রাস মেলা, সুন্দরবন

ইভেন্টের তারিখঃ শনিবার, ৪ নভেম্বর ২০১৭
দুবলার চর, সুন্দরবন

প্রায় শত বছর ধরে বঙ্গোপসাগর কিনারের সুন্দরবন এর দুবলার চর এ আলোর কোল নামক স্থানে রাস মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের শেষে বা অগ্রহায়ন মাসের প্রথম দিকের ভরা পূর্ণিমার সময় এ রাস মেলা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকেরা পূর্ণিমার জোয়ারের নোনা পানির স্নানে তাদের পাপ মোচন হয়ে মনষ্কামনা পূর্ণ হবে এ বিশ্বাস নিয়েই এ রাস মেলায় যোগ দিলেও সময়ের ব্যবধানে এখন তা নানা ধর্ম ও বর্নের লোকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকায় করে তীর্থ যাত্রী ও দর্শনার্থীরা এসে সমবেত হয় দেশের প্রত্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে। আসে অসংখ্য বিদেশী পর্যটকও। উৎসবের সময় কুটির শিল্পের মেলাসহ নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় দুবলার চর এ (Dublar Chor)

কার্ত্তিক-অগ্রহায়ণের শুক্লপক্ষের ভরা পূর্ণিমায় সাগর যখন উছলে ওঠে, লোনা পানিতে ধবল চন্দ্রালোক ছলকে যায় অপার্থিব সৌন্দর্য রচনা করে, চন্দ্রিমার সেই আলোকমালায় সাগর-দুহিতা দুবলার চরের আলোর কোল মেতে ওঠে রাস (Rash Mela) উৎসবে। সেখানে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনায় বসেন পুণ্যার্থীরা। তারা সাগরকে সামনে নিয়ে নির্জনে কৃষ্ণপূজার সঙ্গে দেবতা নীল কমল আর গঙ্গাদেবীর আরাধনায় নিমগ্ন হন। পাপমোচন করেন সমুদ্রস্নানে। সূর্যোদয়ে পানিতে ভাসিয়ে  দেন ফল ফুল। অতঃপর ঢাক-ঢোলক-কাসা-মন্দিরা বাজিয়ে ভজন-কীর্তনে নিনাদিত করেন চারপাশ। পূজা-অর্চনার ফাঁকে সূর্যাস্তের পর সাগরকে সাক্ষী করে আকাশের বুকে উড়িয়ে দেয়া হয় ফানুস।

শুরুঃ নভেম্বর ০৪, ২০১৭
শেষঃ নভেম্বর ০৬, ২০১৭

কিভাবে যাবেনঃ

রাস মেলা উপলক্ষে বন বিভাগ বেশ কিছু রুট নির্ধারণ করেছে। সেগুলো হলো –

  • বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক থেকে বাটুলানদী-বলনদী-পাটকোষ্টা হংসরাজ নদী হয়ে দুবলারচর।
  • কদমতলা হতে ইছামতি নদী, দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া-কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর।
  • কৈখালী স্টেশন হয়ে মাদারগাং, খোপড়াখালী ভাড়ানী, দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া-কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর।
  • কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়ুয়া শিবসা-শিবসা নদী-মরজাত হয়ে দুবলার চর।
  • নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর।
  • ঢাংমারী/চাঁদপাই স্টেশন হয়ে পশুর নদী দিয়ে দুবলারচর।
  • বগী-বলেশ্বর-সুপতি স্টেশন-কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর।

খরচঃ

সুন্দরবন (Sundarban) এ রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে তীর্থ যাত্রীদের ফি তিন দিনের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা, অনিবন্ধনকৃত ট্রলার ৮০০ টাকা, নিবন্ধনকৃত ট্রলার ২০০ টাকা এবং ট্রলারের অবস্থান ফি প্রতিদিন ২০০ টাকা।

View Direction