মাউন্ট ফুজি

জাপানের সবচেয়ে বিখ্যাত পর্বত ফুজি। অপূর্ব সৌন্দর্য্য আর অনন্য গঠনের মাউন্ট ফুজি প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটককে আকৃষ্ট করে। এটি জাপানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, যার উচ্চতা ৩,৭৭৬.২৪ মিটার (১২,৩৮৯ ফিট)। উচ্চতার দিক থেকে বিশ্বে এর অবস্থান ৩৫ তম। এটি জাপানের তিনটি পবিত্র পর্বতের একটি। অপর দুটি হলঃ মাউন্ট তাতে এবং মাউন্ট হাকু। এটি একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং ১৭০৭-০৮ সালে এখানে সর্বশেষ অগ্নুৎপাত হয়। রাজধানী টোকিও থেকে ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে শিজুকা আর ইয়ামানশি প্রদেশের সীমান্তে হনশু দ্বীপে মাউন্ট ফুজি (Mount Fuji) অবস্থিত এবং আকাশ পরিস্কার থাকলে টোকিও এবং ইয়োকোহামা থেকে এটিকে দেখা যায়।

পর্যটক ও পর্বতারোহীদের কাছে মাউন্ট ফুজি একটি জনপ্রিয় স্থান। ২০০৩ সালের ২২শে জুন সংস্কৃতিক এলাকা হিসেবে এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করা হয়। মাউন্টেইন ফুজি কখনো স্থানীয়দের কাছে উপাসনার আরাধ্য, কখনো শিল্পীর চোখে ক্যানভাসের বিষয়ভাবনা, কখনোবা পর্যটকের প্রশ্নাতীত গন্তব্য। এই সুউচ্চ জাপানি পর্বতটি পৃথিবীর বুকে প্রকৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি নিঃসন্দেহে। কারো কারো মতে, হিমালয়ের পরে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর পর্বত এই মাউন্ট ফুজিই।

কখন যাবেনঃ

মাউন্ট ফুজির সৌন্দর্য্য আপনি কতটুকু দেখতে পাবেন তা নির্ভর করবে আবহাওয়ার মেজাজের ওপর। মেঘ বা কুয়াশায় ঢাকা দিন আপনাকে হতাশ করতে পারে। তাই মাউন্ট ফুজি দেখতে চাইলে বর্ষা আর শীত মৌসুম এড়িয়ে যেতে হবে। অন্যদিকে খুব সকাল আর শেষ বিকেল হল সারা দিনের মধ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

আর আপনি যদি দূর থেকে দেখার চেয়ে স্বশরীরে আলিঙ্গন করে আসতে চান পর্বতটিকে, আছে সেই সুযোগও। তবে সবসময় নয়। বছরে শুধুমাত্র জুলাই আর অগাস্ট মাসেই মাউন্ট ফুজিতে পর্বোতারোহণের অনুমতি দেয় স্থানীয় কতৃপক্ষ।

দর্শনীয়স্থান গুলোঃ

১. লেক কাওয়াগুচিকো

এটি ফুজির ৫টি লেকের একটি। পর্বতটির বিখ্যাত ৩৬টি ভিউ এর অনেক গুলোই এই লেকের অবদান। আবহাওয়া ভাল থাকলে ফুজির বরফাবৃত চূড়ার প্রতিবিম্ব ফুটে ওঠে লেকের টলটলে পানিতে। লেক পাড়ের চমৎকার রিসোর্টে রাত্রিযাপন করতে পারবেন, দেখতে পাবেন ঘরের জানালা থেকেই অপূর্ব ফুজিকে।

২. হাকোন

ফুজি সংলগ্ন রিসোর্ট এরিয়া হাকোন। এখানে উপভোগ করতে পারবেন প্রাকৃতিক আগ্নেয় উষ্ণ প্রসবণে স্নানের আনন্দ। যাকে বলা হয় অনসেন। এটি আপনাকে মানসিক এবং শারিরিক প্রশান্তি এনে দেবে। হাকোনের খ্যাতির আরেকটি কারণ রিওকান। রিওকান হল জাপানের আদি বাড়িঘর যা আছে এখনো তেমনি যেমন ছিল এডো যুগে।

৩. কামাকুরা

টোকিও থেকে মাত্র ১ ঘন্টার দূরত্বে অবস্থিত কামাকুরা একটি কোস্টাল শহর। এটি বিশেষভাবে খ্যাত বিশালাকৃতির বুদ্ধ মূর্তি, মন্দির, কুঠি, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং সার্ফিং করার চমৎকার বিচটির জন্য। কামাকুরা বিচ থেকে মাউন্ট ফুজিকে দেখতে পাবেন ভিন্ন এক রূপে।

৪. ফুজি শিবাজাকুরা ফেস্টিভাল

ফুজির শ্বাসরুদ্ধকর ফুলেল রূপ দেখতে আপনাকে যেতে হবে এই ফেস্টিভালের সিজনে। সময়টা হল এপ্রিলের শেষভাগ থেকে মে মাসের শেষ ভাগ অবধি। অবস্থান করতে পারেন ফুজি কাওয়াগুচিকো এর ফুজি মটোসুকো রিসোর্টে। এসময় ৬ একর জায়গা জুড়ে ফোটে ৮০ হাজারেরও বেশী শিবাজাকুরা ফুল। এটি এক ধরণের পাহাড়ি ফুল। হালকা ঢালু পাহাড়ের গায়ে এই ফুলের বিকাশ যেন বিছিয়ে দেওয়া রঙ্গিন চাঁদর। চমৎকার লাল, গোলাপি আর সাদা ফুলের মেলায় হারিয়ে যাবার উৎসবই ফুজি শিবাজাকুরা ফেস্টিভাল।

৫. ইনোসিমা

এটি সাগামি বে এর একটি দ্বীপ। গ্রীষ্মের সময় বীচের আবহাওয়া থাকে খুবই চমৎকার। তাই পর্যটকদের ভীড়ও হয় সে সময়। টোকিও থেকে মাত্র দেড় ঘন্টার দূরত্বে এর অবস্থান। কামাকুরার কাছেই। এই দ্বীপ নিজে একটি অনন্য সৌন্দর্য্যের ভান্ডার। তার সাথে বাড়তি পাওনা ফুজির আরেকটি ভিন্ন এঙ্গেলের রূপ।

কোথায় থাকবেনঃ

থাকার জন্যে Fujikawaguchiko এ অনেক হোটেল রয়েছে। আপনি চাইলে অনলাইনে আগে থেকেই রুম বুকিং দিয়ে যেতে পারেন। বুকিং করতে চাইলে এখানে দেখে নিতে পারেন। এছাড়া এখান থেকে আপনার পছন্দের এরিয়া সিলেক্ট করে খুঁজে নিতে পারেন আপনার পছন্দের হোটেলটি।

কিভাবে যাবেনঃ

সবথেকে সহজ এবং জনপ্রিয় উপায়টি হলো টোকিও এর Shinjuku থেকে ডিরেক্ট Keio express বাস নিয়ে নেয়া। এই বাসে যেতে আপনার ২ থেকে ২.৫ ঘন্টা সময় লাগবে এবং ¥২৬০০ গুনতে হবে যা আপনাকে Kawaguchiko এর ৫ম ষ্টেশনে নামিয়ে দিবে। প্রায় প্রতি ঘন্টায়ই Keio express এর বাস Shinjuku থেকে ছাড়ে।

View Direction