মানুষ ,ক্যামেরা ১০০ রুপী, পার্কিং ২৫০ রুপী মারুতি, ৭৫০ রুপী সুমো৷
উমশিয়াং ডাবল ডেকার লিভিং রুট ব্রীজঃ ২০ রুপী মানুষ ,ক্যামেরা ২০ রুপী৷
ওয়াহ রাশি ফলসঃ ১০০ রুপী মানুষ(ফরেইন), পার্কিং ২০ রুপী মারুতি, ৪০ রুপী সুমো৷
মাওলিনং গ্রামঃ গাড়ী প্রতি ৫০ রুপী৷
নাওহেত লিভিং রুট ব্রীজঃ ১০ রুপী মানুষ৷

তাবু

তাবু পিচ করার অনুমতি পাবেন শুধুমাত্র শ্নোনেংপেডেং ও নংরিয়াত এ৷ তবে দুটো যায়গাতেই আপনাকে তাবু পিচ করার জন্যে ২০০ রুপী করে দিতে হবে৷

হোটেল

সোনেংপেডেং এ

ব্রাইট স্টার হোটেল প্রতি রুম ১৫০০ রুপী(চারজন)। তাবু+বেডশিট+পিলো ৭০০ রুপী(তিন-চার জন)

চেরাপুঞ্জি তে

কর সংরিয়া ২৫০০ রুপী(ট্রিপল বেড), এছাড়া অনেক ধরনের কটেজ ৩৫০০-৫০০০ রুপী (ট্রিপল বেড)।

শিলং এ

পুলিশ বাজারের দিকে ৩০০০-৭০০০ রুপী (ট্রিপল বেড) এবং মফরান এর দিকে ১০০০-২৫০০ (ট্রিপল বেড)।

নংরিয়াত এ

সিরিন হোমস্টে, প্রতিজন ৩০০ রুপী ৷

খাবার

ডাউকি তে খাবার তেমন ভালো না৷

চেরাপুঞ্জি

  • জেমিস ইন্ডিয়ান ক্যুজিন
  • 7 ট্রেপ রেস্টুরেন্ট
  • অরেন্জ রুটস রেস্টুরেন্ট
  • সিরিন হোমস্টে

শিলং এ

পারওয়াজ হোটেল(মুসলিম)(মফরান)

আমলারেম, সিনতুং এ খাওয়ার মতো তেমন কিছু নেই৷

জেমিস এর আলু পরাটা, 7 ট্রেপ এর চিকেন কারী, পারওয়াজ এর গরুর মাংস, সিরিন এর শসা ভর্তা ও অরেন্জ রুট্স এ পুরি সাবজি৷

শিলং থেকে বাস/ট্যাক্সি/সুমো

  • গোয়াহাটি (পুলিশ বাজার)
  • বারাপানি লেক, ডন ভস্কো মিউজিয়াম, ক্যাথেড্রাল চার্চ (গিরিখানা রোড)
  • ডাউকি, জোয়াই (এনজেলি স্ট্যান্ড)
  • চেরাপুঞ্জি, পোলো, মাউকিনরো, মাউসিনরাম (মফরান)

খরচপাতি অফ সিজন এ ২৫-৫০% হারে কমবে। ( নভেম্বর – এপ্রিল)