সিঙ্গাপুর

Ratings
রেটিংস 0 (0 রিভিউ)
আধুনিক স্থাপত্য শৈলী আর অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মহাদেশের একটি একটি ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর। দেশটি মালয় উপদ্বীপের নিকটে অবস্থিত। সিঙ্গাপুরের পোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক পোর্ট। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বিলাসবহুল দেশ এটি। সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে নামলেই আপনি বুঝবেন যে এটি বিশ্বের সেরা কয়েকটি এয়ারপোর্টের মধ্যে একটি। বাস হোক প্রাইভেট কার হোক ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা জ্যামের মত বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা লাগবে না। আর রাস্তার দুই পাশ সুন্দর গাছ দিয়ে সাজিয়ে রাখার জন্য আপনার সফরকে আরো আরামদায়ক করে তোলে।

এত্তটুকুন একটা শহর, অথচ তার সবকিছু ঠিকঠাক ঘুরেফিরে দেখেশুনে নিতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগবেই। অবশ্য ‘সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার’ নামে বিশাল যে চরকি বানিয়ে রাখা আছে, সেটায় চড়লে এক দফাতেই একনজর দেখে ফেলা যায় এমাথা ওমাথা। তবে তার আগে জেনে রাখুন সিঙ্গাপুর (Singapore) এর কোথায় কোন জায়গা রয়েছে, পাছে কিছু মিস না হয়ে যায়।

সেন্তোসা

সিঙ্গাপুরের দক্ষিণে অবস্থিত অসাধারণ জায়গা সেন্তোসা। সময় কখন যে ফুরিয়ে গেছে তা মালুমও করতে পারবেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে কাটিয়ে দেওয়া যায়। সেখানে রয়েছে অনেক গ্যালারি, আকর্ষণীয় দেখার জিনিসপত্র, অ্যামিউজ়মেন্ট পার্ক সহ অন্যান্য নানা আকর্ষণ। তাছাড়াও সেখানে রয়েছে অসাধারণ সব রিসোর্ট, ওয়াটার পার্ক, ইউনিভার্সাল স্টুডিও, ক্লাব হাউস। এমনকী, সেখানে গেলে মজা নিতে পারবেন ইন্ডোর স্কাই ড্রাইভিংয়েরও।

জুরং বার্ড পার্ক

বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে পার্কটি। তা শুধু সিঙ্গাপুরেই নয়, এশিয়ার মধ্যেই সবচেয়ে বড় পার্ক। পার্কতে মোট ৪৯টি ভাগ রয়েছে। যেখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি পাখির প্রজাতির বসবাস। সবমিলিয়ে বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র। সেখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ আভাইরি জলপ্রপাত। আশপাশের পরিবেশ এতো সুন্দর, যে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন।

বোটানিক গার্ডেন

ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের আওতায় রয়েছে বোটানিক গার্ডেন। অসাধারণ সুন্দর সাজানো গোছানো গার্ডেনটি। ১৮২২ সালে স্যার স্ট্যাম্ফোর্ড রেফলস্ গার্ডেনটি তৈরি করেন। তবে পরবর্তীকালে তার অবশ্য ভোল বদলে যায়। দেশ বিদেশের মানুষের ভিড় লেগেই রয়েছে সেখানে। সিঙ্গাপুরের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। সেখানে ১০০০ প্রজাতিরও বেশি অর্কিড দেখতে পাবেন, যা আপনার মন মাতাল করে দেবে।

সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা

ছোটো থেকে বড় সকলের জন্য অন্যতম বেড়ানোর জায়গা চিড়িয়াখানা। সিঙ্গাপুরের চিড়িয়াখানাটিতেও রয়েছে বিশেষ সব আকর্ষণ। প্রচলিত আছে, ব্রিটিশরা সিঙ্গাপুর ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় তাঁদের পোষা প্রাণীগুলো রেখে যায়। তারপরই আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৩ সালে সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয় চিড়িয়াখানাটি। সেখানে প্রায় ৩০০ প্রজাতির প্রাণী দেখতে পাওয়া যায়।

