ঢাকা-দিল্লী-শিমলা-মানালি কিভাবে যাবেন? কেমন খরচ?

যুক্ত করা হয়েছে

প্রথমেই বলে রাখি আমার ভিসা করা ছিল BY ROAD CATEGORY চ্যাংরাবান্ধা দিয়ে । সুতরাং আমি প্রথমে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাই যার বর্ননা এখানে পাবেন। এরপর দার্জিলিং ট্যুর শেষে আমি আবার শিলিগুরি ফিরে দিল্লীর পথে যাত্রা শুরু করি যেটার বর্ননা এখানে পাবেন। এই পর্বে আমি আপনাদের দিল্লী থেকে শিমলা মানালি ট্যুরের বিস্তারিত বলবো।

দিল্লী টু মানালিঃ

দিল্লী থেকে মানালি যাওয়ার জন্য সিটিল্যান্ড ট্রাভেলস এর ভলবো (১২৫০ রুপি ) হচ্ছে সেরা বাস। ( অবশ্যই চেষ্টা করবেন ভলবোতে যেতে ) রাত ৯টায় কাশ্মিরি গেট বাসষ্ট্যান্ড থেকে বাস ছেড়ে যাবে আর সকাল ১০টা নাগাদ আপনাকে মানালি পৌছে দিবে। মানালি নেমে আপনি উত্তম (০০৯১৯১৯৪১৮৩০০৮৪৩ ) অথবা শর্মা ( ০০৯১৯১৯৪৫৯৩৫০৩৭১ ) কে ফোন করতে পারেন, খুবই ভাল মানুষ তারা। তাদের নিজস্ব গেষ্ট হাউস রয়েছে (থান্ডারওয়ার্ল্ড ) এবং তারাই আপনাকে রিসিভ করে নিয়ে যাবে। আমরা সেখানেই ছিলাম, দিনপ্রতি ভাড়া পড়েছিল মাত্র ৬০০ ( অফ- সিজন ) রুপি।

কোথায় থাকবেনঃ মানালির আসেপাশে প্রচুর পরিমান গেষ্ট হাউস রয়েছে। গ্রিজার আর ওয়াইফাই ব্যবস্থাসহ, আপনি আপনার পছন্দমতো একটা গেষ্ট হাউস খুব সহজেই খুজে পাবেন।

কোথায় ঘুরবেনঃ

১ম দিনঃ কিছুটা সময় বিশ্রাম নিয়ে মানালির আসেপাশের জায়গাগুলো ঘুড়ে দেখতে পারেন। পাশেই একটা প্রাচীন মন্দির রয়েছে আর ম্যালরোডটাও ( বেশ চমৎকার ) বেশ কাছেই। এইগুলা ঘুরে দেখার পাশাপাশি কেনাকাটাও সেরে নিতে পারেন।

২য় দিনঃ মানালিতে ঘুরার জন্য রোহথাং পাস হচ্ছে সবথেকে সেরা জায়গা। স্নো বা বরফ আর পাহাড়ের লীলাখেলা দেখতে পাবেন রোহথাং পাস এ। আগের রাতেই ক্যাব অথবা ট্যাক্সি ঠিক করে রাখবেন। কোন কোন স্পট কভার করবে সেটা ড্রাইভারের কাছ থেকে বুঝে নিবেন, নইলে তারা আপনাকে বোকা বানিয়ে দিবে, কেননা যাওয়ার পথেই বেশ কিছু রাস্তার মোড়কে তারা বিভিন্ন স্পট হিসেবে বর্ননা দিয়ে স্পট এর সংখ্যা বাড়িয়ে দিবে। আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, সিজনে প্রচুর পরিমান ট্যুরিষ্ট রোহথাং পাস এ ভ্রমন করেন এবং মানালি সরকার প্রতিদিন ৮০০ এর বেশি গাড়ি রোহথাং পাস যাওয়ার অনুমতি দেয়না ( পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার্থে )। সুতরাং আগের রাতেই ক্যাব ঠিক করে রাখবেন আর অনুমতি নেয়ার বিষয়টাও নিশ্চিত হয়ে নিবেন।

