চীনের প্রাচীর

Ratings
রেটিংস ( রিভিউ)

গ্রেট ওয়াল অফ চায়না বা চীনের প্রাচীর হল এক সুবিশাল মানুষের তৈরী প্রাচীর যেটি ইঁট, পাথর, কাঠ ও অন্যান্য পদার্থ দিয়ে নির্মিত। গ্রেট ওয়্যাল অফ চায়নার দৈর্ঘ্য হল ২১,১৯৬.১৮ কিলোমিটার (১৩,১৭০.৬৯ মাইল)। চীনের বিশাল প্রাচীরটি নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল আক্রমণকারীদের দূরে রাখা এবং সামরিক অনুপ্রবেশকারীদের আটকানো। এখন এটি চীনবাসীদের নিকট শ্রদ্ধাস্বরূপ, যাঁরা এই প্রাচীরটির নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন। এই প্রাচীরটি (পূর্বদিকের) হেবেই প্রদেশের শানহাইগুয়ান থেকে (পশ্চিমদিকে) গানসু প্রদেশের জিয়াউগুয়ান প্রদেশ পর্যন্ত চলে গেছে। এটি প্রাচীর, অস্ত্রাগার, সৈন্যনিবাস, আস্তাবল, প্রাচীরের ওপর আশ্রয়স্থল, দূরবীক্ষণ স্তম্ভ, ঘোড়ার গমনপথ, দূর্গ এবং গিরিপথের সমন্বয়ে গঠিত।

সৈন্যবাহিনীর মধ্যে সঠিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন সাংকেতিক টাওয়ার বা স্তম্ভ, প্রাচীর বরাবর উঁচু স্থানে বা পাহাড়ের চূড়ায় নির্মাণ করা হয়েছিল। যদি কেউ অলক্ষ্যে গুপ্তভাবে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে সেইজন্য তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করার জন্য কাঠের দরজাগুলিকে গুপ্ত ফাঁদ হিসাবে ব্যবহার করা হত।

তিনটি রাজবংশ; যেমন কিউইন্, হান্ এবং মিং-এর সময় বিভিন্ন জীবিকার মানুষজন এই বিশাল প্রাচীরটির নির্মাণে যুক্ত ছিল। এই স্থানটির সবচেয়ে সু-সংরক্ষণ ও সংস্করণ প্রাচীন মিং রাজবংশের সময়েই হয়েছিল।

১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং দ্য গ্রেট ওয়াল অফ চায়না (The great wall of china) বা চীনের বিশাল প্রাচীরের উপর দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা নিতে, সারা পৃথিবী থেকে মানুষ এই অঞ্চল পরিদর্শনে আসে। এই বিশাল প্রাচীরটি বরাবর অনেক দূরবীক্ষণ স্তম্ভ বা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে, যেগুলি এক-আধ কিলোমিটার বা কয়েক কিলোমিটার অন্তর অন্তর অবস্থিত। দূরবীক্ষণ স্তম্ভ বা পর্যবেক্ষণ টাওয়ারগুলি দুই তলা লম্বা। এই প্রাচীর বরাবর ১০,০০০টিরও বেশি দূরবীক্ষণ স্তম্ভ বা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার এবং সাংকেতিক (আলোক সঙ্কেত দেওয়ার নিমিত্ত) টাওয়ার রয়েছে।

কি কি করবেন

এই সুবিশাল প্রাচীরে আপনার ভ্রমণের সময়, আপনি নিম্নলিখিত কার্যকলাপের যে কোনটিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন :

  • মিতিয়ান্যূ কেবল্ কার রাইড।
  • বিশাল প্রাচীরটির চারপাশে পদভ্রমণ।
  • সিমতাই-তে প্যারাগ্লাইডিং।
  • দ্য গ্রেট ওয়্যাল ম্যারাথন।
  • নান্ গিরিপথ ভ্রমণ।
  • মূতিয়ান্যূ-তে স্লেজগাড়ি ভ্রমণ।

এছাড়াও আপনি কেবল্ কারের মাধ্যমে প্রাচীরটির জিনশানলিঙ্গ বিভাগ বরাবর সর্বোচ্চ শীর্ষকেন্দ্র ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও নিতে পারেন। নিকটবর্তী পর্যটন আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে ফরবিডেন্ সিটি (নিষিদ্ধ নগরী), টেম্পল অফ হেভেন্ (স্বর্গ মন্দির), সামার প্যালেস এবং ওল্ড সামার প্যালেস ইত্যাদি।

চীনের প্রাচীর ভ্রমণের সেরা সময়

চীনের প্রাচীর এর প্রাকৃতিক দৃশ্য ঋতুর সাথে পরিবর্তিত হতে থাকে। বসন্তকালে, প্রাচীরটি গাছপালা দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে ওঠে, এইসময় গাছপালাগুলি সবুজ আকার ধারণ করে এবং সমস্ত কিছুই সতেজ দেখায়। এছাড়াও এটি বিপূল পর্যটক ও জমায়েত এড়াবার জন্যও উপযুক্ত সময়, তাদের মধ্যে সাধারণত গ্রীষ্মকাল ও শরৎকালে এখানে ঘুরতে আসার ঝোঁক দেখা যায়। প্রাচীরটির পরিপূর্ণ দৃশ্য পরিদর্শনের সেরা সময় হল শীতকাল, এইসময় প্রাচীর ও পর্বতগুলি তুষারাবৃত থাকে।

চীনের প্রাচীর ভ্রমণের সময়সূচী

  • গ্রীষ্মকালে সকাল ৬ঃ৩০ টা. থেকে সন্ধ্যা ৭ঃ০০ টা. পর্যন্ত খোলা থাকে।
  • শীতকালে সকাল ৭ঃ০০ টা. থেকে সন্ধ্যা ৬ঃ০০ টা. পর্যন্ত খোলা থাকে।

টিকিট মূল্য

প্রবেশ মূল্য হল সি.এন.ওয়াই ৪৫ বা সি.এন.ওয়াই ৪০, সেটা বছরের কোন সময় তার উপর নির্ভর করছে। সেখানে কেবল কার বা পুলির (কপিকল) জন্য আলাদা ধার্যমূল্য রয়েছে।

কিভাবে যাবেন

বেইজিং বিমানবন্দর থেকে গ্রেট ওয়্যাল অফ চায়নায় পৌঁছানোর জন্য বেশ কিছু বিকল্প রয়েছে।

  • সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হবে একটি গাড়ী ভাড়া করা।
  • বেইজিং-এ এক দারুণ বাস পরিবহন সংযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান। সুতরাং আপনি বাসের মাধ্যমে ভ্রমণের বিকল্পটিও বেছে নিতে পারেন।
  • অন্য আরেকটি বিকল্প হল এয়্যারপোর্ট এক্সপ্রেস ট্রেন, যা ডোঙ্গঝিমেন পর্যন্ত যাতায়াত করে। এখান থেকে আপনি ২নং সাবওয়ে লাইন বা পাতাল রেল দ্বারা যীশুইটান স্টেশনে নেমে, ডেশেঙ্গমেন পর্যন্ত হেঁটে, ৯১৯নং বাস ধরবেন যা বাডালিং গ্রেট ওয়্যাল-এ পৌঁছে দেবে।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending