সড়কপথে কিভাবে যাবেন ঢাকা – দার্জিলিং – মিরিক – ঢাকা

যুক্ত করা হয়েছে

ভিসা প্রসেসিং : প্রথমেই আপনাকে ভারতীয় দূতাবাস হতে ” By Road Category ” তে চ্যাংরাবান্ধা বর্ডার দিয়ে ভিসা নিতে হবে।

বাস সিলেকশন : ঢাকার গাবতলী থেকে প্রতিদিন বেশ কিছু নন এসি ( হানিফ, এস আর) এবং এসি ( মানিক এক্সপ্রেস, শ্যামলী, এস আর পরিবহন) বাস ছেড়ে যায় । নন – এসিতে ভাড়া ৬০০ থেকে ৬৫০ এর মধ্যেই পড়বে আর এসিতে ভাড়া পড়বে ৮৫০ টাকা। তবে শ্যামলীর ভাড়া পড়বে ১৫০০ টাকা, কেননা তারা শিলিগুড়ি পর্যন্ত টিকেট করে থাকে। শুধুমাত্র বর্ডার পর্যন্ত তাদের কোন সার্ভিস নেই, বর্ডার পর্যন্ত শ্যামলী ঠিকই আপনাকে এসিতে করে নিয়ে যাবে, তবে বাংলাদেশ বর্ডারের অপর প্রান্ত ( ভারতের চ্যাংরাবান্ধা) হতে ওরা আপনাকে কোন গাড়িতে করে নিয়ে যাবে তার কোন হদিস নেই। কেননা ভারতের প্রবেশধারে তাদের কোন নিয়ন্ত্রন নেই, পুরোটাই দালালদের নিয়ন্ত্রনে। আমাদের কাছ থেকে শ্যামলী পরিবহন জন প্রতি ১৫০০ টাকা করে এসির ভাড়া নিলেও, তারা আমাদেরকে চ্যাংরাবান্ধা হতে শিলিগুড়ি পর্যন্ত নন – এসিতে যেতে বাধ্য করে।

এই সমস্যা গুলো এড়াতে আমি বলব, আপনি শুধুমাত্র বর্ডার পর্যন্ত এসি বাসে করে যান। যেহেতু প্রায় ১০/১২ ঘন্টার জার্নি তাই আমার সাজেশন থাকবে নিজেকে ফ্রেশ রাখার জন্য ( গরম কালে) এসি বাস সিলেকশন করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

যাত্রা : বেশীরভাগ গাড়ি রাত ৮ টায় ঢাকা থেকে বুড়িমারির উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায় এবং সকাল ৬/৭ টার মধ্যেই বুড়িমাড়ি সীমান্তে আপনাকে পৌছে দিবে। সীমান্তে পৌছে যাবার পর সকালের নাস্তা বাংলাদেশেই সেড়ে ফেলুন, তারপর দু দেশের ইমিগ্রিশেন ( বাংলাদেশ ও ভারতের) পাড়ি দিয়ে। আপনি যখন চ্যাংরাবান্ধায় পৌছে যাবেন, কালক্ষেপন না করে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া জীপ গুলোতে চেপে বসুন। কেননা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যে , বিকেল নাগাদ আপনাকে অবশ্যিই দার্জলিং পৌছতেই হবে। সদস্য সংখ্যা বেশী হলে একটি জীপ রিজার্ভ করে নিতে পারেন ১৫০০ রুপীর মধ্যে অথবা জনপ্রতি ২৫০ রুপির মধ্যে শেয়ারিং এর মাধ্যমে জীপে চড়ে বসতে পারেন। শিলিগুড়ি পৌছাতে আপনার ৩ ঘন্টা সময় লেগে যাবে, সব ঠিক থাকলে দুপুর ১ টার মধ্যেই শিলিগুড়ি পৌছে যাবেন ।

সেখানে ১২০ রুপীর মধ্যে পেটপুরে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন( দেরী হয়ে গেলে দুপুরের খাবার খাওয়ার দরকার নেই) এবং দেশের সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে একটি ভারতীয় মোবাইল সিম কিনে নিন। ( আমি এয়ারটেল নিয়েছিলাম, পাওয়ার রিচার্জের মাধ্যমে বাংলাদেশে ২রুপি/মিনিটে কথা বলা যায়। সেই সাথে ডাটা প্যাকও সহজেই এক্টিভ করে নিতে পারেন)। তারপর সরাসরি দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে জীপে চেপে বসুন জনপ্রতি ২০০ রুপির মধ্যেই অথবা ১২০০/১৫০০ টাকার মধ্যেই জীপ রিজার্ভ করে নিতে পারেন। সর্বোচ্চ ৩ ঘন্টার মধ্যেই আপনাকে পাহাড় ঘেরা রাজ্য দার্জিলিং এ পৌছে দিবে।

হোটেল বুকিং : ১০০০/১২০০ রুপির মধ্যেই আপনি দার্জিলিং এ খুব ভাল হোটেল পেয়ে যাবেন ( ওয়াইফাই এবং গরম পানির ব্যবস্থাসহ )। আমরা হোটেল পার্কলেন ( ০০৯১৯৪৩৪১৬৬৯৫৪, ০০৯১৮৯০৬৩৪৮৮৩৬ ) এ ছিলাম, বেশ ভাল হোটেল। মনে রাখবেন দার্জিলিং এ রাত ৮ টার পর সব বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং হোটেল বুকিং এবং রাতের খাওয়া ৮ টার মধ্যেই শেষ করতে হবে।

কোথায় ঘুরবেন : ( ১ম দিন) রাত ৩ টায় ঘুম থেকে উঠে টাইগার হিল এর উদ্দেশ্য রওনা দিন, সূর্যেদোয়ের হাসির চিকিমিকি দেখতে পাবেন হিমালয়ের বরফ ছুয়ে। তারপর, সারাদিন জুড়ে বাতাসিয়া লুপ , রক গার্ডেন (অবশ্যই যাবেন ) ঘুম ষ্ট্যাশন, চিড়িয়াখানা ( বেশ সুন্দর) , টি গার্ডেন, ম্যাল রোড ( অসাধারন) ঘুরতে থাকুন।

mall road, darjeeling
দার্জিলিং এ রাতের ম্যাল রোড

*** দার্জিলিং এ বেশ কিছু মসজিদ রয়েছে, বড় দুটি মসজিদ অবশ্যই পরিদর্শন করার চেষ্টা করবেন।

২য় দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা এর উদ্দেশ্যে রওনা দিন, দার্জিলিং শহর থেকে খানিকটা দূরে আরেকটা শহর, যেখানে প্যারাগ্লাইডিং করা যায় আর হিমালয় এর একটা পাশ দেখা যায়।

৩য় দিন আপনি চাইলে পাহাড় আর লেকে ঘেড়া ছোট্ট শহর মিরিক ঘুরে আসতে পারেন, আপনি চাইলে দার্জিলিং থেকেও মিরিক ঘুরে আসতে পাড়েন অথবা মিরিকেও থাকতে পারেন। যেহেতু মিরিক থেকে শিলিগুড়ি কাছাকাছি , তাই আমার মতে মিরিকে থাকাই ভাল। মিরিকে অল্প ভাড়ায় ( ০০৯১৯৫৬৩৪৫৭৭৯৯ ) Wooden Restaurant এ থাকতে পারেন। মিরিকে ঘুরার জন্য লেক আর মোটেল এর টপভিউ টাই অসাধারন। সুতরাং এক দিনের বেশী অবস্থান করার প্রশ্নই উঠেনা।

৪র্থ দিন সকাল সকাল শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিন, মিরিক থেকে শিলিগুড়ি আসতে মাত্র ২ ঘন্টা সময় লাগে আর শিলিগুড়ি থেকে বর্ডার আসতে ৩ ঘণ্টা সময় লেগে যাবে।

গাড়ী বুকিং করার জন্য সোইলাজ দার ( ০০৯১৯৭৩৪৯৯৭৯০২ ) সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, ভাল মানুষ তিনি। তার জীপে আমাদের একটি মোবাইল হারিয়ে গিয়েছিল, তিনি সেটা পরের দিন ফিরিয়েও দিয়েছিলেন।

*** মনে রাখবেন , সন্ধ্যা ৬ টার পরে বর্ডারের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকে ।

ইমিগ্রেশন কিভাবে পাড়ি দিবেন : (যাওয়ার সময়) বাংলাদেশ প্রান্তে ১০০ টাকার বিনিময়ে আর ভারত প্রান্তেও ১০০ টাকার বিনিময়ে কিছু দালাল ইমিগ্রেশনে সহায়তা করে থাকে। তবে দালালদের কাছে পাসপোর্ট দেয়ার পর তাদের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। অথবা চাইলে আপনি একাই ইমিগ্রেশন পাড়ি দিতে পারবেন। মনে রাখবেন সাথে কোন রুপি নিবেন না ( থাকলেও বলবেন না) কিছু ডলার সাথে রাখুন আর বাংলা টাকা যতই থাকুক ৪/৫ হাজারের বেশী আছে বলে স্বীকার করবেন না।

( ফিরে আসার সময়) ইমিগ্রেশনের দুই প্রান্তেই ( ভারত/বাংলাদেশ ) আপনাকে জিজ্ঞেস করবে কি কি কিনেছেন?
আপনি বলবেন পরিবারের জন্য কিছু নিত্য প্রয়ীজনীয় জিনিস । কত টাকার শপিং করেছেন?
এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করবেন। আর বললেও ৪/৫ হাজার টাকার বেশি বলবেন না ( চিন্তিত হওয়ার কোন কারন নেই ১০০ টাকা দিলেই সব ঠিক)।
এছাড়া ফিরে আসার সময়ও কিছু দালাল ১৫০ রুপীর বিনিময়ে সহায়তা করে থাকে।
তবে কেনাকাটা করার সময় একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন যেন ,একই জিনিস ৪ এর অধিক ক্রয় করা না হয় এবং ব্যাগ এ নতুন ও পুরোনো পন্য মিলিয়ে রাখুন।
এছাড়া যাওয়ার সময় পণ্য যত পারুন কম বহন করুন।

মুদ্রা বিনিময় : বাংলা টাকা চ্যাংরাবান্ধাতেই রুপিতে পরিবর্তন করে নিন, কেননা দার্জিলিং এ রেট খুবই কম পাবেন।

কেনাকাটা কোথায় করবেন : দার্জিলিং থেকে শীতের জামা কাপড় কেনা হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ। শীতের শহর থেকে ( ম্যাল রোড ) আপনি যথাযথ মূল্যেই শীতের পোষাক কিনতে পারবেন। এছাড়া কিছু সতেজ চায়ের প্যাকেট কিনে নিয়ে আসতে পারেন। অন্যন্য কেনাকাটা আপনি শিলিগুড়িতে করলেই ভাল হবে।

কোথায় খাবেন : দার্জলিং এ খাওয়ার জন্য শিমলা ( ০০৯১৯২৩৩৮২৭০৩০ ) রেষ্টুরেণ্ট অসাধারন। মুসলিম হোটেলে খাওয়ার জন্য বড় মসজিদের সামনে যেতে পারেন।

কখন যাবেন : বৃষ্টির সময়টাতে দার্জলিং যাওয়াটা বোকামি, সেপ্টেম্বরের থেকে জানুয়ারি হচ্ছে সেরা সময় দার্জলিং উপভোগ করার জন্য।

খরচের হিসাব : ঢাকা টূ বুড়িমাড়ি ( ৮৫০ টাকা ) + বর্ডার ঘুস ( ১৫০ টাকা ) + চ্যাংরাবান্ধা টু শিলিগুড়ি ( ২০০/২৫০ টাকা ) + শিলিগুড়ি টু দার্জিলিং ২০০ টাকা = ১৫০০/১৭০০ টাকা ।
হোটেল খরচ ৫০০ টাকা ( প্রতিজন / প্রতিদিন )
খাওয়া খরচ ৫০০ টাকা ( প্রতিজন/প্রতিদিন )
সারাদিনের জন্য জীপ ভাড়া করলে ২২০০/২৫০০ টাকা প্রয়োজন হবে।

*** এটা অফ সিজন রেট , সিজনের সময় ৩০% বেশী খরচ হবে। সুতরাং হিসেবটা সেভাবেই করে নিবেন।

এবার আপনার নিজের হিসেবটা কষে ফেলুন আর নিজের মত করেই , নিজের ভ্রমনের প্লানশীট তৈরি করুন।

✍ লেখকঃ Rayhan Hasanul Islam