সকাল ৮ টার মধ্যেই নাস্তা শেষ করে রোহথাং পাস এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। রোহথাং পাস সিজনের ( অফ – সিজনেও বরফ পাবেন , তবে তুলনামুলক ভাবে খুবই কম ) সময় বরফ ঘেরা থাকে , সুতরাং যাওয়ার পথেই স্পেশাল বরফ জ্যাকেট ভাড়া করে নিবেন ( প্রতিজনে ২৫০ রুপি ভাড়া নিবে )। রোহথাং পাস ঘুরার পর, ফেরার পথে শোলাং ভ্যালিতে যেতে পারেন, এখানে আপনি ক্যাবল কারে চড়তে পারবেন ( প্রতিজন ৬০০ রুপি ) আর প্যরাগ্লাইডিংও ( প্রতিজন ১৫০০ রুপি) করতে পারবেন। মনে রাখবেন রোহথাং পাস যাওয়া আর আসার পথটাই সবথেকে বেশী সুন্দর , রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় থেমে থেমে দৃশ্য উপভোগ করতে ভুল করবেন না যেন। যাওয়ার পথেই কৃষসহ বহু বলিউড মুভির শুটিং সাইট দেখতে পাবেন। ( আমি হা করে তাকিয়ে দেখেছি আর ভেবেছি কি বানাইছে আল্লাহ সোবহানাতায়ালা, সোবহানআল্লাহ )

৩য় দিনঃ আপনি মানিকরন আর কুল্লু ঘুরে আসার জন্য ২য় দিন বরাদ্ধ রাখতে পারেন। মানিকরনে আপনি দেখতে পাবেন যে, মাটির নিচ থেকে কিভাবে প্রাকৃতিকভাবে গরম (ফুটানো ) পানি নির্গত হচ্ছে আর কুল্লু হচ্ছে মানালির আরেকটা পাহাড় রাজ্য। কুল্লু যদি যান তবে সেখান থেকে অবশ্যই শাল কিনবেন, মনে রাখবেন কুল্লুর শাল জগত বিখ্যাত।

চলুন এবার মানালি থেকে শিমলা যাই ( ১ দিনেই কভার করা সম্ভব )

৩য় দিনের জন্য হোটেল রুম বুক করে টাকা অপচয় করার দরকার নেই , অইদিন রাতেই এসি বাসে করে শিমলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাবেন। রাত ৯ টার বাসে মানালি (Manali) থেকে রওনা দিলে ভোর ৫ টার মধ্যেই আপনি শিমলা পৌছে যাবেন। একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন, মানালিতে গিয়েই আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে শিমলা যাওয়ার টিকেট কনফার্ম করে নেয়া, নইলে ভালো বাসের টিকেট পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যাবে। আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, নিতান্তই বিপদে পড়া ব্যতিত ভুলেও হিমাচল ট্রান্সপোর্ট বাস এর টিকেট করবেন না। ( আমাদের দেশের ৮ং বাসের মত ছোট ছোট সিট আর বীভৎস সার্ভিস এদের )

৪র্থ দিনঃ ৪র্থ দিনে আপনাকে একটু চাতুরতা অবলম্বন করতে হবে ( যদি আপনি একদিনেই শিমলা কভার করতে চান ), যেহেতু ভোর ৫ টার মধ্যেই আপনি শিমলা পৌছে যাচ্ছেন, সুতরাং আপনি টার্গেট করতে পারেন যে, সারাদিন ঘুরে আপনি রাতেই দিল্লি ফিরে যাবেন। কেননা একদিনের মধ্যেই আপনার পক্ষে শিমলার প্রধান স্পটগলো কভার করা সম্ভব হবে, আর আপনি চাইলে একটা রাত থাকতেও পারেন সেটা সম্পুর্ন আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। সেক্ষত্রে আপনি বাসষ্ট্যান্ড এ নেমেই একটা টোটাল প্যাকেজ করে ফেলার চেষ্টা করবেন।

কি কি থাকবে সেই প্যাকেজেঃ

১ . দিল্লীতে ফেরার ভলবো বাস টিকেট, প্রতিজন ৮০০ রুপি। আমি দিল্লী থেকে এয়ার এ করে শিলিগুড়ি এসে তারপর ঢাকা এসেছিলাম, আপনি চাইলে আপনার মত প্লান করে নিতে পারেন।
২. আপনাকে ভোর ৬ টা থেকে দুপুর ১১.৩০ মিনিট পর্যন্ত হোটেলে বিশ্রাম করার সুযোগ করে দিবে।
৩. শিমলার সমস্ত স্পটগুলো ঘুরে দেখানোর জন্য বেলা ১১টা থেকে রিজার্ভ ক্যাব করে দিবে (২০০০ রুপি )।

আমরা ৩ জন ছিলাম ৪৭০০ রুপিতে প্যাকেজ কনফার্ম করেছিলাম।

শিমলাতে একটা ছেলে রয়েছে কাপিল শার্মা (০৯৮১৭৯৭৭৭০৩ ) ওর মাধ্যমেই আমরা প্যাকেজ গুলো করেছিলাম ( সার্ভিস মোটামোটি ভাল )। আপনি চাইলে নিজেই নিজের মত করে খুজে নিতে পারেন। কেননা বাস থেকে নামলেই বিভিন্ন হোটেলের দালালরা আপনাকে ঘিরে ধরবে। তাদের কয়েক জনের সাথে দরদেনা করলে আপনি নিজেও অভিজ্ঞ বনে যাবেন। সুতরাং ঘাবরানোর কিছু নেই। কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, শিমলার লোকজন আমার কাছে খুব একটা সুবিধার মনে হয়নি, সুতরাং বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিবেন। শিমলা ( হিমাচল প্রদেশের রাজধানী ) প্রচন্ড খরুচে একটা শহর। খাবার খাওয়ার সময় দামের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

এছাড়া শিমলার বেশ কিছু স্থান হন্টেড ( ভূত প্রেতের বিষয় জড়িত, Google কে জিজ্ঞেস করলেই উত্তর পেয়ে যাবেন )। আমি নিজেও হোটেল ক্যান্ডির টয়লেটে এই ধরনের একটা ঘটনা প্রত্যাক্ষভাবে অনুভব করেছি, সেটা নাহয় নাইবা বললাম। সুতরাং উপরোক্ত বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকার চেষ্টা করবেন।

কোথায় ঘুরবেনঃ শিমলাতে আমরা যেদিন গিয়েছিলাম সেদিন সারাদিন বৃষ্টি ছিল। এর ভিতরেই যতটুকু সম্ভব ঘুরেছি। তার মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে শিমলার মল বা ম্যাল রোড ( এখানেই থ্রী ইডিয়টস সিনেমার বেশ কিছু অংশের শুটিং হয়েছিল ) এক কথায় অসাধারন। বিকেল বেলা ম্যাল রোড ( অবশ্যই যাবেন ) ঘুরে দেখার জন্য সেরা সময়। তাই আপনি ক্যাব নিয়ে যে স্পট গুলোতে যাবেন, চেষ্টা করবেন সেই স্পটগুলো বিকেলের মধ্যেই কভার করে ফেলতে। ক্যাবে করে প্রথেমেই চলে যাবেন গ্রীনভিউ ( মোটামোটি ) দেখতে। তারপর সেখান থেকে ওরা আপনাকে নিয়ে যাবে কুফরি (Kufri)। কুফরিতে ঘুরতে হলে ৫০০ রুপি দিয়ে ঘোড়া ভাড়া করে তারপর যেতে হয়, কুফরির ঘোড়া থেকে আপনি পাহাড় রাজ্যের কিছু চমৎকার দৃশ্য দেখতে পাবেন ( মানালি ঘুরে আসার পর এইসব দৃশ্য আর আমাদের হ্রৃদয়কে ছুয়ে যেতে পারেনি ) এরপর রিজার্ভ ক্যাব আপনাকে একটা বিশাল হনুমান জির (ভাল লাগেনি ) মন্দিরে নিয়ে যাবে। আপনি চাইলে যাবেন নইলে যাবেন না।
এরপর তারা আপনাকে এডভেঞ্চারে ( আধুনিক পার্ক , আমাদের ফ্যান্টাসি কিংডমের মত ) নিয়ে যাবে, যেখানে চড়া দামের টিকেট এর বিনিময়ে বিভিন্ন রাইডে চড়তে পারবেন। (আমরা প্রবেশ করিনি , টিকেটের দাম শুনে নিজেই নিজেকে বলেছি বাবা ঘুরতে এসেছি, রাইডে চড়ার জন্য নয় )

অফ-সিজনে যাওয়াতে স্নো আর বরফের দেখা পাইনি আমরা। ভুলেও অফ-সিজনে শিমলা (Shimla) যাবেন না।

বাড়ি ফেরার পালাঃ আমরা শিমলা থেকে ভলবোতে করে দিল্লী গিয়েছিলাম ( আপনি চাইলে শিমলা থেকে বাই এয়ারে/রোডে নিজের মত প্লান করে নিতে পারেন )। রাত ১০ টায় বাস শিমলা থেকে ছেড়ে এসে ভোর ৬ টায় দিল্লী নামিয়ে দিয়েছিল। রাতের বেলা শিমলা শহরটাকে আমার কাছে ক্রিসমাস ট্রী এর মধ্যে বাতি জ্বালিয়ে রাখলে যেরকম লাগে, ঠিক অইরকম লেগেছে আমার কাছে। কেননা পাহাড় ছুয়ে গড়ে উঠা বসতি গুলোর আলোকসজ্জায় চোখ পড়লেই, নিশ্চিত চোখ জুড়িয়ে যাবে আপনার।

অইদিন দিল্লীতে (Delhi) কিছুটা বিশ্রাম আর কেনাকাটা শেষ করে পরেরদিন সকাল ১০ টার বিমানে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি ( বাগডোগরা এয়ার পোর্ট ) চলে আসি মাত্র দু ঘন্টায়। বাগডোগরা যখন নামি তখন বেলা ১২ টা। সেখান থেকে ক্যাবে আড়াই ঘন্টার ভ্রমনে সোজা চ্যাংরাবান্ধা। বিকেল ৫ টার মধ্যেই চ্যাংরাবান্ধা বন্দর পাড়ি দিয়ে প্রিয় মাতৃভুমিতে স্বশ্তির নিশ্বাস নিতে সক্ষম হই। বোঝাতে পারব না সেই অনুভুতি যখন দেশের মাটিতে পা রেখেছিলাম। শুধু মন থেকে একটা বাক্যই বিড়বিড় করে বেড়িয়ে এসেছিল ” আমি তোমাকে প্রচন্ড ভালবাসি বাংলাদেশ “।

চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন কিভাবে পাড়ি দিবেন , সে বিষয়ের বিস্তারিত জানতে আমার ঢাকা – দার্জলিং – মিরিক ট্যুরের লিখাটা পড়তে পারেন। মনে রাখবেন সন্ধ্যা ৬ টার পরে চ্যাংরাবান্ধা বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

কখন যাবেনঃ অক্টোবর এর মাঝামাঝি হতে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় হচ্ছে শিমলা আর মানালি ঘুরে দেখার সেরা সময়। টইটম্বুর স্নো আর বরফ পাবেন এই সময়ে। তবে মে থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিমলা আর মানালিতে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করাটা বোকামি হবে। বলে রাখি আমি নিজেও সেই বোকাদের দলেই ছিলাম। আমার লিখাটা এই জন্য যে , আপনারাও যাতে আমার মত বোকা বনে না যান।

কোথায় খাবেনঃ মানলিতে আমরা যে হোটেলে ছিলাম ( থান্ডার ওয়ার্ল্ড) সেই হোটেলেই ভাল খাবারের ব্যবস্থা ছিল এবং দামও আয়ত্বের মধ্যেই ছিল। সুতরাং খাবার নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি আর শিমলাতে খাওয়ার জন্য তুলনামুলকভাবে ঝাকজমকপূর্ন হোটেল এড়িয়ে চলুন, নইলে এরা আপনাকে নিশ্চিত ফতুর করে দিবে।

কেনাকাটা কোথায় করবেনঃ কেনাকাটা করার জন্য মানালি ভাল হবে, আমি আগেই বলেছি শিমলা বেশ খরুচে শহর, এখান থেকে কেনাকাটা না করাই ভাল। মানালির ম্যাল রোড থেকে আপনি আপনার চাহিদা মত পণ্য ক্রয় করুন। তবে আমার উপলব্ধি এরকম ছিল যে, মানালি কাশ্মির থেকে কাছে হওয়ায় সেখানে কাশ্মিরি ভালো শাল আর থ্রী পিছ পাওয়া যায়। আমার কেনাকাটার শীর্ষেও ছিল এই দুটি পণ্য।

আমাদের কপাল ভাল ছিল যে, মানালির ম্যাল রোডে তারেক ভাই এর ( ০০৯১৯৮১৬৬৯৩৭২২ ) ( কাস্মিরি মুসলমান এবং হাফেয, যিনি মানালির ম্যাল রোডের রাস্তায় জুম্মার নামাজের ইমামতি করেন, যদিও সমগ্র মানালিতে সরকারি সিদ্ধান্তের কারনে কোন স্থায়ী মসজিদ নেই ) মত একজন ভাল মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছিল। তার নিজের একটা দোকান রয়েছে মানলির মল রোডে, বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিন আর মনখুলে নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করতে থাকুন। আমরা ৩ বন্ধু গিয়েছিলাম, আমদের কথা বললেই চিনবে।

পরিশেষে একটা কথা বলে রাখি, আমি লেখক নই। মানুষকে উপকার করার উদ্দেশ্যে নিজের অভিজ্ঞতাগুলো ভাগাভাগি করতে বাংলা ভাষার উপর রীতিমত অত্যাচার চালাই। লিখায় কোন ভুলত্রুটি থাকলে জানাবেন, শুধরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করব।
ভাল থাকুন, সেই সাথে দেশ আর মানুষকে ভালবাসুন।

খরচের হিসেবঃ

ঢাকা টু বুড়িমাড়ি বাস ( ৮৫০ ) + ট্রাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা + বর্ডার ঘুস ( লিখতেও খারাপ লাগে কিন্তু এটাই সত্যি) ( ১৫০ টাকা ) + চ্যাংরাবান্ধা টু শিলিগুড়ি ( ২৫০ রুপি ) = ১৮০০/ ২০০০ টাকা ।
শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি ( রাজধানী এক্সপ্রেস ২২০০ রুপি ( ট্রেন ) / বাই এয়ার ৪০০০ )
দিল্লি টু মানালি ( ভলবো বাস ভাড়া ১২৫০ রুপি )
মানালি টু শিমলা ( ৬৫০ রুপি এসি বাস )
শিমলা টু দিল্লি ( ৮৫০ রুপি ভলবো এসি বাস )
হোটেল খরচ = ৫০০ রুপি প্রতিজন / প্রতিদিন
খবার = ৫৫০ রুপি প্রতিজন/প্রতিদিন
স্পটগুলো ঘুড়ে দেখার জন্য , সারাদিনের জন্য ক্যাব ভাড়া করলে ১৮০০ থেকে ২৩০০ রুপির মধ্যেই পেয়ে যাবেন ।

এটা অফ সিজন রেট, সিজনের সময় শিমলা – মানালিতে ভয়াবহ পর্যটকের চাপ থাকে। সুতরাং সেই সময়ের হিসেব কষলে অবশ্যই ৩৫% অতিরিক্ত টাকা যোগ করে হিসেব করবেন। সবইতো বলা হলো, এবার আপনার যাবার প্লানটা করে ফেলুন। বিশেষ করে ব্যাচলর ভাইবোনদের বলছি, দেরি করে সময় নষ্ট করবেন না 😉 এখনই সময় দুনিয়া চক্কর দেয়ার। সুতরাং দলবল সহ বেড়িয়ে পড়ুন।