মরিশাস

Ratings
রেটিংস 0 (0 রিভিউ)

সৌন্দর্যমণ্ডিত দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসের পুরো নাম  রিপাবলিক অব মরিশাস যা আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল ঘেঁষে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত। এর রাজধানী পোর্ট লুইস এবং এখাআনকার মুদ্রা হলো মরিশাসীয় রুপি। এখানকার সৈকতে বসে কাটিয়ে দেয়া যায় অফুরন্ত সময়। প্রচণ্ড আনন্দের উৎস হতে পারে মরিশাসের ডলফিন রাইড। ডলফিনের সঙ্গে মেতে উঠতে মন চাইবে। ভ্রমণপ্রিয় মানুষের প্রথম পছন্দ মরিশাসকে (Mauritius) দুটি ভাগে ভাগ করলে মিলবে নর্থ জোন অ্যান্ড সাউথ জোন।

নর্থ জোন, মরিশাস

প্রথমেই ঘুরে দেখা যাক মরিশাসের নর্থ জোন। উত্তর-পূর্ব দিকের নর্থ জোনে শহর ছাড়িয়ে চলতি বাস এগিয়ে যাবে লা-সিটাডেল অর্থাৎ পাহাড়ের মাথায়। পাহাড়ের উপর থেকে সমুদ্রের তীরে পোর্ট লুইকে ব্যাকশিডের মতো মনে হবে। মরিশাসের মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের মন ছুঁয়ে যেতে বাধ্য। এখানে মিলবে ডাকদের ঐতিহাসিক কালো পাথরের প্রাচীন দুর্গ। দুর্গের সামনে তাক করে আছে বিশাল কামান। বলে রাখা ভালো মরিশাস কিন্তু জাহাজ তৈরির জন্য বিখ্যাত। এখানকার কাঠের তৈরি পুরনো জাহাজগুলো দেখলে মনে হবে বিখ্যাত মুভি পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান রাজ্য। রয়েছে কডান ওয়াটারফ্রন্ট লাগোয়া শপিং কমপ্লেক্সে। কেনাকাটার জন্য এর চেয়ে ভালো অপশন আর নেই। নর্থ জোনের সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়বে মানুষের জটলা। আসলে ঐ জটলাগুলো হলো স্থানীয়দের ক্রেয়োল নাচের আসর। গানের ছন্দ আর নাচের তালে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন এক মুহৃর্তের জন্য। মনে রাখবেন, মরিশাসে কিন্তু ছোট ছোট দ্বীপের অভাব নেই। বেল মেয়ার এবং সার্ফ আইল্যান্ডে ট্রাই করুন সাবমেরিন রাইড, ডিপ সি ওয়াকিং, স্কুবা সুইমিং, ইউন্ড সার্ফিং, স্কিয়িং, ইয়টিং, প্যারালেসিংয়ের মতো এক্সাইটিং ওয়াটার স্পোর্টস।

সাহস আর বাজেট, দুটো মিলে হয়ে যাবে নতুন এক অভিজ্ঞতা। আর পাশেই সমুদ্রসৈকতে সঙ্গী নারিকেল গাছের সারি প্রাণ ভরিয়ে দেবে। মনে হবে ক্যারিবীয় দ্বীপে চলে এসেছেন। সাগর জলে নীল, সবুজ, কালো রঙের মেলা আর নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। মাঝেমধ্যে চোখে পড়বে রং-বেরংয়ের পালতোলা নৌকা, ঠিক যে আঁকা ছবি। ইচ্ছে হলেই স্পিডবোট চড়ে হারিয়ে যেতে পারেন সাগরের অতল গহ্বরে।

এখানে আরও উপভোগ করতে পারবেন বালাক্লাভা অঞ্চল, সিউসাগর রামগুলাম বোটানিকাল গার্ডেন, বার্ড স্যাচুয়ারি, ঐতিহাসিক ব্লু পেনি মিউজিয়াম এবং বিখ্যাত মরিশাস অ্যাকুরিয়াম। মরিশাসের মাঝে অ্যালেকজান্দ্রা ও চেমারাল জলপ্রপাতটিও দেখার মতো। তা ছাড়া ম্যাটু দে লেবারডোনেসের কলোনিয়াম স্থাপত্যের নিদর্শন, সবুজের সমারোহ, সুন্দর সুন্দর অর্চার্ড এবং শেষে রাম টেস্টিং ট্যুর মিস করবেন না।

সাউথ জোন, মরিশাস

সাউথ ট্যুরে হারিয়ে যাবেন আরেক মোহনীয় অপলক সুন্দরের মূর্ছনায়। সমুদ্রকে ঘিরে থাকা নানা রঙের চোখ জুড়ানো কোরাল রিফ। প্রকৃতির এক অদ্ভুত সৃষ্টি। আশ্চর্য সুন্দর জিনিসের সম্ভার পর্যটকদের সেলফি আর ছবি তোলার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ।

এখানে একটি বিখ্যাত হিন্দু মন্দির রয়েছে। মন্দিরে রয়েছে পাথুরে শিবমূর্তি। মহেশ্বরনাথ শিব মন্দিরটি বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এবার ঘুরে আসুন গ্রান্ড গলফ কোর্স। গলফ কোর্সটি বিশ্ববিখ্যাত। মরিশাসের বিশাল জায়গাজুড়ে আছে এই একাধিক গলফ কোর্স। সবুজ প্রান্তরের এই খেলার মাঠে শরীর ও মন দুই-ই ভরে যাবে। তা ছাড়া মরিশাস বিলাসবহুল হোটেল, রিসোর্টগুলো ডিটক্স ও রিল্যাক্স করার জন্য আয়েশি মানুষের পারফেক্ট চয়েস।

যাদের শরীর ম্যাসাজ করানোর প্রতি আলাদা আদর রয়েছে তারা নিতে পারেন আধুনিক সায়েন্টিফিক থেরাপির সংমিশ্রণে মরিশাসের স্পা থেরাপি। সব টেনশন ক্লান্তি ভুলে হারিয়ে যান ম্যাসাজের রূপকথার রাজ্যে। সাউথ জোনের সৌন্দর্য এখানেই শেষ নয়। মরিশাসের সবচেয়ে গর্জেস ভিউ পয়েন্ট হলো প্যানোরামিক ভিউ। এই স্থানটির মোর্ন মাউন্টেইন ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে বিখ্যাত। পাহাড়টিতে রয়েছে এক্সাইটিং সব এক্সপেরিমেন্ট। স্থানীয়দের মাঝে পাহাড়টি নিয়ে রয়েছে মজার মজার গল্প। পাহাড়টি নাকি স্লেভ রুট মনুমেন্ট ক্রীতদাসদের স্মৃতি তৈরি হয়েছিল।

এখানে ব্লু সি বিচ, ফ্লিক অ্যান্ড ফ্ল্যাক ও ট্যামারিন সমুদ্র সৈকতের চার পাশজুড়ে আছে সবুজের সমাবেশ। এখানকার মার্টেলো টাওয়ার মিউজিয়াম, ক্যাসেলা ওয়াল্ডং অফ অ্যাডভেঞ্চারে ওয়াইল্ড লাইফ, পৃথিবীর সাতরঙা মাটি বেশ জনপ্রিয়।

একনজরে মরিশাসের দর্শনীয় স্থানসমূহ

লা ভিনাইল ক্রোকোডাইল পার্কঃ কুমির দেখা পেতে যেতে হবে এখানে। তাছাড়াও, সেখানে রয়েছে বিশাল আকারের বাদুড়, কচ্ছপ, বানর আর পোকামকড়ের সংগ্রহ।

ক্যামেরেল জলপ্রপাতঃ মরিশাসের সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত। উচ্চতা প্রায় ১০০ মিটার। এমন অপরূপ প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটিয়ে খুব আনন্দ পাবেন। সেখানে দেখতে পাবেন চমৎকার ‘Seven colored earth’, লাল, বাদামি, বেগুনি রঙের আস্তরণ।

জর্জ ন্যাশনাল পার্কঃ মোট ৬,৫৭৪ হেক্টর জায়গা জুড়ে রয়েছে। সেখানে হাইকিংয়ের আন্দ নিতে পারেন। ৩০০ প্রজাতিরও বেশি ফুল রয়েছে। সেই পার্কে দেখা পেতে পারেন, মরিশাসের বিলুপ্ত প্রায় পাখির গোলাপি কবুতরের।

প্যাম্পলেমোউসেস বোট্যানিক্যাল গার্ডেনঃ বোটানিক্যাল গার্ডেনটি ৬০ একর জমির উপর রয়েছে। পাম গাছ থেকে শুরু করে সেখানে রয়েছে বিশাল পদ্ম পুকুর।

গ্রান্ড বেসিনঃ অসাধারণ এই হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উঁচুতে রয়েছে। একে বলা হয়, মরিশাসের সবচেয়ে পবিত্র হিন্দু এলাকা। শিবের মন্দিরও রয়েছে সেখানে ১০৮ ফুটের শিবমূর্তি রয়েছে।

মারিয়ানা বিচঃ মরিশাসে গিয়ে অবশ্যই যেতে মারিয়ানা বিচে। সমুদ্রের নীল জল ও আশপাশের পরিবেশের শোভা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে।

চ্যাম্প দি মার্স, পোর্ট লুইঃ আপনি যদি রেস কোর্ট দেখতে চান চলে যেতে হবে চ্যাম্প দি মার্ট রেস কোর্সে। অসাধারণ অভিজ্ঞতা হবে। বহু পুরনো এই রেস কোর্টটি।

এ ছাড়াও মরিশাসের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – লা মনরো বিচ, ক্যাসেলা বার্ড পার্ক, মরিশাস একোরিয়াম, মেরিন পার্ক, সেন্ট্রাল মার্কেট, ব্ল–পেনি মিউজিয়াম, লিওন মাউন্টেইন, গ্রান্ড পোর্ট।

ভিসা

মরিশাসের ভিসা দু’ভাবে নেয়া যায়। দিল্লি থেকে বা কুয়ালালামপুর থেকে। তবে কুয়ালামপুর থেকে নিলে ভালো হয়। সেক্ষেত্রে ক’দিন মালয়েশিয়াও ঘুরতে পারবেন।

যাতায়াত

পাবলিক বাস যাত্রা আরামদায়ক এবং সস্তা। ট্যাক্সি খুব এক্সপেনসিভ। মোটরবাইক এবং কার ভাড়া পাওয়া যায় যেগুলো মোটামুটি সস্তা।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে মরিশাসের সরাসরি কোনো বিমান সার্ভিস নেই। তাই ঢাকা থেকে মরিশাস দুটি উপায়ে যাওয়া যায়। এক জেট এয়ারে দিল্লি হয়ে মরিশাস। আরেকটি এয়ার এশিয়াতে কুয়ালালামপুর হয়ে। দু’ভাবেই যেতে সময় লাগবে কম বেশি ১০ ঘণ্টা (ট্রানজিট সময় সহ)। প্লেন ফেয়ার পড়বে ৭০,০০০-১০০,০০০ টাকার মত (রাউন্ড ট্রিপ)

কোথায় থাকবেন

মরিশাসে থাকবার জন্যে অনেক হোটেল আছে। এর মধ্যে দুটো বাজেট হোটেল হলো – এল মোনাকো হোটেল, কোয়াট্রে বনস টাউন, মরিশাস এবং Les9Muses Mauritius, ট্র অক্স বীচ, মরিশাস। ভাড়া পড়বে ৫০-৬০ ডলারের মতো (সকালের নাস্তা সহ)। এছাড়াও আছে ডিলাক্স লা মেরিডিয়ান ইন মরিস, হোটেল হিলটন অ্যান্ড রিসোর্টস ইত্যাদি।

কি খাবেন

মরিশাসের ঢোল পুরি, চিলি কেক, ক্রেয়োল কারি এবং সি-ফুড, নামি-দামি বিভিন্ন মদের স্বাদ এবং ইতালীয় ও ভারতীয় খাবারে লোভ সামলানো দায়।

কেনাকাটা

পর্যটন স্বর্গ মরিশাসে পর্যটকদের কেনাকাটার কথা জিজ্ঞাসা করলে এক কথায় উত্তর দেবে পারফিউম, অয়েল অ্যান্ড কফি। তা ছাড়া বিখ্যাত বেতের শোপিস এবং হস্তশিল্পের বুনো পোশাক পেয়ে যাবেন স্থানীয় পোর্ট লুই মেন মার্কেটে।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending