হাজারিখিল অভয়ারণ্য

Ratings
রেটিংস ৪.৮৩ ( রিভিউ)

চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে রামগড়-সীতাকুণ্ড বনাঞ্চল। এ বনাঞ্চলের মধ্যেই রয়েছে বিচিত্র সব বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হাজারিখিল, যেখানে আছে ১২৩ প্রজাতির পাখি। রঙ-বেরঙের এসব পাখির মধ্যে রয়েছে বিপন্ন প্রায় কাঠময়ূর ও মথুরা। আছে কাউ ধনেশ ও হুতুম পেঁচাও। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের সমারোহ থাকার কারণে চিরসবুজ এই বনে এমন কিছু প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে, যা অন্য কোনো বনে সচরাচর দেখা যায় না। এর মধ্যে রয়েছে হুদহুদ, চোখ গেল, নীলকান্ত, বেঘবৌ, আবাবিল। এসব পাখির আকার-আকৃতি, বর্ণ ও স্বভাবে বৈচিত্র্যময়। সম্প্রতি বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এক গবেষণায় পাখির এসব প্রজাতির সন্ধান পায় গবেষক দল।

এ অভয়ারণ্যে নানা প্রজাতির পাখির সঙ্গে শীতকালে যোগ দেয় পরিযায়ী পাখির দল। এদের বিচরণে চিরসবুজ বন পরিণত হয় পাখিরই আলাদা এক রাজ্যে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার রামগড়-সীতাকুণ্ড বনাঞ্চলে প্রায় ১১৮ হেক্টর পাহাড়ি বনভূমিকে ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা দেয় সরকার। এখানকার উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে— বানর, হনুমান, মায়া হরিণ, বুনো ছাগল, চিতা বিড়াল ও মেছো বাঘ। মিশ্র চিরসবুজ বনসমৃদ্ধ এ অভয়ারণ্যের প্রধান বৃক্ষ গর্জন, চাপালিশ, সেগুন, কড়ই, মেহগনি ও চুন্দুল। বিখ্যাত রাঙ্গাপানি চা বাগান এ অভয়ারণ্যের পাশেই অবস্থিত।

হাজারিখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে (Hazarikhil Wildlife Sanctuary) এমনই এক প্রজাতির পাখি ‘চোখ গেল’। অভয়ারণ্যের আরেক বিচিত্র পাখির নাম হুদহুদ, স্থানীয়রা যাকে ‘কাঠঠোকরা’ নামে ডাকে। সম্পূর্ণ মাটিতে হেঁটে খাবার সংগ্রহ করে পাখিটি। কীটপতঙ্গ খাওয়া এ পাখি বাসা বাঁধে গাছের কোঠরে। অরণ্যের খুব গভীরে ঝোপঝাড়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করে মথুরা। বনমোরগের স্বভাবজাত এ পাখি জোড়ায় জোড়ায় চলাচল করে। বিপন্নপ্রায় মথুরা বনের যেসব এলাকায় বাস করে, সেসব এলাকায়ই বিচরণ আছে কাঠময়ূরেরও। খুবই লাজুক প্রকৃতির এ পাখির দেখা মেলাই ভার। শস্যদানার পাশাপাশি কীটপতঙ্গই এদের প্রিয় খাবার। তারা বাসা বাঁধে মাটি সরিয়ে কাঠি দিয়ে। মস্তবড় ঠোঁট এবং তার উপরে শিরস্ত্রাণের জন্য বিখ্যাত পাখি ‘কাউ ধনেশ’। এরা ছোট ছোট দলে থাকতে পছন্দ করে। বটজাতীয় নরম বৃক্ষে বিচরণ করা বিপন্নপ্রায় এ পাখি টিকটিকি, ইঁদুর এমনকি অন্যান্য পাখির ছানাও খেয়ে থাকে। পানির কাছাকাছি কোনো বড় অন্ধকার গাছে ডালপালার মধ্যে আত্মগোপন করে থাকে হুতুম পেঁচা। এদেরও পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে মাছ, কাঁকড়া ও ব্যাঙ। তবে ইঁদুর ও সরীসৃপজাতীয় প্রাণীও ভক্ষণ করে থাকে। হুতুম হুতুম বলে ডাকে বলেই স্থানীয়রা এ পাখির নাম দিয়েছে ‘হুতুম পেঁচা’।

হাজারিখিল অভয়ারণ্যের আরো যেসব পাখির দেখা মেলে তার মধ্যে রয়েছে— খুদে কাঠঠোকরা, বড় বসন্তবাউড়ি, নীলকান্ত, বেঘবৌ, ছোট বসন্তবাউড়ি, তিত মাছরাঙা, সাদা বুক মাছরাঙা, মেঘ হও মাছরাঙা, সবুজ সুইচোরা, খয়েরি মাথা সুইচোরা, নীল লেজ সুইচোরা, বড় কানাকুকা, বউ কথা কও, কোকিল, সবুজ কোকিল, সুরেলা কোকিল, তোতা, টিয়া, আবাবিল, নাক কাটি, লক্ষ্মীপেঁচা, খুরলে পেঁচা, ডোরা কালি পেঁচা, কালো পেঁচা, জালালি কবুতর, তিলা ঘুঘু, রাম ঘুঘু, ধলা ঘুঘু, ছোট হরিয়াল, কমলা বুক হরিয়াল, হলুদ পা হরিয়াল, ডাহুক, বনমোরগ, জয়াড কাঠঠোকরা, বর্মি কাঠঠোকরা, সবুজ কাঠঠোকরা, সোনালি কাঠঠোকরা, মেটে টুপি কাঠঠোকরা। আরো আছে— জলপিপি, হট্টিটি, মেটে মাথা হট্টিটি, বেশরা, তিলা ঈগল, ভুবন চিল, শঙ্খ চিল, ছোট মাছ মুরাল, ছোট বাজ, পানকৌড়ি, গো-বক, সাদা বক, মাইজলা বক, কানি বক, ওয়াক, শামুক খোল, ধূসর বুক টুনি, সাধারণ বন টুনি, পাতা বুলবুল, সবুজ বুলবুল, তাত শালিক, ঝুঁটি শালিক, গোবরে শালিক, কাঠশালিক, পাতিকাক, দাঁড়কাক, কুটুম পাখি, সবুজ হাঁড়িচাছা, ফিঙ্গে, কেশরাজ, ভীমরাজ, ছোট ফিঙে, হলদে পাখি, ফটিকজল, লাটোরা, আলতাপরী, লেজ নাচানি, বাদামি কসাই, বড় কাবাশি, চামচ কসাই, মেটে পিঠ কসাই, সিপাহী বুলবুল, কালো বুলবুল, ধূসর বুলবুল, কালো মাথা বুলবুল, শ্যামা, কালোঘর রাজন, দোয়েল, ফুটফুটি চটক, নীল শিলাদামা, শিলাদামা, লাল বুক চটক, মেটে মাথা ছোট চটক, নীলকান্তমণি চটক, এশীয় খয়েরি চটক, লেজ চেরা পাখি, টুনটুনি, সাত ভায়লা, সাদা মুকুট পাঙ্গা, পাঙ্গা, কালচে ফটক, ম্যাকারিন, বেগুনি বুক মৌটুসি, নীল টুনি, মৌচাটুনি, সিঁদুরে লাল মৌটুসি, বাধা টুনি, দাগি সাঁতারে, লাল ফুলঝুরি, তিত পাখি, চড়ুই পাখি, বাবুই, মাঠ চড়াই, তিলা মুনিয়া, বন খঞ্জন, সাদা খঞ্জন, ধূসর খঞ্জন ও হলদে মাথা খঞ্জন।

কিভাবে যাবেনঃ

চট্টগ্রাম থেকে ফটিকছড়ি হয়ে হাজারিখিল অভয়ারণ্য যেতে হয়। ফটিকছড়ির বিবিরহাট পর্যন্ত বাসে যেয়ে যেকোন লোকাল পরিবহন যেমন সিএনজি তে এখানে যাওয়া যায়। ভাড়া পড়বে ৩০-৩৫ টাকা।

কোথায় থাকবেনঃ

থাকার জন্যে কোন সুবিধা না থাকার কারনে আপনাকে চট্টগ্রাম কিংবা সীতাকুন্ড অথবা ফটিকছড়িতে অবস্থান করতে হবে।

View Direction

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending

  1. ট্রেকিং প্রেমিদের জন্য অসম্ভব সুন্দর একটা ট্রেইল। যদি বিশাল কোন ঝর্নার আশা করে যান তবে কিন্ত প্রকৃতি কোন ভাবে দায়ী নয়।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  2. একটা সুন্দর পরিবেশে ক্যাম্পিং করার ইচ্ছা থাকলে হাজারিখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে চলে যান! আরামসে ঝামেলা ছাড়া ক্যাম্পিং করার জন্য আর একটু বুনো পরিবেশের ফিল নেওয়ার জন্য আমার মতে পারফেক্ট জায়গা!

    ঝামেলা ছাড়া কেনো বললাম? তাবু ও স্লিপিং ব্যাগ সরবরাহ ও পিচ করবে USAID থেকে, রাতের সিকিউরিটির জন্য নাইট গার্ডও তারা দিবে। খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে সেখানে। টয়লেটের ব্যবস্থাও আছে! বাকি রইলো শুধু নিজের মতো দুইটা দিন উপভোগ করা, যেটা আপনি নিজের মতো করে নিবেন!

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  3. সবুজের অরণ্যে হারিয়ে যেতে চাইলে, রাতে ক্যাম্পেইন করে থাকার জন্যে, হাজারিখিল আপনার জন্যে সৌন্দর্যমন্ডিত এক অনন্য স্থান। যারা মনে করেন প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য যেহেতু প্রাণির দেখা পাব, হরিণের পাল, হাতির পাল আমার পাশে ঘুর ঘুর করবে, কম করে হলেও কিছু না কিছু দেখতে পাব। আর না পেলে কি হবে? বিশাল একটা ঝর্ণা তো আছেই , ওইখানে গোসল দিব – তাদের জন্যে হাজারিখিল নয়।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  4. চট্টগ্রামেই সিলেটের স্বাদ !!

    অভয়ারণ্য তে বেশীক্ষণ না থেকে আমরা বাম দিকের চা বাগানে চলে গেছিলাম। বিশাল এরিয়ায় অনেক্ষণ ঘুরলাম। এখানে আপনি হারিয়ে যাবেন চা বাগানের বাতাস আর মাঝের দৃষ্টিনন্দন রোডের মায়ায়। কি চমৎকার 😊 !!! খানিক সময়ের জন্য হলেও মনে হবে পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করতে পারলেই ভালো হতো।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  5. বান্দরবন, সুন্দরবন, সিলেট এর মিশ্রণে এক অদ্ভুত সুন্দর হাজারিখিল 😊 যদি ট্রাভেলিং এ খরচ না লাগতো তাহলে প্রতিদিন এখানে চলে আসতাম। আসলেই কল্পনা করা যাইয় না, আল্লাহ যে এতো সুন্দর সুন্দর জায়গা বানিয়েছেন।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না