মারলাওন পার্ক

মারলিন বা সিংহ-মৎস্য হচ্ছে সিঙ্গাপুরীদের গর্বের প্রতীক, বীরত্বের প্রতীক। কথিত আছে বহু পূর্বে সিঙ্গাপুর যখন তেমাসেক বা সমূদ্রনগরী নামে পরিচিত ছিলো তখন প্রচণ্ড এক সামুদ্রিক ঝড় ওঠে দ্বীপে। অধিবাসীরা যখন নিজেদের স্বপে দেয় ঈশ্বরের হাতে ঠিক তখনই সমুদ্র থেকে সিংহ-মৎস্য আকৃতির এক জন্তু এসে ঝড়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাচিয়ে দেয় অধিবাসীদের। আর সে থেকে মারলিন নামের সিংহ-মৎস্য সিঙ্গাপুরীদের গর্ব আর বীরত্বের প্রতীক। মারলিনের মূর্তি মেরিনা বে (Marina Bay) এর মারলাওন পার্কে অবস্থিত।

মেরিনা বে

রাতের বেলা মেরিনা বে এর চারপাশে শুরু হয় চোখ জুড়ানো লেজার শো।

সিঙ্গাপুরের ভিসা প্রসেসিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখান থেকে জেনে নিতে পারেন

ভ্রমণ টিপস

সিঙ্গাপুর এ সব সময়ই গরম থাকে। এটা বিবেচনায় রেখে পোশাক নির্বাচন করা উচিত। স্থানীয় নিয়ম-কানুন মেনে পুরো সিঙ্গাপুর নিরাপদে ভ্রমণ করা যাবে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, সানগ্লাস ও ক্যাপ সঙ্গে রাখা ভালো। লিটারিং বা ময়লা ফেলা-বিষয়ক আইন কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। যেখানে-সেখানে থুথু ফেলা বা ময়লা ফেলা এখানে অপরাধ। কাজেই লিটারিং করলে শাস্তি হচ্ছে একদিন একটি পরিবেশ সচেতনতাবিষয়ক সেমিনারে অংশ নিতে হবে এবং পুরো একদিন নির্দিষ্ট এলাকার ঝাড়ুদারের দায়িত্ব নিতে হবে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন, মালিন্ডো এয়ারলাইন, টাইগার এয়ারলাইন ও এয়ারএশিয়া এয়ারলাইনের প্রায় প্রতিদিনই ফ্লাইট আছে। ফিরতি যাত্রাসহ ভাড়া ৩০ হাজার থেকে ৪৬ হাজার টাকা। সিঙ্গাপুরে এমআরটি আর মনোরেল খুবই জনপ্রিয় বাহন। একটা থেকে আরেকটা স্পটে ২-৩ ডলারের মধ্যেই যাওয়া যায়। প্রথম ভ্রমণ হলে ট্যাক্সিই ভরস। এয়ারপোর্ট থেকে মেরিনা বে স্যান্ডস ১৫-২০ ডলার। মেরিনা বে থেকে সেন্তোসা ১০-১৫ ডলার।  সেন্তোসা থেকে জুরং পাখি উদ্যান ১৫-২০ ডলার। জুরং পাখি উদ্যান থেকে লিটল ইন্ডিয়া ১৫-২০ ডলার।

কোথায় থাকবেন

মেরিনা বে ও সেন্তোসা রাত্রি যাপন ব্যয়বহুল। সে তুলনায় লিটল ইন্ডিয়ায় খরচ কম। এখানে ৫৫ ডলারেই রুম ভাড়া করে দুজন অনায়াসে থাকতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

সিঙ্গাপুরে খাওয়া দাওয়া করার জায়গার অভাব নেই। হরেক দেশের, হরেক স্বাদের। দামি রেস্তোরাঁ যেমন আছে, তেমনি বেশ কিছু হকার্স সেন্টার আর ফুড কোর্টও আছে।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending